ট্যুরিজম নিয়ে আলাদা মন্ত্রণালয় চাই: রেজাউল ইকরাম
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২২, ১৬:১২
ট্যুরিজম  নিয়ে আলাদা মন্ত্রণালয় চাই: রেজাউল ইকরাম
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

বিশ্বের অন্যান্য দেশে ট্যুরিজম সেক্টরের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় আছে। আমাদের দেশে এই সেক্টরের জন্য আলাদা কোন মন্ত্রণালয় নেই। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ট্যুরিজম সেক্টরটা কোনো গুরুত্বের মধ্যেই পড়েনি। অনেকটা অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। এসব কারণে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিশ্বের কাছে তেমন পরিচিত হয়ে ওঠেনি।


বিবার্তার সাথে একান্ত আলাপকালে দেশে ট্যুরিজম সেক্টরের বর্তমান অবস্থা নিয়ে অনেকটা আক্ষেপ করে কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশ ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন-এর (বিডি ইনবাউন্ড) সভাপতি রেজাউল ইকরাম।


তিনি বলেন, এইসব সমস্যা কোনো সমস্যাই না। ট্যুরিজম সেক্টরের এই অবস্থা সম্পর্কে যদি প্রধানমন্ত্রীর কান পর্যন্ত পৌঁছানো যায় তাহলে দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে। তিনি যদি শুধু একবার এই সেক্টরের প্রতি দৃষ্টি দেন- তাহলে আর কিছু লাগবে না, এমনিতেই সব হয়ে যাবে।


রেজাউল ইকরাম, সাউথ এশিয়ান ট্যুরিজম ফেডারেশনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ও ওয়ার্ল্ড ট্রাভেলারস ক্লাব লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সেইসাথে বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ট্যুরিজ ডেভেলপমেন্ট (বিএফটিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম ফেয়ারের (বিআইটিএফ) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।



রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসভবনে বিবার্তার সাথে কথা বলেন রেজাউল ইকরাম। আলাপে উঠে আসে দেশের ট্যুরিজম সেক্টরের বিবিধ বিষয়। দীর্ঘ আলাপের চুম্বক অংশ বিবার্তার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।


বিবার্তা : আপনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের ট্যুরিজম সেক্টরে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করছেন। ট্যুরিজমে আপনার শুরুর গল্পটা জানতে চাই।


রেজাউল ইকরাম: আজকে আমরা দেশের ট্যুরিজম সেক্টরে যেসব অবকাঠামগত উন্নয়ন দেখছি এগুলো শুরু হয়েছিল আজ থেকে ৫২ বছর আগে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন দূরদর্শী পরিকল্পনার নেতা ছিলেন। ১৯৭০ সালে জাতির পিতার দূরদর্শী পরিকল্পনা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশে বেশকিছু পর্যটন কেন্দ্র, হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটন শিল্প দেখেছেন। দেশে সে অনুসারে কাজও করতে চেয়েছিলেন। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ড ঘুরে কক্সবাজারের সি-বিচকে সুইজারল্যান্ডের মতো করে বানাতে চেয়েছিলেন। দেশের পর্যটন নিয়ে তার দূরদর্শী পরিকল্পনা ছিল। আর সেজন্যই তিনি ওই সময় থেকেই অমন কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় পরে ধীরে ধীরে দেশে বেসরকারি উদ্যোগে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, বাংলো, ইকোপার্ক ও ভিলেজ রিসোর্ট তৈরি হয়।


বিবার্তা: দেশের ট্যুরিজম সেক্টরের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার বিশ্লেষণ জানতে চাই।


রেজাউল ইকরাম: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় শুনতে অনেক বড় লাগে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এই সেক্টরটা সেভাবে সম্প্রসারিত হয়নি। আমার দৃষ্টিতে এটা একটা অবহেলিত সেক্টর। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ট্যুরিজম কোনো গুরুত্বের মধ্যেই পড়েনি। বিশ্বের অন্যান্য দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বের দিক থেকে এই সেক্টরটা এক-দুইয়ের ভিতরে থাকে। ভারত, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মালেশিয়া, এসব দেশগুলোতে ট্যুরিজম যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। দুঃখজক বিষয় আমাদের দেশে এটাকে তেমনভাবে চিন্তাই করা হয় না। আজকে দেশের ট্যুরিজম সেক্টর যতটুকু এগিয়েছে, সেটি প্রাইভেট সেক্টরের যারা স্টেক হোল্ডারদের নিজস্ব উদ্যোগ ও কর্মপরিকল্পনার জন্য।


কেন অবহেলিত? এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো আমাদের দেশে এই সেক্টরের আলাদা কোনো মন্ত্রণালয় নেই। বিশ্বের অন্যান্য দেশে ট্যুরিজমের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় আছে। আমাদের দেশে সিভিল অ্যাভিয়েশন এবং ট্যুরিজম একসঙ্গে পরিচালিত হয়। একটা অ্যারোপ্লেনের যে ভাড়ার মূল্য, সেটা ট্যুরিজমের সারাবছরের বাজেটের সমান। যার জন্য ট্যুরিজম সেক্টরটা কখনও আলোকিত হয় নাই। আগে যখন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রেলওয়ে ছিল, তখন রেলওয়ে অবহেলিত ছিল। পরে যখন এটাকে আলাদা মন্ত্রণালয় করে দেয়া হয়, তখন রেলওয়ের মেগা প্রজেক্ট শুরু হয়। প্রতিদিনই সারাদেশে রেলওয়ের যোগাযোগ উন্নত হচ্ছে। একসাথে থাকলে হয়তো এটা সম্ভব হতো না। তাই ট্যুরিজম সেক্টরের জন্যও আলাদা মন্ত্রণালয় হলে এভাবে গুরুত্ব পেতো। না হওয়াতে এ সেক্টরটা একেবারে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে।



বিবার্তা: তাহলে এখন করণীয় কী হতে পারে?


রেজাউল ইকরাম: বাংলাদেশের ট্যুরিজম অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। পাশের দেশগুলোতে এ সেক্টর কীভাবে অর্থনীতির মূলশক্তি হয়ে উঠছে। ট্যুরিজম থেকে কী পরিমাণ সুফল আসতে পারে এবং দেশের গার্মেন্টস সেক্টরের মতো এটিও কীভাবে জিডিপিতে ভূমিকা রাখতে পারে- এসব বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর কান পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া দরকার। তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা। তিনি যদি এই সেক্টরে একবার দৃষ্টি দেন তাহলে আর কিছু লাগবে না। প্রধানমন্ত্রী আইটি সেক্টরে গুরুত্ব দিয়েছেন। দেশে আইটিতে অনেক দূর এগিয়েছে। সব কিছুতে এর প্রভাব লক্ষ্য করছি। বিদ্যুতে নজর দিয়েছেন। সারাদেশে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। রেলওয়ে সেক্টরে নজর দিয়েছেন, রেলওয়ে অনেক দূর এগিয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পে নজর দিয়েছেন। একইভাবে ট্যুরিজম সেক্টরে প্রধানমন্ত্রী যদি একবার নজর দেন। তাহলেই এই সেক্টরটা একেবারে বদলে যাবে। তার নজরেই এই সেক্টরের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আর কিছু লাগবে না।


বিবার্তা: দেশে ট্যুরিজম সেক্টরের জন্য যেসব অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে সেগুলো কী যথেষ্ট?


রেজাউল ইকরাম: আশার কথা হলো, ট্যুরিজম সেক্টর আগের চেয়ে একটু হলেও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। পর্যটন শিল্পের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার বেশ উন্নতি হয়েছে। পর্যটন শিল্পখাতের জন্য এটি অনেক বড় বিষয়। এই সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর মধ্যে পড়ে রেলপথ, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা, পদ্মা সেতু প্রকল্প, কর্ণফুলী টানেল, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি, জেলা পর্যায়ে বিমান বন্দর, হাইওয়ে, ইপিজেড ইত্যাদি নির্মাণ হচ্ছে। এছাড়াও ট্যুরিস্টদের নিরাপদ ভ্রমণের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশদের আগে কোন লজিস্টিক সাপোর্ট ছিল না। ছিল না কোন থাকার ব্যবস্থা। এখন সেগুলোর উন্নয়ন হচ্ছে। যেকোনো পর্যটন এলাকায় পর্যটকরা যোগাযোগ, নিরাপত্তা, পরিবেশ ইত্যাদি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এ বিষয়গুলো খেয়াল করলে পর্যটকদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়বে। ট্যুরিজম সেক্টরের যেসব অবকাঠামো তৈরি হয়েছে বা হচ্ছে সরকারের এই একটু নজর দেয়ার কারণেই আগামীতে দেশের ট্যুরিজম সেক্টরটা প্রাধান্য পাবে বলে আমার বিশ্বাস।



বিবার্তা: বাংলাদেশে পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা কেমন দেখছেন?


রেজাউল ইকরাম: সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশে
পর্যটনশিল্পের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। এ দেশের মানুষের জীবন-যাপন, আতিথেয়তা, নৈসর্গিক সৌন্দর্য যুগ যুগ ধরে বিদেশি পর্যটকদের টেনেছে। বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে সমৃদ্ধ হয়েছে দেশের অর্থনীতি। পর্যটনকে শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করায় বাংলাদেশে এ শিল্পের রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো এই শিল্পকে প্রাধান্য দিয়ে দেশীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করেছে। অথচ এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অনুযায়ী পর্যটনশিল্পের উন্নয়ন করতে পারেনি বাংলাদেশ। ট্যুরিজম এমন একটা সেক্টর যেখানে বিনিয়োগ করলে এর দ্বিগুণ উঠে আসে। যেভাবে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে, আমার বিশ্বাস আগামীতে এর সুফল আমরা পাবোই। আর যখনই সুফল আসা শুরু হবে, তখন সরকার দেখবে ভালোই তো! এ সেক্টরটা জিডিপিতে অবদান রাখছে। তখন দেশের ট্যুরিজমের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে আমার বিশ্বাস।


বিবার্তা: ট্যুরিজমের উন্নয়নে কোন দিকে বিশেষ নজর দেয়া জরুরি বলে মনে করেন?


রেজাউল ইকরাম: টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে পর্যটনশিল্পের ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সেই লক্ষ্যে ২০২৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশে ৩০ লাখ পর্যটক আসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণকল্পে অবকাঠামো উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত বিনোদন সুযোগ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পর্যটন এলাকায় হোটেল বৃদ্ধি এবং এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে পারলে ভোরের সূর্যের আলোর মতো আলোকিত হবে বাংলাদেশের পর্যটন। তবে তার জন্য বড় অংকের বাজেট দরকার। সরকারিভাবে মাত্র ৪০-৫০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ থাকে। এই অল্প টাকা দিয়ে এই সেক্টর উন্নয়ন করা সম্ভব না। আর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে পর্যটন শিল্পকে আলাদা করতে হবে। উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও পর্যটনের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় করার জোর দাবি জানাচ্ছি। যখনই এটা করা সম্ভব হবে তখনই এ সেক্টর দ্রুত উন্নত হতে শুরু করবে।


বিবার্তা: আমাদের দেশজুড়ে কক্সবাজার, সুন্দরবন ও বান্দরবানের মতো অসংখ্য দর্শনীয় ও
ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন রয়েছে। এর পরেও কেনো আমরা বিদেশি ট্যুরিস্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারছি না?


রেজাউল ইকরাম: বিদেশি ট্যুরিস্টদের প্রাকৃতিক পরিবেশে নির্মল আনন্দ দেয়া। পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য যা প্রয়োজন আমাদের দেশে সেগুলো সবই আছে। যেমন কক্সবাজার, সুন্দরবন ও বান্দরবানের মতো অসংখ্য দর্শনীয়, ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন আছে। আমাদের সমৃদ্ধ একটা সংস্কৃতি আছে। যেমন পহেলা বৈশাখ, পৌষসংক্রান্তি, একুশে ফেব্রুয়ারি এসব দিবসে অসংখ্য বিদেশি পর্যটকরা আসতে পারতো। এর জন্য একটা অর্গানাইজড ক্যাম্পেইন দরকার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক পর্যটন বিষয়ক সম্মেলন, মেলাগুলোতে অংশগ্রহণ করে দেশের পর্যটন বিষয়ে ক্যাম্পেইন করতে হবে। বিজ্ঞাপন ছাড়া কোন পণ্য বিক্রি হয় না। ব্যবসা ভাল চলে না। তেমনি আমাদের পণ্য আছে। সেটা বিশ্ববাসিকে জানাতে হবে। তাদের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে হবে। দেশে এই বিষয়গুলো দেখভাল করে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি)। কিন্তু বিষয় ওই একটাই তাদের বাজেট নাই। আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে না পারলে অন্যান্য দেশের মানুষ জানবে কী করে? না জানলে বিদেশি ট্যুরিস্টরা আসবে কীভাবে?



বিবার্তা: ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রির নিয়ে যে গবেষণা হচ্ছে, তা কি পরিমাণে যথেষ্ট?


রেজাউল ইকরাম: দেখুন, দুঃখজনক বিষয় হলো বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অধীনে এই সেক্টরের জন্য কোনো রিসার্চ সেল নেই। অথচ সারা পৃথিবীতে গবেষণা ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান বা কোন সেক্টর ডেভেলপ করতে পারেনি। আপনি তথ্য ছাড়া আগাবেন কীভাবে? আগে ছিল বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন আর এখন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি) হলো এই সেক্টরের অভিভাবক। বিটিবি'র অধীনে সরকারি পর্যায়ে গবেষণার উপর জোর দেয়া সময়ের দাবি। এটা করা উচিত। যেমন এই সেক্টরে কী পরিমাণ, হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, ইকোপার্ক আছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কী পরিমাণ রেভিনিউ আসতে পারে, সারা বছরে কত পরিমাণে ট্যুরিস্ট দেশের বাইরে যাচ্ছে, আর কতজন দেশে আসছে, এসব তথ্যগুলো নিয়মিত সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া দেশে কেনো বিদেশি ট্যুরিস্ট বেশি পরিমাণে আসছে না, কারণগুলো নিয়ে গবেষণা করতে হবে। কী করলে তাদের আনা যেতে পারে এসব বিয়ষগুলো নিয়ে মাস্টার প্লান করতে হবে। পুরো ট্যুরিজম সেক্টরের সব তথ্য যেনো সহজে ভার্চুয়ালি সবাই জানতে ও দেখতে পারে এমনভাবে সব ওয়েবসাইটে সংরক্ষণ করতে হবে। এসব দিক বিবেচনায় আমাদের দেশে সেভাবে কোন গবেষণায় করা হয়নি।


বিবার্তা: সারাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যটন নিয়ে আলাদা ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। এখানে যে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে এটাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?


রেজাউল ইকরাম: পর্যটন নিয়ে সারাদেশে ১৭-১৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। এগুলোতে শিক্ষার্থীদের শুধু থিউরিটিক্যাল শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের অধীনে অনেক আগে থেকেই একটা ইনস্টিটিউট পরিচালিত হয়ে আসছে। ওই প্রতিষ্ঠানে ট্যুরিজম প্রফেশনাল তৈরি করা হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড একটা ইনস্টিটিউট চালু করেছে। তবে শুধু পর্যটনের উপর উচ্চশিক্ষা নেয়ার জন্য দেশে কোনো বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। এরজন্য আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। ট্যুরিজম হলো প্রাকটিক্যাল বিষয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হাতে-কলমে শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা নাই। উন্নত বিশ্বের এই ধরনের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় আছে। শুধু আমাদের দেশে নেই। সরকার একটু সুনজর দিলেই এই সব কঠিন কোন বিষয় না।


বিবার্তা/গমেজ/রোমেল/জেএইচ


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com