আম্পান তাণ্ডবে পশ্চিম বঙ্গে ৭২ জনের মৃত্যু
প্রকাশ : ২১ মে ২০২০, ১৭:৪৯
আম্পান তাণ্ডবে পশ্চিম বঙ্গে ৭২ জনের মৃত্যু
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

সুপার সাইক্লোন আম্পানের তাণ্ডবে পশ্চিম বঙ্গে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে আম্পান পরবর্তী রাজ্যের পরিস্থিতি দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একের পর এক জেলা থেকে বিপর্যয়ের খবর শুনে বুধবার রাতে নবান্নে বসে দেশবাসীর কাছে সাহায্যের প্রার্থনা জানান মমতা। দক্ষিণবঙ্গে ত্রাণ ও পুনর্গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। তার সেই আর্জিতে সাড়া দিয়ে এ দিন টুইট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়ে দিলেন, গোটা দেশ পশ্চিমবঙ্গের পাশে আছে।


মোদি আরো বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে আম্পান যে ভাবে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে, সেই দৃশ্য দেখেছি। এই সঙ্কটময় মুহূর্তে গোটা দেশ পশ্চিমবঙ্গের পাশে আছে। রাজ্যের মানুষের শুভ কামনা করছি।’


তিনি আরো জানান, এই চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে সব রকম ভাবে সহযোগিতা করা হবে বাংলাকে। পরে আরো একটি টুইট করে মোদি বলেন, ‘জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ করছে। শীর্ষ আধিকারিকরা গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করতে চেষ্টার কোনো কসুর করা হবে না।’


অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও বাংলাকে সব রকম সহযোগিতার বার্তা দিয়েছেন। তিনি টুইট করে বলেন, ‘আমরা আম্পানের বিষয়টি ভাল ভাবে নজর রাখছি। ঝড়ের তাণ্ডবে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা নিয়ে উড়িশ্যা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।’


করোনার হানা এখনো সামলে উঠতে পারেনি বাংলা। তার উপর আম্পানের তাণ্ডবে কার্যত বিধ্বস্ত রাজ্য। বুধবার ‘অতি মারাত্মক’ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে বাংলায় আছড়ে পড়ে আম্পান। ঝড়ের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে যায় উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি-সহ দক্ষিবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলা।


আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘণ্টায় ১৫৫-১৬৫ কিলোমিটার গতি ছিল আমপানের। কোথাও আবার এর গতি উঠেছিল ১৮৫ কিলোমিটার।


আম্পান যে ভাবে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে বাংলার বুকে, তা নিয়ে বুধবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সব হিসেব উল্টে গেছে। কারো ভবিষ্যদ্বাণী মিলল না। পুরোটা বাংলার উপর দিয়ে গেল। করোনার জন্য অর্থনীতির অবস্থা শেষ। তার পর এই দুর্যোগ। কোনো রোজগার নেই। পুনর্গঠন করতে অনেক টাকা লাগবে।’


এর পরই তিনি বাংলার এই পরিস্থিতির জন্য দেশবাসীর কাছে সাহায্যের আর্জি জানান। সঙ্গে কেন্দ্রের কাছেও সহযোগিতা চান। বিপর্যয়ের বিবরণ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এলাকার পর এলাকা ধ্বংস। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। প্রশাসন পাঁচ লাখ মানুষকে সরাতে পেরেছে। ১৭৩৭ সালে এমন ভয়ঙ্কর ঝড় হয়েছিল। ওয়ার রুমে বসে আছি আমি। নবান্নে আমার অফিস কাঁপছে। একটা কঠিন পরিস্থিতির যুদ্ধকালীন মোকাবিলা করলাম।’ সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা


বিবার্তা/জাহিদ

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com