ডেঙ্গু জ্বর সেরে গেলে যা করবেন
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ০৯:০২
ডেঙ্গু জ্বর সেরে গেলে যা করবেন
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

দেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রবণতা মহামারী আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তির রেকর্ড ভাঙছে। এবার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শুধু হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছেন প্রায় ২৫ হাজার রোগী।


রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া যেমন কখনো প্রখর রোদ। আবার কখনো থেমে থেমে বৃষ্টি। এতে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার জন্ম বেশি হচ্ছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু মশা নির্মূলেনানা সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। হাসপাতলে ডেঙ্গু সন্দেহে জ্বর নিয়ে প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু ভিড় করছে।


চিকিৎসকরা বলছেন, এবার যাদের ডেঙ্গু হচ্ছে তাদের মধ্যে জ্বর খুব একটা বেশি উঠছে না। আবার উঠলেও দুই-তিন দিনের মধ্যেই নেমে যাচ্ছে। আর ডেঙ্গুর প্রবণতাও আগের বছরগুলোর মতো নয়, এমনকি লক্ষণও ভিন্ন।


কারণ হিসেবে তারা বলছেন, আগে এডিস মশা কামড়ালে প্রচণ্ড জ্বর হতো। কিন্তু এবার অনেক ক্ষেত্রেই তাপমাত্রা খুব বেশি হতে দেখা যাচ্ছে না। এবার যা হচ্ছে ‘শকড সিনড্রোম’। এ কারণে এবার অল্প জ্বর হলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর ইসলাম বলছেন, তিন-চার দিনে জ্বর কমে আসার পরই মূলত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর জটিলতা বেশি দেখা যাচ্ছে।


তিনি বলেন, রক্তের উপাদান কমে যাওয়া কিংবা রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা জ্বর চলে যাওয়ার পরই দেখা যায়। অনেকে মনে করেন জ্বর কমে গেলে আশঙ্কা থাকবে না। আসলে কিন্তু তা নয়। জ্বর কমে গেলেও চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো ব্যবস্থা নিতে হবে।


তানভীর ইসলাম বলেন, যেসব জটিলতা সাধারণত দেখা যায় তা হলো- রক্তের ভেতরের তরল অংশ বের হয়ে আসা, রক্ত ঘন হয়ে যাওয়া কিংবা রক্তের প্রেসার কমে যাওয়া। এর চিকিৎসা একটাই স্যালাইন নেয়া বা প্রয়োজনে শিরায় স্যালাইন দেয়া।


তবে রক্তের প্লাটিলেট নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্লাটিলেট অতিমাত্রায় কমে না গেলে এ নিয়ে ব্যবস্থাও নিতে হয় না। প্লাজমা লিকেজ বা রক্তের তরল অংশ কমে যাওয়ার কারণে সমস্যা হয়। তাই প্রয়োজনীয় স্যালাইন দেয়ার পাশাপাশি ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, লেবুর শরবত এসব প্রচুর পরিমাণে খাওয়াতে হবে, যাতে প্রেসার কমে রোগী শক সিনড্রোম পর্যন্ত না যায়।


আর এটুকু করা গেলেই ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। চিকিৎসক রাজীব কুমার সাহা বলেন, তরল খাবার ঠিকমতো খেলে ডেঙ্গু নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। জ্বর চলে গেলে রোগীকে সচেতনভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চলতে হবে।


ডা. তানভীর ইসলাম বলছেন, এ রকম কোনো সম্ভাবনা নেই। জ্বর চলে গেলে ভাইরাসটিও আস্তে আস্তে বিদায় নিতে থাকে। যেটুকু সময় জ্বর থাকে শুধু সে সময়টুকুই ভাইরাসটা সচল থাকে। এরপর অ্যান্টিবডি তৈরি হলে ভাইরাসটা আর থাকার সুযোগ নেই। অর্থাৎ আক্রান্ত রোগীর রক্তের প্লাটিলেট কাউন্ট উন্নত হলে ভাইরাস আর থাকে না।


ডা. রাজীব কুমার সাহা বলছেন, রোগী সচেতন হলেই ঝুঁকি এড়ানো যায়। কিন্তু বিলম্ব হলে ঝুঁকি তৈরি হয়। মোটকথা জ্বর চলে গেলই যে ভালো হয়ে গেলেন তা নয়। পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খেতে হবে।


স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন ১৮ জন। চিকিৎসা নিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৭ হাজার ৩৮৮ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি সাত হাজার ৩৯৮ জন।


গত একদিনে সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৮৭০ জন অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন ৭৮ জন ডেঙ্গু রোগী।



বিবার্তা/রবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com