ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে জাতির পিতার ছবি সম্বলিত ব্যানার ছিড়ে ফেললেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা!
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২২, ২১:২৯
ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে জাতির পিতার ছবি সম্বলিত ব্যানার ছিড়ে ফেললেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা!
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

শোকের মাসে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত ব্যানার, পোস্টার ছিড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বেশ কিছু রাজনৈতিক ব্যানারও অগোচরে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন ছাত্রলীগ নেতারা।


ছাত্রলীগ নেতাদের দাবি, মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের নামে ছাত্রলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য একটি গোষ্ঠী এধরণের ঘৃণিত তৎপরতা চালাচ্ছে। এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজের জন্য বিএনপি-জামায়াত সমর্থনকারী সংশ্লিষ্টরাই দায়ী বলে মনে করছেন তারা। ছাত্রলীগ নেতাদের অভিযোগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ (ইচিপ) এর পদে থাকা ডাক্তারদেরকে ব্যবহার করে কাজটি করানো হয়েছে।


ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, ২ আগস্ট, মঙ্গলবার সকালে কলেজ ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত ব্যানার পোস্টার ছিড়ে ফেলা হয়। এ নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষের নিকট মৌখিক অভিযোগ দেয়া হয়। সকালে সংঘটিত এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের পরিচালকের কাছে এ ঘটনায় ডা. তানভীর আরেফিন এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করেন। তাদের দাবি, তার উস্কানিতে ইন্টার্ন ডাক্তাররা কাজটি করেছেন।



এ ঘটনার পরবর্তীতে হাসপাতালের পরিচালক নিজে দায়িত্ব নিয়ে বিষয়টি সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলে শাখার ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা ক্লাসে ফিরে যান। পরে বেলা ২টার দিকে ছাত্রলীগের কর্মীদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে আবারো ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কলেজ ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণের ছাত্রলীগের সকল ব্যানার নামিয়ে ফেলেন। বিবার্তার হাতে আসা সেদিনের ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক ব্যানার, ফেস্টুন খুলছেন। আর তাদের পাশে দাঁড়িয়ে কয়েকজন নির্দেশনা দিচ্ছেন। জানা গেছে, এ ঘটনায় জড়িত রয়েছেন সিফাত রুম্মন, দীপ্ত সাহা, সালমান আজিম, জামান, আদনান, জুবায়ের ও সজিব শুভ্র। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তারা সকলেই হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক।


এ বিষয়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ (ইচিপ) সাধারণ সম্পাদক দীপ্ত সাহাকে গেলো রবিবার ও সোমবার একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।


অভিযোগের বিষয়ে ডা. তানভীর আরেফিনকে কল করা হলে পরিচয় জানতে চান। তাকে সাংবাদিক পরিচয় দিতেই তিনি কলটি কেটে দেন। পরে আবারো কল করা হলেও তা রিসিভ করেননি।


এদিকে শাখা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে গভর্নিং বডির সদস্যদের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে ছাত্রলীগ তাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। এ বিষয়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি কৌশিক দে বিবার্তাকে বলেন, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছিড়ে ফেলার দৃষ্টতা যারা দেখিয়েছে আমি মনে করি তারা জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট এবং জামায়াত শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য আওয়ামী লীগের লেবাস পড়ে আছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা কখনোই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করতে পারে না। আমি এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।



কৌশিক দে আরো বলেন, অধ্যক্ষ স্যারের প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরও দ্বিতীয় দফা ব্যানার, পোস্টার ছিড়ে ফেলা হয়। এ ধরণের আচরণ খুবই ন্যাক্কারজনক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের নামে ছাত্রলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য একটি গোষ্ঠী এধরণের ঘৃণিত তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।


ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ্ তানভির হাসান নাবিল বিবার্তাকে বলেন, আমার ব্যক্তিগত ছবি ছিড়ে ফেললে আমি কষ্ট পেতাম না। আমার আবেগের জায়গা, বাঙালি জাতির আশ্রয়ের শেষ আশ্রয়স্থল, দেশরত্ন শেখ হাসিনা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন যখন ছিড়ে ফেলা হয়, তখন আমি চুপ করে বসে থাকতে পারি না। আমি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং এই নব্য রাজাকারদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি করছি।


সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান কল্লোল বিবার্তাকে বলেন, আমাকে কেউ মৌখিক বা লিখিত কোনো অভিযোগ করেনি। পোস্টার-ব্যানার ছেড়ার ব্যাপারে শুনেছি। ব্যানার-ফেস্টুনে ব্যক্তিগত ছবি ছিলো। বঙ্গবন্ধু বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো ছবির ফেস্টুন খোলা হয়নি। আমার ধারণা নতুন বর্ষ আসলে আধিপত্য দেখানো থেকে এটা হয়েছে।


ইন্টার্ন ডাক্তারদের ব্যানার-ফেস্টুন নামানো ও ছেড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যানার-ফেস্টুন নামানো প্রশাসনের কাজ। যদি কারো ব্যানার-ফেস্টুন নামাতে হয় তাহলে প্রশাসন আছে। এটি একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ। এখানে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষেধ। কারণ আমাদের ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী বিদেশ থেকে আসে। আমাদের ভাবমূর্তি আছে। দেশের সব বেসরকারি মেডিকেল কলেজে রাজনীতি নিষিদ্ধ। কেউ কারো অপরাধের ব্যাপার জানালে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



এ বিষয়ে ৪২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সেলিম বিবার্তাকে বলেন, শুনেছি ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে ছাত্রলীগের ঝামেলা হয়েছে। আমাদের এখানে দেশি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনা করে। একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তো এভাবে চলতে পারে না। এগুলোর সুরাহা হওয়া দরকার।


ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইফ্ফাত ওয়ালীদ বিবার্তাকে বলেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণের সবগুলো ব্যানার, ফেস্টুন খোলার জন্য প্রশাসনিকভাবে বলা হয়েছে। অনেকে ঈদের শুভেচ্ছা, শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেস্টুন লাগিয়েছিলেন। এসব ব্যানার, ফেস্টুনে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছিলো। সবগুলো ফেস্টুন খোলা হয়েছে।


ব্যানার, ফেস্টুন খোলার কাজ ইন্টার্ন ডাক্তারদের কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, একই দল তাদের নিজেদের ভেতরে একটু সমস্যা হয়েছে। এটা এমন কিছু না। চেয়ারম্যান মহোদয় সমাধানও করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন পরবর্তীতে বাকি পদক্ষেপ উনি এসে নিবেন।


বিবার্তা/সোহেল/রোমেল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com