২০০ কোটি ডলার ঋণের আশা মুহিতের
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:৪৭
২০০ কোটি ডলার ঋণের আশা মুহিতের
আবুল কাশেম, বালি, ইন্দোনেশিয়া থেকে
প্রিন্ট অ-অ+

বিশ্বব্যাংকের চলতি আইডিএ স্কিমে আগামী অর্থবছরের জন্য আরো ২০০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ।


বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ার বালিতে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট হারতিগ সেফারের সাথে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ৪৫০ কোটি টাকার বাড়তি ঋণ সুবিধা চাইলেও বৈঠকের পর তিনি বিবার্তাকে বলেছেন, ২০০ কোটি ডলার পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বব্যাংকের অনুদান বাড়ানোরও প্রস্তাব করেছেন তিনি।


ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন নগরী বালিতে চলমান আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সম্মেলনে চলছে। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল যোগ দিয়েছে। পাঁচ দিনের সম্মেলনে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি আলাদা বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় বাংলাদেশ থেকে সম্মেলনে যোগ দেয়া সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মুহিত। সেখানে তিনি বিশ্বব্যাংক থেকে নতুন করে ২০০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার আশার কথা জানান।


এসময় বিশ্ববাংকে বাংলাদেশে বিকল্প পরিচালক মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা, ইআরডির সিনিয়র সচিব শফিকুল আযম, ভারপ্রাপ্ত অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার ও জাকার্তার বাংলাদেশ দূতাবাসের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রথমে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের নির্বাহী পরিচালকদের সাথে বৈঠক হয়েছে। তাদেরকে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা যে ভবিষ্যতের সমস্যা, তা বোঝানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য ঋণ নয়, দাতা সংস্থাগুলোকে অনুদান নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ বার্তা তাদের জানানো হয়েছে। যদিও এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের কিছু সমস্যা আছে। কিন্তু সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের পক্ষে।


বৃহস্পতিবার সকালে ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী মুলিয়ানি ইন্দ্রায়াতির সাথে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। ওই বৈঠকে বিশ্বব্যাংক যাতে রোহিঙ্গাদের জন্য অনুদান দেয় সে বিষয়ে বিশ্বব্যাংককে বোঝানোর অনুরোধ করেছেন মুহিত। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী বলেন, ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। বর্তমানে যে ডেভেলপমেন্ট কমিটি রয়েছে তার চেয়ারম্যান। ফলে ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রীর বিশ্বব্যাংকে প্রভাব রয়েছে। এজন্য রোহিঙ্গাদের জন্য অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে তার (ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী) সাহায্য চাওয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় ৫০ কোটি ডলার রফতানি করে। আর আমদানি করে ৯০ কোটি ডলার। বাংলাদেশের রফতানি বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করার অনুরোধ জানানো হয়েছে দ্বীপ রাষ্ট্রটির অর্থমন্ত্রীকে।


বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট এর সাথেও বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে মুহিত বলেন, এ বৈঠককে ঢাকা মিটিংয়ের ফলোআপ বলা যেতে পারে। কারণ তিনি (বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট) সম্প্রতি ঢাকা সফর করেছেন। তবে তাকে এও বলা হয়েছে যে, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে গ্যাপ কান্ট্রি ( আইডিএ ঋণ ও বিশ্বব্যাংকের বাজার ভিত্তিক ঋণের মধ্যবর্তী অবস্থা) হিসেবে রেখেছে। কিন্তু বাংলাদেশকে যাতে কম সুদে বেশি ঋণ দেওয়া হয়। এ প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক বেশি সময় ধরে পরিশোধ করা যায় এমন ঋণের কথা বলেছে।


মুহিত বলেন, পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের কাছে আরও আইডিএর চলতি স্কীমে আরও ঋণ চাওয়া হয়েছে। কারণ ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে শুরু হওয়া স্কীমে ৪৫০ কোটি ডলার বরাদ্দ ছিল বাংলাদেশের জন্য। বাংলাদেশ দুই অর্থবছরেই তা খরচ করে ফেলেছে। এজন্য আগামী অর্থবছরে যাতে আরও ৪৫০ কোটি ডলার দেয় বাংলাদেশ সে প্রস্তাব করেছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আশা করছি ২০০ কোটি ডলার পাওয়া যাবে। আফ্রিকার অনেক দেশে ঋণের অর্থ খরচ হয় না, সেখান থেকে ফেরত এনে বাংলাদেশকে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে।


আইএমএফের সাথে বৈঠক প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ নিয়ে আইএমএফের উদ্বেগ রয়েছে। সরকার খেলাপি ঋণ বিষয়ে একটা বিবৃতি (স্টেটমেন্ট) দেবে। তবে সেটা সরকারের মেয়াদের শেষে। আর ব্যাংকিং খাত নিয়ে কিছু সুপারিশ থাকবে সেটা নতুন সরকার বাস্তবায়ন করবে।


বিশ্বব্যাংকের সহযোগি প্রতিষ্ঠান মাল্টিন্যাশনাল ইন্সুরেন্স গ্যারান্টি অথরিটি(মিগা) যাতে সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) প্রকল্পে অংশ নেয় সে প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ। অর্থমন্ত্রী বলেন, এতদিন মিগা জ্বালানি খাতে বেশি গ্যারান্টি দিত, এখন তারা পিপিপিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।


কমনওয়েলথের অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে মুহিত বাংলাদেশ থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সেবা নেয়ার জন্য ছোট দেশগুলোর কাছে প্রস্তাব করেছেন।


বিশ্বব্যাংকের আরেক সহযোগি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে আইএফসি বিনিয়োগ বাড়াবে। বর্তমানে সংস্থাটি বছওে ৬০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে। আগামীতে প্রতিবছর ১০০ কোটি ডলার পরিকল্পনা নিয়েছে। এজন্য আইএফসি ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত করা বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সময়ক্ষেপন কমানোর প্রস্তাব করেছে। অর্থমন্ত্রী আইএফসির কাছে ঢাকার গণপরিবহণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে নিউইয়র্কের আদলে মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট অর্থরিটি গঠনে সহায়তা চেয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সরকারের আগে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।


বিবার্তা/কাশেম/কাফী


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com