না ফেরার দেশে বরেণ্য অধ্যাপক ড. অজয় রায়
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:১৯
না ফেরার দেশে বরেণ্য অধ্যাপক ড. অজয় রায়
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

নানা ফেরার দেশে চলে গেছেন পদার্থ বিজ্ঞানের বরেণ্য অধ্যাপক ড. অজয় রায়।


সোমবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অজয় রায়ের বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।


বারডেম হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদুল হক মল্লিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ২৫ নভেম্বর থেকে অজয় রায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।


শিক্ষা আন্দোলন মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. অজয় রায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাতাদেরও একজন। সর্বশেষ তিনি নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা ছিলেন।


২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা শেষে জঙ্গিদের হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায়ের বাবা অজয় রায়। সেদিন উগ্রবাদীদের হামলার শিকার হয়ে হাতের আঙুল হারান অভিজিতের স্ত্রী ব্লগার রাফিদা আহমেদ বন্যাও। গত ২৮ অক্টোবর আদালতে গিয়ে ছেলে হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন তিনি। ছেলে হত্যার বিচারের জন্য তার আকুতি থাকলেও মৃত্যুর আগে তা দেখে যেতে পারলেন না প্রতিথযশা এই অধ্যাপক।


অধ্যাপক অজয় রায় ১৯৩৫ সালের ১ মার্চ দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুল ও কলেজজীবন দিনাজপুরে কাটানোর পর ১৯৫৭ সালে এসএসসি পাস করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে যোগ দেন। এরপর ১৯৫৯ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা করেন। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের লিডস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ও পরের বছর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট ডক্টরেট সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৬৭ সালে শিক্ষক হিসাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের যোগ দেন। অবসর নেয়ার আগ পর্যন্ত সেখানেই কর্মরত ছিলেন তিনি।


১৯৭১ সালের ২৫ মার্চে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী নৃশংস গণহত্যা শুরু করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসস্থল ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। প্রাথমিকভাবে কুমিল্লার সোনামুড়া বর্ডারে যুদ্ধের ট্রেনিং গ্রহণ করেন তিনি এবং একাধিক অপারেশনে অংশ নেন। তিনি পরবর্তীকালে আগরতলা হয়ে কলকাতায় যান। সেখানে তিনি মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা সেলের সাম্মানিক সদস্য হিসবে নিয়োজিত ছিলেন। অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের উত্তরসূরী হিসবে একাত্তরের মে মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে তিনি বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেন এবং বাংলাদেশ থেকে আগত শিক্ষকদের মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।


অধ্যাপক অজয় রায় অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধও করেছেন। মনেপ্রাণে তিনি একটি ধর্মনিরপেক্ষ মুক্তচিন্তার রাষ্ট্র চেয়েছেন। পেশাগত জীবনে তিনি সবসময়ই বিজ্ঞানভিত্তিক মানবতাবাদী শিক্ষার পক্ষে কথা বলেছেন।


বিবার্তা/রাসেল/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com