আবরার হত্যা: জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:০৮
আবরার হত্যা: জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে নিপীড়নবিরোধী অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।


বুধবার (৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে তারা আবরার হত্যার প্রতিবাদ ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।


প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২য় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আমরা ক্ষুব্ধ, ব্যথিত ও মর্মাহত। এই হত্যাকাণ্ড নির্মম ও পৈশাচিক। আমরা আবরারের হত্যাকারীদের দ্রুততম সময়ে বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।


প্রতিবাদ সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পারি না। তারপরেও আমরা চুপ করে থাকি। কিন্তু যারা নিরাপত্তা দেয়ার কাজে জড়িত তারা কেন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেন না ? তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে কি শিক্ষার্থীদের কথা ভুলে যান? এভাবে আর চলতে পারে না। অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ায় বারবার এসব ঘটনা ঘটছে। শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের একযোগে এসব ঘটনার প্রতিবাদ করার আহবান জানান তিনি।



জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ বলেন, গণ তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। আর এ কমিশনের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।


ছাত্র রাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতি নয়, সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। নীরবতা না ভাঙলে আমাদের কারো নিরাপত্তা থাকবে না।


অভিভাবক রাফিজা শাহীন বলেন, আবরারের রক্ত আমাদের সব অভিভাবকদের উপর দিয়ে ক্ষরণ হচ্ছে। আমরা অভিভাবকরা আজকে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।


প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি এসব বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার করুন। অন্যথায়, সব মায়েরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।



জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, আবরার কি রাজনীতি করতো, না করতো সেসব আলোচনার বিষয় নয়। একজন মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, সেটাই আলোচনার বিষয়।


শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানতুল্য সন্তানদের যদি রক্ষা করতে না পারেন, তাহলে কোন অধিকারে আপনারা প্রভোস্ট, উপাচার্য পদে বহাল থাকেন?


আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ছাত্ররা নিজেদের স্বার্থে রাজনীতি না করে, দলীয় লেজুড়ভিত্তি করায় এসব ঘটনা বারবার ঘটছে। সত্যিকারের ছাত্ররাজনীতি ফিরিয়ে আনতে হবে।


সাংবাদিক অনুপম দেবাশীষ বলেন, আজকে শুধু আবরারের মাকে কাঁদানো হয়নি, সারাদেশের সকল মাকে কাঁদানো হয়েছে। এর অভিশাপ বৃথা যেতে পারে না। আমরা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।



ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ায় তাদের এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না। ছাত্র সমাজকে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে বাধ্য করে এসবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।


প্রতিবাদ সমাবেশে সংহতি জানিয়ে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, প্রগতিশীল ছাত্রজোট, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। এছাড়া এতে অংশগ্রহণ করেন ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তানজীম উদ্দিন খান, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এমএম আকাশ, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।


উল্লেখ্য, রবিবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওইদিন মধ্যরাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আর এ হত্যার ঘটনায় বুয়েটসহ সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় বইছে।


বিবার্তা/রাসেল/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com