জাবিতে উন্নয়নপ্রকল্পে দুর্নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ২২:৫১
জাবিতে উন্নয়নপ্রকল্পে দুর্নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল
জাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ।


রবিবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অনুষদ প্রদক্ষিণ করে কলা ও মানবিক অনুষদের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।


এসময় উপস্থিত কর্মীদের, ছিঃ ছিঃ প্রশাসন, টাকার জন্য মরণপণ; হল চাই হল হবে, প্রকৃতি রক্ষাও করতে হবে; এক সাথে চার হল, ঘুম হবে কেমনে বল ইত্যাদি শ্লোগান দিতে শোনা যায়।


অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি আবাসিক হল নির্মাণের কাজে অস্বচ্ছতা, অপরিকল্পনা ও লুটপাটের প্রতিবাদ জানিয়ে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রাইয়ান রাইন বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উন্নয়নকে বাণিজ্যে রূপান্তরিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি ব্যবসা ক্ষেত্রে পরিণত করেছে। লোক দেখানো নামমাত্র পর্যবেক্ষণ কমিটি করা হয়েছে। কিন্তু নিজেরা গাছকাঁটা, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ ও লুটপাট চালাচ্ছে। আমাদেরকে এই মুহূর্তে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলার বিকল্প নাই।


সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার বলেন, এই মহাপরিকল্পনার গোঁড়ায় গলদ রয়েছে। প্রয়োজনের খাতিরে যেমন সংবিধান পরিবর্তন হয়েছে তেমনিভাবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে মহাপরিকল্পনা সংশোধন করা সম্ভব। তা না হলে বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার দিকে ধাবিত হবে।


জাবি সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, মাথা খারাপ হলে যেমন শরীর চলতে পারে না তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক উপাচার্যের ও মাথা খারাপ হয়েছে। স্বয়ং তিনি লুটপাটের সাথে জড়িত। আমরা অপরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের উন্নয়নবিরোধী আখ্যা দিয়েছে। আমরা উন্নয়ন চাই তবে তা অবশ্যই হতে হবে পরিকল্পনা মাফিক। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে লুটপাটের রাজত্ব চলছে তাতে কখনই উন্নয়ন সম্ভব নয়।


প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ 'অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প' শিরোনামে সরকারের কাছ থেকে ৩ বছর মেয়াদী প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৪৪৫ কোটি টাকার একটি বাজেট বরাদ্দ পায়। এর প্রথম কিস্তি অংশ হিসেবে মেয়েদের ৩টি ও ছেলেদের ৩টি হল নির্মাণের জন্য তিনশো কোটি টাকা বিগত অর্থবছরে ছাড় করানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই বাজেটে বরাদ্দের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অস্বচ্ছতা, অগণতান্ত্রিক তথা স্বৈরাচারী আচরণ ও কর্মপ্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।


বিবার্তা/শিহাব/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com