একুশের চেতনা, একুশের শিক্ষা
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২২:৫৫
একুশের চেতনা, একুশের শিক্ষা
প্রিন্ট অ-অ+

বছর ঘুরে আবার আমাদের দ্বারে এসেছে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। জাতির জীবনে চিরভাস্বর একটি দিন আজ। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রাখতে গিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন রফিক, সালাম, বরকত, সফিউর, জব্বাররা। তাঁদের রক্তে উপেক্ষা ও অমর্যাদার শৃঙ্খল ছিন্নভিন্ন করেছিল বাংলা; আমাদের মায়ের ভাষা, মুখের ভাষা।


আমাদের স্বাধীন ও স্বতন্ত্র জাতিসত্তা বিকাশের যে সংগ্রামের সূচনা সেদিন ঘটেছিল, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় পথ বেয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে তা চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। একুশে ফেব্রুয়ারি তাই আমাদের অবিনশ্বর প্রেরণার প্রতীক।


'একুশে মানে মাথা নত না করা’- চিরকালের এ শ্লোগান তাই আজও সমহিমায় ভাস্বর। একুশে মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, যাবতীয় গোঁড়ামি আর সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে শুভবোধের দৃপ্ত অঙ্গীকার।


শোক, বেদনা ও আত্মত্যাগের মিশ্র অনুভূতিতে দেদীপ্যমান ভাষা আন্দোলনের সেই শপথ যুগে যুগে মহান মুক্তিযুদ্ধে, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আলোকবর্তিকার মতো মূর্ত হয়ে ওঠে। এখনো জাতির যে কোনো ক্রান্তিকালে ভাষা আন্দোলন ও তার অম্লান স্মৃতিবাহী শহীদ মিনার আমাদের প্রেরণা যোগায়।


কিন্তু আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, এই বিরল গৌরবের মর্যাদা আমরা দিতে পারছি না। আমাদের নতুন প্রজন্মের একাংশ বেদনাদায়কভাবে নিজেদের সঁপে দিচ্ছে বিজাতীয় সংস্কৃতিতে। ভিনদেশী আকাশসংস্কৃতি গ্রাস করছে আমাদের নতুন প্রজন্মকে। বাংলা ভাষাকে করা হচ্ছে বিকৃত। কি ব্যক্তিজীবন, কি রাষ্ট্রীয় কিংবা প্রশাসনিক, সর্বক্ষেত্রেই মাতৃভাষা বাংলার প্রতি একশ্রেণীর মানুষের অবহেলা প্রকটভাবে চোখে পড়ে।


আমরা মনে করি, এ অনাচার ঠেকাতে আমাদের শিক্ষা-সংস্কৃতিসহ সকল শুভধারার বিকাশ ঘটাতে হবে। একুশের চেতনাকে কাজে লাগাতে হবে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশেও। মোটের ওপর, একুশের চেতনার প্রতিফলন ঘটাতে হবে আমাদের জীবনের সকল ক্ষেত্রেই। তবেই সম্ভব হবে একটি সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া, যা হাজার বছর ধরে বাঙালির স্বপ্ন ছিল।


আমাদের মনে রাখতে হবে, শুধু আবেগ ও ভালোবাসা নয়, বরং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা আর তাকে যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব। তাহলেই আমরা জাতীয় জীবনে একুশের চেতনা প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে জাতি গঠন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে পারব। দেশের স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার জন্য এখনো আমাদের অনেক কাজ করা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনার প্রচার ও প্রসারঙ্গবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com