‘মাইন্ড এইড' হাসপাতালের চিকিৎসক মামুন রিমান্ডে
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২০, ১৪:৫০
‘মাইন্ড এইড' হাসপাতালের চিকিৎসক মামুন রিমান্ডে
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনিসুল করিমকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রাজধানীর আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের দুই দিনের রিমান্ডের মঞ্জুর করেছেন আদালত।


মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার।


এর আগে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. ফারুক মোল্লা তার দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সোহেল রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের প্রার্থনা করেন। এরপর আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


এর আগে এএসপি শিপন হত্যা মামলায় আদালতে দেয়া আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের নাম উঠে আসার পর মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) তাকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও বিভাগ পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ।


তিনি বলেন, সিনিয়র এএসপি শিপন হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলার এফআইআরভুক্ত ১৫ জনের মধ্যে আমরা ১২ জনকে গ্রেফতার করেছি। গ্রেফতার ১২ জনের মধ্যে চারজন ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।এসপি শিপন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, কারা ইন্ধন দিয়েছে এবং কাজের যোগসাজশে শিপন হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, কারা সরকারি মানসিক হাসপাতাল থেকে মাইন্ড হাসপাতালে এএসপি শিপনকে নিয়ে গেছে সবকিছু উঠে এসেছে ওই চারজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে।


তিনি আরো বলেন, তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে উঠে আসে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের নাম। আজ সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পথে তাকে গ্রেফতার করে আদাবর থানা পুলিশ।


ডিসি হারুন অর রশিদ বলেন, গ্রেফতার আব্দুল্লাহ আল মামুন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার। এই ডাক্তার মামুনই প্রথম ব্যক্তি যার অধীনে সিনিয়র এএসপি শিপন চিকিৎসার জন্য মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সিনিয়র এএসপি শিপনকে বেডে শিফ্ট করা, চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ কোনো উদ্যোগ না নিয়ে বসিয়ে রাখেন। পরে একটা বেডে তাকে শুইয়ে দিয়ে ইনজেকশন পুশ করেন। এএসপি শিপন ঘুমিয়ে যাওয়ার পর তিনি ফোন করেন মাইন্ড এইড হাসপাতালে। তার এখানে চিকিৎসা হবে না মর্মে ওই মাইন্ড হাসপাতালে প্রেরণের কথা বলেন।


১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়া আসামি মাইন্ড হাসপাতালের ম্যানেজার আদালতে উল্লেখ করেছেন, সরকারি মানসিক হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুনই তাকে প্রথমে ফোন করেন বলেন, আমি একটা রোগী পাঠাচ্ছি। আর এসপি শিপন ওই হাসপাতালে যাওয়ার পর আর দশজনের মারধরে হত্যার শিকার হন।


গ্রেফতারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ২৪ ঘণ্টা জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তার থাকার কথা থাকলেও তিনি মূলত বেসরকারি তিনটি হাসপাতালে পার্টটাইম জব করেন, রোগী দেখেন। তা হলো টাঙ্গাইলের ঢাকা ক্লিনিক, এইড ওয়েল ও আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতাল।


ডিসি হারুন বলেন, আদাবরের ওই হাসপাতালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কিংবা স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোনো অনুমোদন নেই। এমন একটি হাসপাতালে তিনি কীভাবে চিকিৎসা করান তা জানতে চাইলে তিনি পুলিশকে জানান অন্যরা যেভাবে করেন তিনিও সেভাবে করেন। সরকারি হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ও চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও কেন তিনি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী স্থানান্তর করলেন- এমন প্রশ্নের কোনো জবাব তিনি পুলিশকে দিতে পারেননি।


ডিসি হারুন আরো বলেন, মারা যাওয়ার সংবাদ পাওয়ার পর ডা. মামুন ছুটে যান ওই হাসপাতালে। নিজের দায় এড়ানোর জন্য মৃত্যুর সংবাদ জেনেও এএসপি শিপনকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে পাঠান। আমরা জেনেছি, মাইন্ড এইড হাসপাতালে দালাল রোগী পাঠালে কমিশন পান ১০ শতাংশ। তবে তিনি পান ৩০ শতাংশ। ডা. মামুনের এ ধরনের অপতৎপরতা শুধু চিকিৎসার নামে প্রতারণা নয়, শিপন হত্যাকাণ্ডে তার দায় কোনোভাবে তিনি এড়াতে পারেন না। এ জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


বিবার্তা/জহির/আবদাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com