শূন্য থেকে মনোয়ার ইকবালের প্রাইডসিস আইটির স্বপ্নযাত্রা
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২২, ১০:১১
শূন্য থেকে মনোয়ার ইকবালের প্রাইডসিস আইটির স্বপ্নযাত্রা
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

জীবন নিয়ে সবারই স্বপ্ন থাকে। কারো স্বপ্ন থাকে পড়াশোনা করে সরকারি বড় চাকুরে হওয়ার। কারো ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করার। কারো বা পাইলট হয়ে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করার। আবার কারো স্বপ্ন থাকে কিছু উদ্ভাবন করে সমাজে আলাদা একটা সম্মানজনক পরিচয় তৈরি করার।



অন্যপাঁচটা সাধারণ তরুণের মতো তারও একটা স্বপ্ন ছিল। তিনি এমন কিছু করবেন, যে উদ্ভাবন মানুষের কাজে ব্যবহৃত হবে। সময়ের পালা-বদলে নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা, অদম্য চেষ্টা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে সেটা তিনি তৈরি করেছেন। সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে এমন একটা ইআরপি সলিউশন উদ্ভাবন করেছেন, যেটি দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বিদেশি সফটওয়্যারকে টেক্কা দিতে সক্ষম। দেশের পোশাক শিল্পের ২৪টি গ্রুপ অব কোম্পানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সলিউশনটি ব্যবহৃত হচ্ছে।



বলছিলাম দেশি সফটওয়্যার তৈরির প্রতিষ্ঠান প্রাইডসিস আইটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মনোয়ার ইকবালের কথা। বিদেশি সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশকে স্বনির্ভর করছে প্রাইডসিস ইআরপি সফটওয়্যারটি।


প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে পড়া পোশাক শিল্পকে ঘুড়ে দাঁড়াতে সহযোগিতা করছে এই ইআরপি সফটওয়্যার। করোনা পরিস্থিতিতে যখন অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্রয়াদেশ বাতিলের মুখে পড়ে লোকসানের ঝুঁকি দেখা দেয়, তখন সবচেয়ে ভালো সাপোর্ট দিয়েছে প্রাইডসিস। প্রাইডসিসের তৈরি ‘প্রাইডসিস ইআরপি’ এখন অনেক প্রতিষ্ঠানের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। শুধু তৈরি পোশাকই নয়, অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আস্থার প্রতীক এখন এই সফটওয়্যারটি।



স্কুলজীবন থেকেই ব্যতিক্রম চিন্তা-ভাবনা করতে পছন্দ করতেন গাজীপুর জেলাস্থ শ্রীপুরের তরুণ মনোয়ার ইকবাল। তখন থেকেই নতুন কিছু উদ্ভাবনের কথা ভাবতেন। যেটি দেশের মানুষের উপকারে আসবে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ালেখা শুরু করেন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করেন আত্মপ্রত্যয়ী এই তরুণ। এরপর কম্পিউটারবিজ্ঞানে স্নাতক করেন।



২০০৪ সাল। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করে নিজের কাজের অভিজ্ঞতাকে বাড়াতে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম জবের সিদ্ধান্ত নেন মনোয়ার। ছয় হাজার টাকা বেতনে জুনিয়র প্রোগ্রামার হিসেবে জয়েন করেন বেসরকারি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে।



আত্মপ্রত্যয়ী মনোয়ার বলেন, কম্পিউটারবিজ্ঞানে স্নাতক পাস করার পর সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য গেলে সহজে চাকরি পাওয়া যায় না। প্রতিষ্ঠান চায় অভিজ্ঞতা। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়টাতেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হাতে-কলমে প্রয়োগের এটা একটা সুযোগ। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম চাকরি শুরু করি।


কর্পোরেট অফিসে জুনিয়র প্রোগ্রামার হিসেবে চাকরিটা বেশ ভালোই চলছিল মনোয়ারের। ওই টাকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচটাও বেশ চলে যেত। এভাবে একটু একটু করে জীবনযুদ্ধের জন্য দক্ষ করে গড়েন নিজেকে। সময় বয়ে চলে আপন গতিতে। কাজের প্রতি আন্তরিকতা, একনিষ্ঠতা, কঠোর পরিশ্রম দেখে বেতন বাড়িয়ে দেয়া কর্তৃপক্ষ।


মনোয়ারের ভাষ্য, কাজ করতে করতে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির সাথে পরিচয় হওয়ার সুযোগ হয়। বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করি। দেখি বড় সব কোম্পানি শুধু বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করে। বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা দিয়ে সফটওয়্যার আনে। মানুষ দেশের তৈরি সফটওয়্যার ব্যবহার করবে? কিন্তু কেউ তো উদ্যোগ নিচ্ছে না। মাথায় ভাবনা আসে। আমার তো সফটওয়্যার তৈরির অভিজ্ঞতা আছে। তাহলে নিজের মেধা-বুদ্ধি, দক্ষতা দিয়ে নতুন কিছু তৈরির চেষ্টা করলে কেমন হয়? যেই ভাবা সেই কাজ। চাকরিটা ছেড়ে দেই। পরিকল্পনা করি নিজের প্রতিষ্ঠান করার।



২০১৩ সাল। পরিকল্পনা অনুসারে কাজের বাস্তবায়ন শুরু করেন মনোয়ার। রাজধানীর উত্তরায় দুই রুমের একটা অফিস ভাড়া নেন। প্রতিষ্ঠানের নাম দেন প্রাইডসিস আইটি। অফিসে ছিল না তেমন কোন আসবাবপত্র। সিদ্ধান্ত নেয়ার সাথে সাথেই কোনোরকম চলার মতো গ্রাহকের ব্যবস্থাও হয়ে যায়। গ্রাহকও তার অবস্থা বুঝতে পেরে ছোট একটা টেবিল কিনে দেন। একটা ছোট্ট টেবিল থেকেই শুরু হয় প্রাইডসিস আইটির স্বপ্নযাত্রা।



মনোয়ার বলেন, শূন্য থেকে যে-কোনো কিছু শুরু করতে গেলে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। আমার ছিল সফটওয়্যার ডেভেলপিংয়ের জ্ঞান ও দক্ষতা। কিন্তু প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিল না। তাই বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তখন নিজে নিজে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করেছি। প্রথম কাজটা অনেক যত্ন করে আন্তর্জাতিক মানের করে দেই। ক্লায়েন্ট খুশি হন। পরে একের পর এক কাজ দিতে শুরু করেন। এত কাজ আমার একার পক্ষে করাটা সম্ভব হচ্ছিল না। প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে নিয়োগ দেই খালেদ, সজিব ও লিপুকে। কাজের পরিসরের সাথে সমস্যাও বাড়তে থাকে। ওই সময়টাতে আমাকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন সিনেসিস আইটি লিমিটেডের ব্যবস্থপনা পরিচালক সোহরাব আহমেদ চৌধুরী এবং মাহমুদ গ্রুপের কর্মকর্তারা। স্বপ্ন এগিয়ে যেতে থাকে নিজস্ব গতিতে।



প্রথম দিকে কিছু ছোট প্রকল্পের কাজ করেন মনোয়ার। ক্লায়েন্টদের চাহিদা মতই কাজগুলি করে দেন। একদিন মনোয়ারের মাথায় আসে তৈরি পোশাক শিল্পে কাজ করার বিশাল সুযোগ আছে। মার্কেট রিসার্চ শুরু করেন। দেখেন, দেশে তৈরি পোশাক শিল্পখাতে ইআরপি সফটওয়্যারের বাজার প্রায় হাজার কোটি টাকার। বিদেশে একটি প্রতিষ্ঠান ইআরপি সফটওয়্যার চালু করতে প্রায় দুই লাখ ডলার ব্যয় করে। অর্থাৎ বিদেশে সফটওয়্যার রপ্তানি করে প্রতিষ্ঠান প্রতি শুরুতেই দুই কোটি টাকার মতো দেশে আনা সম্ভব। পরে তিনি মনোযোগ দেন ইআরপি সফটওয়্যার তৈরিতে। ইআরপি মানে এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং। অর্থাৎ ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার মূল সমন্বিত ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার। এই সফটওয়্যার তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বিভিন্ন তথ্য একসঙ্গে ব্যবস্থাপনা করা যায়।


তিনি তৈরি পোশাক এবং বস্ত্র খাতের উপযোগী সফটওয়্যার তৈরির কাজ যখন শুরু করেন, তখন এই খাতে একক সমাধান দিতে পারে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না। বাংলাদেশের স্থানীয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি সফটওয়ার ব্যবহার করতে বাধ্য ছিল। বিদেশি সফটওয়্যারের খরচ বেশি। দেশি ইআরপি সফটওয়্যার কোম্পানি হিসেবে আস্থা অর্জন করা বিরাট চ্যালেঞ্জের। শুরু করেন গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উদ্ভাবনী কর্মযজ্ঞ। একদল মেধাবী সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার দীর্ঘ পাঁচ বছরের নিরবিচ্ছিন্ন গবেষণা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে সফলভাবে তৈরি করেন ইআরপি সিস্টেম সলিউশনটি। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এটি এমন একটা সলিউশন, যেটি বিদেশি সফটওয়্যারকে টেক্কা দিতে সক্ষম।



মনোয়ার বলেন, আমাদের দেশীয় নামিদামি কোম্পানিগুলো যেসব বিদেশি ইআরপি সফটওয়্যার ব্যবহার করছে সেগুলোতে কমপ্লিট সার্ভিস নেই। তাই পোশাক শিল্পখাতের সব দিক ব্যবস্থাপনার উপযোগী করে আমরা এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছি। প্রাইডসিস আইটি লিমিটেড বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা সম্পূর্ণ দেশীয় মেধায় ইআরপির এর মতো একটি কমপ্লেক্স সিস্টেম তৈরি করেছে। দেশের মেধাবী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, প্রোগ্রামার, সিস্টেম এনালিস্ট, বিজনেস এনালিস্টদের একসঙ্গে করে প্রাইডসিস ইআরপি ডেভেলপ করা হয়েছে।



বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহারে অভ্যস্ত দেশীয় তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকরা দেশি ইআরপি সিস্টেম সলিউশনটি নিতে একটু সময় নিচ্ছিলেন। তারা ভাবছিলেন কেমন হবে, ঠিকমতো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে কিনা, এসব নানান কিছু। ফলে একটু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন তরুণ এই উদ্যোক্তা। ঠিক তখনই মোবাইল অপারেটর টেলিটকের ইআরপি তৈরির কাজটা পান তিনি। বাংলাদেশে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, এয়ারটেলসহ সবগুলো টেলিকোম্পানি যেখানে বিদেশি নামিদামি কোম্পানির ইআরপি ব্যবহার করছে, সেখানে একমাত্র টেলিটকই 'প্রাইডসিস' ইআরপি ব্যবহার করে গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করছে।



কাজের পরিধি বাড়ার সাথে সাথে প্রয়োজন হয় নতুন অফিসের। কারওয়ান বাজার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে শুরু হয় নতুন অফিসের কার্যক্রম। ধীরে ধীরে আসে নতুন প্রজেক্ট। কাজের প্রয়োজনে বাড়ানো হয় দক্ষ কর্মীবাহিনী। দেশের প্রথম সারির পোশাক প্রস্তুতকারক মাহমুদ গ্রুপে বিদেশি সফটওয়্যার গ্রুপের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে প্রকল্প পায় প্রাইডসিস। চুক্তি হয় ৫ কোটি টাকায় তিন বছর সার্ভিস দেয়ার।


মনোয়ার বলেন, একটা সময় মানুষের দেশীয় সফটওয়ারের প্রতি আস্থা কম ছিল। প্রাইডসিস তার ইআরপি সার্ভিস দিয়ে সে আস্থার জায়গাটি তৈরি করেছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের প্রথম সারির পোশাক প্রস্তুতকারক মাহমুদ গ্রুপের ১০টি কোম্পানিকে পুরোপুরি আটোমেশনের মাধ্যমে ইআরপি সেবা সম্পূর্ণ করা হয়েছে। যা স্থানীয় সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর মধ্যে সেরা সাফল্য। এছাড়াও 'ডাইসিন' কেমিক্যাল লিমিটেড নামে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রিন্টিং ও ফেব্রিক্স মেনুফ্যাকচারিংয়ের কেমিক্যাল ও মেশিনারি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'প্রাইডসিস'র ইআরপি সফলভাবে ব্যবহার করছে। ইআরপি সফটওয়ার ছাড়াও 'প্রাইডসিস' বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য 'প্রাইডসিস' ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান শুরুর করেছে।


প্রাইডসিস প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল দেশের তৈরি সফটওয়্যার দেশের কোম্পানি ব্যবহার করবে। উদ্যোক্তা মনোয়ারের ভাষ্য, শুরু থেকে আমাদের একটাই আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল, দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি ইআরপি এর প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দেশীয় ইআরপিরের প্রতি আত্মবিশ্বাসী করো তোলা। আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সেবার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আমরা টিকে আছি এবং সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে সফটওয়্যার সেবা দিতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। শীর্ষ পোশাক উৎপাদনকারী আল মুসলিম গ্রুপ ও নাসা গ্রুপ ইআরপি সফটওয়্যার সেবা নেয়ার চুক্তি করেছে প্রাইডসিসের সঙ্গে।


প্রাইডসিস প্রতিষ্ঠানের বিশেষত্ব হলো প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা আর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, কোনো সলিউশন সিস্টেম ব্যবহার উপযোগী ও টেকসই না হলে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই তারা পণ্য শতভাগ গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করে বাজারে ছাড়ে।


বিভিন্ন প্রকল্পে প্রতিষ্ঠানটিতে ওয়েব ডেভেলপার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের কর্মী কাজ করেন। তৈরি পোশাক শিল্পখাতের পূর্ণ ইআরপি সফটওয়্যার সেবা দেয়ার পাশাপাশি কাটিং ম্যানেজমেন্ট, প্রোডাকশন প্ল্যানিং, কাটিং এজ বিভিন্ন প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার সেবা দিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ই-গভ সার্ভিস, এআই, বিগডেটা, মেশিন লার্নিং, অ্যানালিটিকস, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নতুন সেবাও এনেছে প্রাইডসিস। নতুন প্রযুক্তি হিসেবে বিজনেস ইনটেলিজেন্স, ব্লকচেইনের মতো নতুন প্রযুক্তির গবেষণার কাজও চলছে। জাপানে শুরু হয়েছে বিগ ডেটা নিয়ে নতুন প্রজেক্ট।


দেশে গার্মেন্টস খাতে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকার মাদাগাস্কার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ফিজি, ইন্দোনেশিয়াতেও সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশের প্রায় ২৪টি পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রাইডসিসের তৈরি সফটওয়্যার।



প্রযুক্তি ব্যবসা খাতকে এগিয়ে নিতে দেশি ব্র্যান্ডিং ও সরকারি উদ্যোগ আরও প্রয়োজন বলে মনে করেন মনোয়ার। তার মতে, দেশের ব্র্যান্ডিং নিজস্ব পণ্য দিয়েই করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আরও উদ্যোগ নিতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।



দেশের উদ্যোক্তাদের তৈরি বিভিন্ন সফটওয়্যার ও প্রকল্প বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে স্বীকৃতি পাচ্ছে। প্রাইডসিস দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইটিপ্রেমীদের কাছ থেকে সুনাম ও স্বীকৃতি কুড়িয়েছে। অর্জনের ঝুলিতে যোগ হয়েছে বেশ কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বেসিস ন্যাশনাল আসিটি অ্যাওয়ার্ড-২০১৭, বেসিস ন্যাশনাল আসিটি অ্যাওয়ার্ড-২০১৮, এন্টারপ্রেনার অ্যাওয়ার্ড-২০১৮, বেসিস ন্যাশনাল আসিটি অ্যাওয়ার্ড-২০১৯, অ্যাপিকটা মেরিট অ্যাওয়ার্ড-২০১৯, ওয়ার্ল্ড সামিট অ্যাওয়ার্ড-২০২০, ডেইলি স্টার আইসটি অ্যাওয়ার্ড-২০২১।



প্রাইডসিসকে নিয়ে আকাশছোঁয়া স্বপ্ন দেখেন এই উদ্যোক্তা। তার ভাষ্য, আমাদের দেশে আইটির অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে তৈরি পোশাকশিল্পের বিশাল একটা বাজার রয়েছে। দেশের গার্মেন্টস কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে ইআরপি সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত করতে প্রয়োজন অনেক অত্যাধুনিক সফটওয়্যারের।


চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এ যুগে আমাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যতটুকু সম্ভব গার্মেন্টস কোম্পানিগুলোতে সফলতার সাথে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সার্ভিস দিচ্ছি। এখনো আমাদের অসংখ্য কোম্পানি রয়েছে যারা দেশীয় ইআরপি সিস্টেমের উপরে আস্থা রাখতে পারছেন না। তাদের অনুরোধ করবো আমাদের দেয়া সার্ভিস কোয়ালিটি যাচাই করে দেখার। দেশের তৈরি প্রযুক্তি ব্যবহার করলে একদিকে যেমন দেশের টাকা দেশে থাকবে। অন্যদিকে দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা হবে। একই সাথে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কর্মী তৈরিতে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সবার ভূমিকা রাখাও সম্ভব হবে। আসুন দেশের তৈরি সফটওয়্যার ব্যবহার করি, স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ি।


বিবার্তা/গমেজ/রোমেল/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com