
নাটোরের সিংড়ায় বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বেকার যুবকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে। বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনপ্রতি ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত চাকরি, ভিসা কিংবা বিদেশে গিয়ে কাজের সুযোগ মিলছে না। ফলে প্রতারণার শিকার হয়ে আর্থিকভাবে নিঃস্ব হওয়ার পথে রয়েছেন অনেক বেকার যুবক ও
তাঁদের পরিবার।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদেশে ভালো বেতনে চাকরির সুযোগ, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ও দ্রুত ভিসা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয়ভাবে বেকার যুবকদের টার্গেট করে দালাল চক্রের সদস্যরা। তাঁদের কথায় বিশ্বাস করে অনেকেই জমিজমা বিক্রি করে, ধারদেনা করে কিংবা পরিবারের সঞ্চয় ভেঙে বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা তুলে দেন। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরই শুরু হয় নানা টালবাহানা। কখনো ভিসা জটিলতা, কখনো কাগজপত্রের সমস্যা, আবার কখনো বিদেশে নিয়োগকর্তার নানা অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে
অনেক দালাল যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
বিদেশে গিয়েও মিলছে না কাক্সিক্ষত কর্মসংস্থান শুধু বিদেশে যাওয়ার আগেই নয়, অনেক যুবক বিদেশে পৌঁছানোর পরও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের কেউ কেউ প্রতিশ্রুত চাকরিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না, আবার কেউ বৈধ কাজের অনুমতিপত্র বা আকামা না পাওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন।
প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না পাওয়ায় অনেককে দিনের পর দিন বেকার অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। এতে থাকা- খাওয়ার খরচ চালানো, পরিবারের কাছে টাকা পাঠানো কিংবা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ পুলিশের হয়রানি এবং জেল জুলুমের শিকার হচ্ছে।
অন্যদিকে, দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরাও চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিদেশ যাওয়ার জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ করেও মিলছে না প্রতিকার ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রতারণার শিকার হয়ে তাঁরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর প্রতিকার পাচ্ছেন না। কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে সালিস-বৈঠকের মাধ্যমে টাকা ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে সব ক্ষেত্রে সমাধান না হওয়ায় প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে বলে
তাঁদের দাবি।
ভুক্তভোগী নাইম, সুজিত বাবলু জানান, প্রতারক চক্রের সদস্যরা একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা সংগ্রহ করেন। কেউ কেউ নিজেদের বিদেশে লোক পাঠানোর বৈধ এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তাঁদের বৈধতা বা সরকারি অনুমোদন রয়েছে কি না, তা যাচাই না করেই অনেকে
তাঁদের হাতে টাকা তুলে দেন।
সচেতন মহলের মতে, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নেওয়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই, প্রতারণার অভিযোগ তদন্ত এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।একই সঙ্গে বিদেশগামীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ভুয়া ভিসা, মিথ্যা চাকরির প্রতিশ্রুতি ও অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর মতো অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, চাকরির চুক্তিপত্র যাচাই করা, ভিসার সত্যতা নিশ্চিত করা এবং টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে লিখিত প্রমাণ সংরক্ষণ করা জরুরি। বেকার যুবকদের বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্নকে পুঁজি করে যারা প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
তাঁদের মতে, বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন যেন কোনো পরিবারের জন্য সর্বস্বান্ত হওয়ার কারণ না হয়, সে জন্য প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বিবার্তাকে জানান, বিদেশ লোক নেয়ার জন্য অর্থ লেনদেনের অভিযোগ মাঝে মাঝে আসে। এ বিষয়ে আমরা সমাধানের চেষ্টা করি। কখনো কখনো স্থানীয় ভাবে বসে সমাধানের পরামর্শ দেয়া হয়।
বিবার্তা/রাজু/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]