
বগুড়ার নন্দীগ্রামে প্রতিবেশীর দা’র কোপে আমেনা খাতুন (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়নের পাঠান মির্জাপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আমেনা খাতুন পাঠান মির্জাপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। সে স্থানীয় আল মানার কেজি একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঠান মির্জাপুর গ্রামের হোসাইন মন্ডল (৩৫) প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কখনো স্বাভাবিক আবার কখনো অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। শুক্রবার বিকেলে আমেনা খাতুন বাড়ির সামনে কয়েকজন শিশুর সঙ্গে খেলছিল। এ সময় হোসাইন মন্ডল হঠাৎ এক হাতে দা ও অন্য হাতে লাঠি নিয়ে শিশুদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। আতঙ্কিত হয়ে শিশুরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় আমেনা পড়ে গেলে হোসাইন মন্ডল তার মাথায় দা দিয়ে কোপ দেন। শিশুদের চিৎকারে আমেনার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় আমেনাকে উদ্ধার করেন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
থালতা-মাজগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় হোসাইন মন্ডলকে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়। এ সময় তার বাড়ির বাথরুম থেকে একটি দা উদ্ধার করা হয়। পরে নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছিলে হোসাই মন্ডলকে তাদের নিকট সোপর্দ করা হয়। ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছোট্ট আমেনার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চলছে আহাজারি।
নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত হোসাইন মন্ডলকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
বিবার্তা/মনির/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]