বর্ষায় বেড়েছে ছাতার কারিগরদের ব্যস্ততা, পুরোনো পেশাতেই জীবিকার ভরসা
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ১৯:০৮
বর্ষায় বেড়েছে ছাতার কারিগরদের ব্যস্ততা, পুরোনো পেশাতেই জীবিকার ভরসা
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই বগুড়ার নন্দীগ্রামে বেড়েছে ছাতা মেরামত ও তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা। উপজেলার নন্দীগ্রাম হাট, কুন্দার হাট, ওমরপুর হাট ও রনবাঘা হাট’সহ নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এবং পুরাতন বাজার এলাকায় স্থায়ী ও মৌসুমি ছাতার কারিগরদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যাচ্ছে। পুরোনো ছাতার শিক পরিবর্তন, হাতল লাগানো, কাপড় বদলানো ও বিভিন্ন ধরনের মেরামতের কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তারা।


মঙ্গলবার (৯ জুন) সরেজমিনে নন্দীগ্রাম হাট, বাসস্ট্যান্ড ও পুরাতন বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে অনেকেই নতুন ছাতা না কিনে পুরোনো ছাতা মেরামত করাচ্ছেন। ফলে বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে বেড়েছে কারিগরদের কাজের চাপ। বিশেষ করে হাটের দিনগুলোতে গ্রাহকদের ভিড় বেশি থাকছে।


নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের দোহার গ্রামের মোহাম্মদ আলী (৬৫) প্রায় ৩০ বছর ধরে ছাতা মেরামতের কাজ করছেন। পাঁচ সন্তানের জনক মোহাম্মদ আলী জানান, বছরের প্রায় ছয় মাস এই কাজের ওপর নির্ভর করেন তিনি। বাকি সময় কৃষিকাজ করেন। সপ্তাহে চার দিন বিভিন্ন হাটে কাজ করেন এবং অন্য দিনগুলোতে বাজার এলাকায় বসে ছাতা মেরামত করেন।


তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। সপ্তাহে চারটি হাটে কাজ করি। প্রতিটি হাটে প্রায় দুই হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়। খরচ বাদ দিয়ে সপ্তাহে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা আয় হয়। এই আয় দিয়েই সংসার চালাই।


কুন্দার হাট এলাকার জাহিদুল ইসলাম (৫৫) মূলত গ্যাস লাইটসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী মেরামতের কাজ করেন। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত আয়ের আশায় তিনি ছাতা মেরামতের কাজও করছেন। তিনি বলেন, বর্ষাকালে ছাতা মেরামতের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই মূল কাজের পাশাপাশি এই কাজ করছি। এতে বাড়তি কিছু আয় হয়।


পুরাতন ছাতা মেরামত করেত আসা নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়নের দলগাছা গ্রামের আশরাফুল আলম বলেন, নতুন ভালো মানের ছাতার দাম বেশি। তাই কম খরচে পুরোনো ছাতা মেরামত করেই ব্যবহার করছি। পৌর এলাকার কলেজপাড়ার শরিফুল ইসলাম বলেন, একটি ভালমানের নতুন ছাতা কিনতে ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা লাগে। সেখানে অল্প টাকায় পুরাতন ছাতা ঠিক করে নেওয়া যায়। তাই মেরামত করাই সাশ্রয়ী।


কারিগররা জানান, ছাতার শিক পরিবর্তনে ৩০ থেকে ৬০ টাকা, হাতল লাগাতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা এবং সম্পূর্ণ মেরামতে ৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। নতুন কাপড় লাগানোর খরচ আরও বেশি।


নন্দীগ্রাম মডেল সারকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আজম বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক ঐতিহ্যবাহী পেশা হারিয়ে গেলেও বর্ষা এলেই ছাতার কারিগরদের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে আসে। পুরোনো ছাতা মেরামতের মাধ্যমে তারা যেমন সাধারণ মানুষের খরচ কমাচ্ছেন, তেমনি নিজেদের জীবিকার সংস্থানও করছেন। বর্ষার এই সময়ে বিভিন্ন হাট বাজারে ছাতার কারিগরদের ব্যস্ততা যেন গ্রামীণ জনজীবনের এক চিরচেনা দৃশ্য হয়ে উঠে।


নন্দীগ্রাম উপজেলা বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই ছাতা মেরামতের সঙ্গে জড়িত কারিগরদের কাজের চাপ বেড়ে যায়। নতুন পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ এখন পুরাতন ছাতা মেরামতের দিকে ঝুঁকছেন। এতে একদিকে সাধারণ মানুষের খরচ কমছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে জড়িত মানুষগুলোও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাচ্ছেন।


বিবার্তা/মনির/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com