
উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় জোশিমঠ-বদ্রীনাথ রুটে নিখোঁজ হওয়া চপার হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টারটিতে চালক ও যাত্রীসহ মোট যে ৬ জন ছিলেন, সবাই নিহত হয়েছেন।
গতকাল (শুক্রবার) দুপুরের দিকে বিধ্বস্ত হয়েছে হেলিকপ্টারটি। উত্তরাখণ্ড রাজ্য পুলিশের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার তুষারপাতের মধ্যে দুপুর ১টা ১৪ মিনিটের দিকে বদ্রীনাথ থেকে উড্ডয়নের পর হেলিকপ্টারটি ‘হাতি পর্বত’ এলাকার কাছে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে মারওয়ারি ব্রিজের কাছে জেপি পাওয়ার হাউসের পাশে পাহাড়ের গায়ে বিধ্বস্ত হয় হেলিকপ্টারটি।
নিহত পাইলট ও যাত্রীদের সবাই পুরুষ এবং তাদের নামও উদ্ধার হয়েছে। এরা হলেন—প্রতাপ, অরুণ, শঙ্কর গৌড়া, সুধীর কে, এইচ এস নটরাজ এবং পাইলট ক্যাপ্টেন হিমাংশু।
বদ্রীনাথ মন্দির উত্তরাখণ্ডের ‘চার ধাম’ তীর্থের অন্যতম ধাম। হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত হিন্দু তীর্থস্থান ‘চার ধাম যাত্রা’-র অন্তর্ভুক্ত অন্য তিনটি তীর্থ হলো যমুনোত্রী, গঙ্গোত্রী ও কেদারনাথ।
এক বিবৃতিতে উত্তরাখণ্ড সিভিল এভিয়েশন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি জানিয়েছে, বিমান পরিষেবা সংস্থা ট্রান্স ভারত এভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের ‘ভিটি-এইচসিএক্স’ কল সাইনযুক্ত সেই হেলিকপ্টারটি বদ্রীনাথ থেকে দেরাদুনের সহস্রধারার উদ্দেশ্যে দুপুর ১টা ১৪ মিনিটের দিকে উড্ডয়ন করে। যাত্রাপথে জোশীমঠ উপত্যকার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় হেলিকপ্টারটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একই সময়ে ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমেও সেটিকে আর শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং অবস্থান সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ট্রান্স ভারত এভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের সব হেলিকপ্টার চলাচল স্থগিত (গ্রাউন্ডেড) করা হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, সার্বিক পরিস্থিতি তার নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে আছে। করছেন।
উল্লেখ্য, গত পাঁচ বছরে উত্তরাখণ্ডে সবচেয়ে বেশি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত বছর ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার এক অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সরকারের বেসমারিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী মুরলীধর মোহল জানিয়েছিলেন, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশব্যাপী ১২টি বড় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে ৯টিই উত্তরাখণ্ডে।
২০২২ সালের অক্টোবরে কেদারনাথে ভেঙে পড়েছিল এক যাত্রিবাহী হেলিকপ্টার। সেই দুর্ঘটনায় পাইলট-সহ সাত জনে মৃত্যু হয়েছিল। গত বছর উত্তরকাশীতে মে ও জুন মাসে পর পর দু’টি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। এতে নিহত হয়েছিলেন ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। মাত্র ৪৫ দিনের ব্যবধানে ওই যাত্রাপথে পাঁচটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে দু’টি ছিল প্রাণঘাতী।
উত্তরাখণ্ডের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনাগুলির বড় কারণই খারাপ আবহাওয়া, দৃশ্যমানতার অভাব। তবে কিছু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে দুর্ঘটনার নেপথ্যে ছিল যান্ত্রিক গোলযোগ! গত পাঁচ বছরে উত্তরাখণ্ড ছাড়াও মহারাষ্ট্রে চারটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় সাত জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আর ছত্তীসগঢ়ে একটি দুর্ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]