
ঘরের মাঠে সবসময় স্পিন বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করা বাংলাদেশের প্রধান অস্ত্র এখন পেস বোলিং। তাসকিন আহমেদ-মোস্তাফিজুর রহমানদের পথ ধরে টাইগারদের বোলিং আক্রমণের পোস্টার বয় এখন নাহিদ রানা। এক্সপ্রেস গতির ফাস্ট বোলারের জন্মভূমি অস্ট্রেলিয়াকে মিরপুরে রীতিমতো নাকানিচুবানি খাওয়ালেন চাঁপাই এক্সপ্রেস। সঙ্গে ব্যাটে-বলে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দেখালেন দীর্ঘ ৪ বছর পর দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও। তাতে দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ফরম্যাটে জয় পেল বাংলাদেশ।
২০০৫ সালের ১৮ জুন কার্ডিফে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজে মোহাম্মদ আশরাফুলের সেঞ্চুরিতে মাইটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৬তম ওয়ানডে ম্যাচে অজিদের বিপক্ষে দ্বিতীয় জয়ের দেখা পেল টাইগাররা।
মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে নাহিদ রানার গতির তোড়ে ভেসে গেল শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া। মঙ্গলবার (৯ জুন) সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
এদিন টস হেরে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে। জবাব দিতে নেমে বৃষ্টির আগে ৪২ ওভার ২ বলে ৯ উইকেটে ১৯১ রান করে অস্ট্রেলিয়া। পরবর্তীতে বৃষ্টি আর না থামায় বাংলাদেশ বৃষ্টি আইনে জিতে যায়।
২৮৫ রানের লক্ষ্যতাড়ায় পাঠিয়ে ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথিউ শর্টের স্টাম্প ভেঙ্গে দেন তাসকিন আহমেদ। খালি হাতে ফেরেন অজি ওপেনার। পরের ওভারে টাইগারদের দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। টাইগার পেসারের বলে পরাস্ত হন মানার্শ লাবুশেন। শান্ত-মিরাজদের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। পরে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। দেখা যায় মিডল ও লেগ স্টাম্পের মধ্যে থাকত বল। ২ রানে ২ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। লাবুশেন ফেরেন ৬ বলে ১ রান করে।
শুরুর চাপ কিছুটা কাটিয়ে তোলেন কুপার কনোলি ও জশ ইংলিস। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৪৯ রান যোগ করেন দুজনে। ১০.১ ওভারে ইংলিশকে লিটন দাসের ক্যাচ বানান নাহিদ। ৩ চারে ২৫ বলে ১৯ রান করেন অজি অধিনায়ক।
চতুর্থ উইকেটে কনোলি ও অ্যালেক্স ক্যারি মিলে যোগ করেন ৪০ রান। ১৯.২ ওভারে দলীয় ৯১ রানে কনোলিকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন মোসাদ্দেক। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৫০ বলে ৩৫ রান করেন অজি ওপেনার। পঞ্চম উইকেটে ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিন মিলে যোগ করেন আরও ৩৭ রান।
২৮.৩ ওভারে দলীয় ১২৮ রানে ক্যারিকে ফেরান নাহিদ। ৫ চারে ৬২ বলে ৪৭ রান করেন ক্যারি। ২৯.৩ ওভারে ১৩৬ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় সফরকারী দল। মেট রেনশকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে আউট করেন মোসাদ্দেক। ক্যামেরন একপ্রান্ত আগলে রাখলেও চার রান যোগ করতেই আরও দুই ব্যাটারকে হারায় অজিবাহিনী।
লিয়াম স্কটকে (২) তৃতীয় এবং ও জাভিয়ের ব্রেটলেটকে চতুর্থ শিকার বানান নাহিদ। দলীয় ১৫৬ রানে নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। নাথান এলিসকে মোসাদ্দেকের ক্যাচ বানান মোস্তাফিজ। ১৫ বলে ৮ রান করেন এলিস।বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে নাহিদ রানা ১০ ওভারে ৪১ রান খরচায় নেন ৪ উইকট। ১০ ওভারে এক মেডেনসহ ৩৭ রানে মোসাদ্দেক নেন ২ উইকেট। মোস্তাফিজ ৫.২ ওভারে ২৪ রানে নেন ২ উইকেট। এছাড়া তাসকিন নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে ব্যাটে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশ। ইনিংসে দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে ১০ রানে প্রথম উইকেট হারায়। নাথান এলিসের বলে মার্নাশ লাবুশেনের হাতে ক্যাচ দেন সাইফ হাসান। ১ চারে ৫ বলে ৫ রান করে যান টাইগার ওপেনার। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে চাপ কাটিয়ে তোলেন তানজিদ তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত।
জুটিতে দুজনে যোগ করেন ৯১ বলে ৯৬ রান। ১৬.৩ ওভারে ১০৬ রানের সময় তানজিদ ফিরলে জুটি ভাঙে। নাথান এলিসের বলে মিডঅনে জাভিয়ের ব্রেটলেটের হাতে ধরা পড়েন। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৪ রান করে যান তানজিদ।
নামের সাথে সুবিচার করতে পারেননি চারে নামা লিটন দাস। ২১.৪ ওভারে ১২৫ রানের সময় লিটনের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৯ বলে ৭ রান করে যান তিনি। ২৫.৩ ওভারে ১৪০ রানের সময় শান্ত আউট হন। ম্যাট রেনশর বলে লংঅফে কুপার কনোলির হাতে ক্যাচ দেন। ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৭ রান করে যান তিনি। পঞ্চম উইকেটে তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গী করে ৯০ বলে ৭৫ রান যোগ করেন মোসাদ্দেক হোসেন। ৪০.৩ ওভারে দলীয় ২১৫ রানে হৃদয় ফেরেন। ১ চারে ৫১ বলে ৩১ রান করে ব্রেটলেটের বলে এলিসের ক্যাচ হন।
সাতে নেমে বেশ ধুঁকেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। স্বস্তি ফেরার আগেই আউট হন। লিয়াম স্কটের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন। আম্পায়ার সাড়া দিলে রিভিউ নেন অধিনায়ক, লাভ হয়নি। ১২ বলে ৩ রান করে ফেরেন। তার আগে অবশ্য ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৪৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন মোসাদ্দেক। টাইগার অলরাউন্ডারের চতুর্থ ওয়ানডে ফিফটি এটি।
২১৯ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর তানভীরকে নিয়ে ২০ রান যোগ করেন মোসাদ্দেক। ৪৪.৩ ওভারে দলীয় ২৩৯ রানে তানভীর এলিসের তৃতীয় শিকার হন। ৭ বলে ৫ রান করে। অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। শেষ বলে তাসকিন আউট হন। বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৮৪ রান।বাংলাদেশ ক্রিকেট।
৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৭০ বলে ৮৬ রানে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক। তার ক্যারিয়ারসেরা ব্যাটিং। আগে অপরাজিত ৫২ রান ছিল সর্বোচ্চ। তাসকিন ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৬ বলে ২০ রান করেন।
অস্ট্রেলিয়ার নাথান এলিস ৩ উইকেট নেন। ম্যাট রেনশ ও লিয়াম স্কট নেন ২টি করে উইকেট।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]