
ভরা মৌসুমেও চুয়াডাঙ্গার বাজারগুলোতে শীতকালীন সবজির চড়া দাম। সবজি কিনতে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সবজির দর নিয়ে খুচরা বিক্রেতা, পাইকার আর কৃষকেরা একে অপরকে দোষারোপ করছেন।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত মৌসুমের তুলনায় এবার কম জমিতে সবজি উৎপাদন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মহাজনদের কাছে খেতের সবজি লট ধরে বিক্রি ও খুচরা বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার কারণে সবজির দাম বাড়তি।
সবজিচাষিরা বলছেন, গত বছর শীতকালীন সবজির আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় এবার চাষ কমিয়ে দিয়েছেন। তাছাড়া উৎপাদন খরচ যে হারে বাড়ছে, সেই তুলনায় সবজির দাম বাড়েনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গত বছর জেলায় ৮ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ করা হয়েছিল। এ বছর সেখানে আবাদ করা হয়েছে ৮ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা কার্যালয়ের উপপরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা বলেন, চুয়াডাঙ্গার মাঠ থেকে সরাসরি ট্রাকে করে বিপুল পরিমাণ সবজি জেলার বাইরে চলে যাচ্ছে। খেতে বসেই চাষিরা বেশি দামে সবজি বিক্রি করছেন, যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাজারে।
চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারে প্রতি কেজি ফুলকপি ৪০-৫০ টাকা, পেঁয়াজের কলি ৩৫-৪০ টাকা, পেঁয়াজ ৭৫-৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১২০ টাকা, আলু ৪৫ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা, উচ্ছে ১২০ টাকা, শিম মানভেদে ৫০-৬০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ৪০–৫০ টাকা, রসুন ২৬০–৩০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৭০–৮০ টাকা, প্রতিটি লাউ ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আড়তের মালিক জানান, তিনি পাইকারিতে প্রতি কেজি ফুলকপি ২৫–৩০ টাকা, বেগুন মানভেদে ৩৫–৪৫, কাঁচা মরিচ ৬৫–৭০, পেঁপে মানভেদে ১০–২০ টাকা, টমেটো ২০–৩০ টাকা, শিম ২৫–৩০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টির কারণে আমদানি কমে যাওয়ায় বুধবারের তুলনায় প্রতিটি সবজির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা।
সবজিচাষি আব্দুল হান্নান জানান, আশপাশের জেলায় সবজির আবাদ তেমন হয়নি। তাই ওসব জেলা থেকে মহাজনেরা খেতে এসেই বাড়তি দামে সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে বাজারে তোলার আগ্রহ কমে গেছে।
আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের এক সবজি ক্রেতা বলেন, শীতকালে সবজি বাড়তি দামে বিক্রি হওয়া অস্বাভাবিক বলে মনে হয়। উৎপাদনকারীরা যে দামে সবজি বিক্রি করছেন, ভোক্তারা প্রায় দ্বিগুণ দামে তা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। বাজার নিয়ন্ত্রণ করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিবার্তা/আসিম/সউদ
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]