ইংল্যান্ডের পরাজয়ে সেমির পথ প্রশস্ত হলো বাংলাদেশের
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০১৯, ০১:০৯
ইংল্যান্ডের পরাজয়ে সেমির পথ প্রশস্ত হলো বাংলাদেশের
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ক্রিকেটের মক্কাখ্যাত ঐতিহাসিক মাঠ লর্ডসে খেলা হচ্ছিল স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে। কিন্তু এ ম্যাচেও মাঠে ছিল বাংলাদেশ। কারণ এ ম্যাচের ফলাফল যে টাইগারদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। অবশেষে খেলা শেষ রেজাল্টও এসে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার পেসের কাছে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ইংলিশরা। তাই ম্যাচ হেরেছে ৬৪ রানে। ইংলিশদের পরাজয়ে সেমির পথ আরও প্রশস্ত হলো বাংলাদেশের। সেই সঙ্গে প্রথম দল হিসেবে সেমিতে জায়গা করে নিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। সপ্তম ম্যাচে ষষ্ঠ জয়ে অসিদের ১২ পয়েন্ট।


শ্রীলঙ্কার পর অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড হারল টানা দুই ম্যাচ। শুরুতে যাদের ভাবা হচ্ছিল শিরোপার অন্যতম দাবিদার, সেই ইংল্যান্ডের এখন সেমিফাইনালে ওঠাই হুমকিতে পড়ে গেছে। স্বাগতিকদের জন্য শেষ চারের সমীকরণটা ভীষণ কঠিন হয়ে গেছে। আর ইংল্যান্ডের হারে শুধু বাংলাদেশ নয় সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানেরও।


মঙ্গলবার লর্ডসে রাতভর বৃষ্টির পর সকালে মেঘলা আকাশের নিচে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ান মরগ্যান। কিন্তু ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নারের ১২৩ রানের উদ্বোধনী জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পেয়েও তিনশ ছাড়াতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ৩০ ওভারে অসিরা ১ উইকেটে তুলেছিল ১৬২ রান। কিন্তু শেষ ২০ ওভারে ১২৩ রান তুলতেই হারায় ৬ উইকেট।


দলীয় ১৫ রানে জীবন পেয়ে এগিয়ে যান ফিঞ্চ। ওয়ার্নার শুরুতে ছিলেন সাবধানী। প্রথম ১০ ওভারে আসে মাত্র ৪৪ রান। এরপরই বাড়ে রান তোলার গতি। অস্ট্রেলিয়া শতরান পূর্ণ করে ১৭ ওভার ৫ বলেই। ফিঞ্চ ফিফটি তুলে নেন ৬১ বলে, ওয়ার্নার ৫২ বলে। ফিফটির পর ওয়ার্নার ইনিংস বড় করতে পারেননি। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে ১২৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন অফ স্পিনার মঈন আলী। ৬১ বলে ৬ চারে ওয়ার্নার থামেন ৫৩ রানে।


দ্বিতীয় উইকেটে উসমান খাজার সঙ্গে ৫০ রানের আরেকটি ভালো জুটি গড়েন ফিঞ্চ। খাজার বিদায়ে ভাঙে এ জুটি। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বেন স্টোকসের বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন ২৩ রানে।



স্টিভেন স্মিথের সঙ্গে জুটি বেঁধে ফিঞ্চ এরপর তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি, ১১৫ বলে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৫তম আর এবারের বিশ্বকাপে তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তবে সেঞ্চুরির পরের বলেই ফেরেন আর্চারকে হুক করতে গিয়ে ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে। ১১৬ বলে ১১ চার ও ২ ছক্কায় ১০০ রানের ইনিংসটি সাজান অসি অধিনায়ক। ফিঞ্চ আউট হওয়ার পর মাঠে নেমে ঝড় তোলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মাত্র ৮ বলে ১২ রান করে মার্ক উডের বলে বাটলারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি।


স্মিথের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটে কাটা পড়েন মার্কাস স্টয়নিস। ব্যাটিংয়ে নামার পর থেকেই ইংলিশ সমর্থকদের দুয়ো শুনতে থাকা স্মিথও এরপর বেশিক্ষণ টেকেননি। ওকসকে মিডউইকেট খেলতে চেয়ে প্রাক্তন অসি অধিনায়ক ক্যাচ দেন লং অনে। ৩৪ বলে ৫ চারে স্মিথ করেন ৩৮ রান।


শেষ পর্যন্ত সংগ্রহটা যে ২৮৫ হয়েছে, সেটার পুরো কৃতিত্ব অ্যালেক্স ক্যারির। ২৭ বলে ৫ চারে ৩৮ রানে অপরাজিত ছিলেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। ৪৬ রানে ২ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সেরা বোলার ওকস। আর্চার, উড, স্টোকস ও মঈন নেন একটি করে উইকেট।


শেষ দিকে ইংলিশ বোলাররা দারুণ বোলিংয়ে লক্ষ্যটা নাগালেই রেখেছিলেন। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের মধ্যে স্টোকস ছাড়া দায়িত্ব নিতে পারলেন না কেউই। ইংল্যান্ডও তাই পাত্তা পেল না অস্ট্রেলিয়ার কাছে।


১৯৯২ আসরের পর বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে কখনো হারাতে পারেনি ইংল্যান্ড। ইতিহাস বদলাল না এবারও। শেষ দুই ম্যাচের প্রতিপক্ষ যারা, সেই ভারত-নিউজিল্যান্ডকেও গত ২৮ বছরে বিশ্বমঞ্চে হারাতে পারেনি ইংলিশরা!


জবাবে ইংলিশদের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে বেহরেনডর্ফের দারুণ এক ইন-সুইঙ্গারে বোল্ড হন জেমস ভিন্স। একটু পর স্টার্কের দারুণ এক ইন-সুইঙ্গারে এলবিডব্লিউ জো রুট। স্টার্কের পরের ওভারে শর্ট বল পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগে প্যাট কামিন্সের দারুণ ক্যাচে ফেরেন অধিনায়ক মরগান।


ছয় ওভারের মধ্যে তখন ২৬ রানেই নেই ইংল্যান্ডের ৩ উইকেট! জনি বেয়ারস্টো দারুণ কয়েকটি চার মারলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৩৯ বলে ২৭ রান করা ইংলিশ ওপেনারকে থামান বেহরেনডর্ফ। ৫৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন ভীষণ বিপদে ইংল্যান্ড।



এরপরই স্টোকসের লড়াই শুরু। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান প্রথমে জস বাটলারের সঙ্গে গড়েন ৭১ রানের জুটি। ২৭ বলে ২৫ রান করা বাটলারকে ফিরিয়ে এ জুটি ভাঙেন মার্কাস স্টয়নিস। অবশ্য উসমান খাজার অবদানও কম নয় এই উইকেটে। ডিপ স্কয়ার লেগে বাউন্ডারিতে দারুণ এক ক্যাচ নেন খাজা।


ষষ্ঠ উইকেটে ক্রিস ওকসের সঙ্গে ৫৩ রানের আরেকটি জুটি গড়ে ফেলেছিলেন স্টোকস। তিনি নিজে এগোচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। তবে আক্রমণে ফিরে দারুণ এক ইয়র্কারে স্টোকসকে থামান স্টার্ক। ১১৫ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৮৯ রানের ইনিংস সাজান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।


এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারিয়েছে ইংল্যান্ড। মঈন আলী, ওকস ও জোফরা আর্চারকে ফিরিয়ে বেহরেনডর্ফ পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট। আর আদিল রশিদকে ফিরিয়ে ২২১ রানে স্বাগতিকদের ইনিংস গুটিয়ে দেন স্টার্ক। এই ম্যাচেই দলে ফেরা বেহরেনডর্ফ ৪৪ রানে নেন ৫ উইকেট। স্টার্ক ৪৩ রানে ৪ উইকেট।


সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া:
৫০ ওভারে ২৮৫/৭ (ফিঞ্চ ১০০, ওয়ার্নার ৫৩, খাওয়াজা ২৩, স্মিথ ৩৮, ম্যাক্সওয়েল ১২, স্টয়নিস ৮, কেয়ারি ৩৮*, কামিন্স ১, স্টার্ক ৪*; ওকস ১০-০-৪৬-২, আর্চার ৯-০-৫৬-১, উড ৯-০-৫৯-১, স্টোকস ৬-০-২৯-১, মইন ৬-০-৪২-১, রশিদ ১০-০-৪৯-০)


ইংল্যান্ড: ৪৪.৪ ওভারে ২২১ (ভিন্স ০, বেয়ারস্টো ২৭, রুট ৮, মর্গ্যান ৪, স্টোকস ৮৯, বাটলার ২৫, ওকস ২৬, মইন ৬, রশিদ ২৫, আর্চার ১, উড ১*; বেহরেনডর্ফ ১০-০-৪৪-৫, স্টার্ক ৮.৪-১-৪৩-৪, কামিন্স ৮-১-৪১-০, লায়ন ৯-০-৪৩-০, স্টয়নিস ৭-০-২৯-১, ম্যাক্সওয়েল ২-০১৫-০)


ফল: অস্ট্রেলিয়া ৬৪ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: অ্যারন ফিঞ্চ


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

বি-৮, ইউরেকা হোমস, ২/এফ/১, 

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com