এক্সপ্রেস হাইওয়ের পাশে
‘পদ্মার ওপাড়ে হচ্ছে শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি’
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২২, ০৯:৫৫
‘পদ্মার ওপাড়ে হচ্ছে শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি’
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেস হাইওয়ের পাশে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং আইটি/হাই-টেক পার্ক-এর অধীনে ইতোমধ্যেই এই প্রকল্প স্থাপনের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এটা প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নে একটা প্রকল্প।


স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর সেটি দক্ষিণাঞ্চলে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিশিল্প বিকাশে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে জানতে চাইলে বিবার্তাকে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. বিকর্ণ কুমার ঘোষ।


তিরি বলেন, শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি প্রতিষ্ঠানের সাথে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ম্যাসাচুসেট্‌স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) মতো পৃথিবীর বড় বড় প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংযোগ থাকবে। এসব বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসোর্স ও টিচার্সদের সাথে কোলাবরশনের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ লক্ষে ইতোমধ্যেই এমআইটির সাথে আমাদের একটা চুক্তি হয়েছে। তারা এখানে একটা টেকনোলজির ন্যানো ল্যাব তৈরি করবে।


বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এছাড়াও জাপানও এখানে একটা আইটি ইউনিভার্সিটি করতে চায়। এভাবে জাপানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সাথে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম শুরু হয়ে যাবে। ফলে ভবিষ্যতে আমাদের এখান থেকে তৈরি হবে দেশের বড় বড় বিজ্ঞানী, যারা সারা দুনিয়াকে নাড়িয়ে দেয়ার মতো কাজ করবে। দেশের ইকনোমিককে চেঞ্জ করে দিবে। দেশের জন্য একটা বড় ধরনের পরিবর্তন হতে যাচ্ছে এই পদ্মা সেতুর মাধ্যমে।


ডা. বিকর্ণ কুমার ঘোষ বলেন,আমাদের সামনে যে দিনগুলি আসছে সেগুলি হবে ইন্টারনেটের। যতদিন যাবে মানুষের ইন্টারনেটের চাহিদা ও ব্যবহার বহুগুণে বেড়ে যাবে। ইন্টারনেটের সবচেয়ে বড় মিডিয়া হলো অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল। বাংলাদেশে পদ্মা সেতু ক্রস করার মতো বা পদ্মা নদী ক্রস করার মতো,এমন কি অটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল নিয়ে যাবার মতো, ক্যাপাসিটি আমাদের নাই। এই দুই জায়গায় আমাদের একটা বড় কমিউনিকেশন গ্যাপ কাজ করছে। এখন আমাদের পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব ক্যাবল যাতে কেটে না যায় বা কেউ নিয়ে না যায় এসব সমস্যার সমাধান হবে।


তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবেলায় সারাদেশে প্রায় ১২ কোটি মানুষের কাছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল কানেক্টিভিটি করতে দিয়েছেন। এই সেতু চালুর ফলে ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভিটির কাজ আরো অবারিত হবে। এখন অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল আরো বেশি সুরক্ষিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আইসিটি ডিভিশনের অধীনে যে ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং দিয়েছে, সেখানে সারাদেশে সাড়ে ছয় লাখ ফ্রিল্যান্সার কাজ করছে। এখন তাদের ইন্টারনেট গতি আরো বেড়ে যাবে। এখন যেমন মাইক্রো লিংক দিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হয়, তখন এটি পুরাটা ব্রডব্যান্ড হয়ে যাবে। আর ইন্টারনেট গতিটা অনেক বেড়ে যাবে। ফলে আমাদের বড় দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। অনেক মানুষের কর্মসংস্থান বেড়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের দূরদর্শী নেতৃত্বে আইসিটি ডিভিশন 'আমার গ্রাম আমার শহর' নিয়ে যে প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছে, সেখানে গ্রামে শহরের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা সহজে পৌঁছে দেয়ার মিডিয়া হলো ইন্টারনেট। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে এসব সুযোগসুবিধা আরো বেড়ে যাবে। এটা চালু হলে আমাদের আইসিটি ডিভিশনের ক্যাপাসিটি আরো বাড়বে। দেশের মানুষের কাছে পৌঁছানোর ক্ষমতা এবং মানুষকে আইসিটি সেবা দেয়ার সুযোগ আরো বেড়ে যাবে।


পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও তার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা মহোদয়কে ধন্যবাদ জানান ডা. বিকর্ণ কুমার ঘোষ।


মেধাবী তরুণ-তরণীদের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে ২০১৮ সালে সারাদেশে ২৮টি হাই-টেক পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নেয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ হাই–টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের শুরুতেও ‘জেলা পর্যায়ে আইটি/হাই-টেক পার্ক স্থাপন (১২টি জেলায়)’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় হাই-টেক পার্কের কার্যক্রম চালু হয়েছে। তরুণ-তরুণীদের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এবছরও বিভিন্ন জেলায় আইটি/হাই-টেক পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। সব কাজ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে করছে বাংলাদেশ হাই–টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। নেতৃত্বে দিচ্ছেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. বিকর্ণ কুমার ঘোষ।


পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প সূত্রমতে, স্বপ্নের পদ্মা বহুমুখী সেতুর কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯৮ সালে। তখন থেকেই পদ্মা সেতুর প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়। ১৯৯৯ সালে প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু হয়। এটি চলে ২০০০ সাল পর্যন্ত। ২০০১ সালে জাপানিদের সাহায্যে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের প্রথম মেয়াদের শেষের দিকে ৪ জুলাই ২০০১ তারিখে মাওয়া প্রান্তে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সময়ের পালাবদলে পরে ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকার সুপারিশ মেনে মাওয়া-জাজিরার মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্মা সেতুর নকশা প্রণয়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করে। মহাজোট সরকার শপথ নিয়েই তাদের নিয়োগ দেয়। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতু করার চূড়ান্ত নকশা করা হয়। নানান বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে সফলভাবে নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০২২ সালের মের শেষের দিকে।


বিবার্তা/গমেজ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com