খালেদা জিয়াও পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন: হানিফ
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২২, ১৫:৩৫
খালেদা জিয়াও পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন: হানিফ
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধীর দল জামায়াতে ইসলামীকে দেশে পুনর্বাসন করেছেন। পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে তিনি এই কাজ করেছেন। তার উত্তরসূরী বেগম খালেদা জিয়াও একই কাজ করে যাচ্ছেন।


বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।


মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে দালাল আইন বাতিল করে সাড়ে ১১ হাজার মানবতাবিরোধীকে মুক্ত করে দিয়েছেন। কুখ্যাত রাজাকার গোলাম আজমকে দেশে নিয়ে এসে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী যারা একাত্তরে পাকিস্তানের দোসর হিসেবে সরাসরি হত্যা, লুণ্ঠনে সম্পৃক্ত ছিলো তাদেরকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন।


জামায়াতে ইসলামী একাত্তরে পাকিস্তানের সৈনিক ছিলো এবং এখনো আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধী কসাই কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হলে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী বলেছেন, কাদের মোল্লা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পাকিস্তানের সৈনিক ছিলেন। মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদের মৃত্যুর পরও তারা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তার মানে তারা এখনো পাকিস্তানের নেতৃত্বে কাজ করে। এখনো তাদের মদদে কাজ করে যাচ্ছে।


হানিফ বলেন, ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য অনেকেই সংগ্রাম করেছেন কিন্তু তারা সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। বাঙালি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালিদের মুক্তির স্বপ্ন ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে তিনি স্বাধীনতা এনে দিতে পেরেছেন।


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ব নন্দিত নেতা ছিলেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এ সিনিয়র নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধু দূরদর্শী সম্পন্ন নেতা ছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের দায়িত্ব নিয়ে তিনি সাড়ে তিনবছরে পুলিশ বাহিনী, সেনা, নৌ, বিমান বাহিনীসহ পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রের কাঠামো স্থাপন করেছিলেন।



বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর গোটা বিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলো। কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছিলো? এ হতাকাণ্ড রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য ছিলো না। পৃথিবীতে বহু জায়গায় রাষ্ট্র প্রধানকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু তাদের পরিবারকে হত্যার নজির নেই। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সময় একসঙ্গে তিনটি বাসায় আক্রমণ করা হয়েছিলো। নারী, শিশুদেরকে হত্যা করা হয়েছিলো। পাকিস্তানের দোসরা নিষ্ঠুর এবং পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিলো। পাকিস্তান এবং আমেরিকা একাত্তরের পরাজয় মেনে নিতে পারেনি। তাই তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে একাত্তরের পরাজয়ের চরম প্রতিশোধ নিয়েছে।


বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়া জড়িত ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুক, রশীদ বিভিন্ন সময়ে সাক্ষাৎকারে দিয়েছে। সেখানে বলেছিলো তারা ক্যান্টমেন্টে একাধিকবার বৈঠক করেছে। জিয়াউর রহমান তাদেরকে বলেছিলেন তোমরা এগিয়ে যাও। আমি তোমাদের পেছনে আছি। সামনে আসতে পারবো না।


চক্রান্তকারীদের মুখোশ উন্মোচন প্রয়োজন। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো ইনডেমনিটি আইন করে বিচার বন্ধ করেছিলেন। তিনি কয়েকটি কারণে তাদের বিচার বন্ধ করেছিলেন। এর একটি হলো তারা একই গ্রুপের ছিলো। দ্বিতীয়টি ছিলো খুনীদের কাঁঠগড়ায় দাঁড় করানো হলে জিয়া জড়িত ছিলো প্রমাণ হয়ে যাবে। এরপর তিনি খুনীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করেছেন। এসবই প্রমাণ করে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ছিলেন।


তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর পক্ষে জিয়াউর রহমানের আগে তিনজন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। অথচ পাকিস্তানের পক্ষের শক্তি দাবি করে শুধু জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক। তাদের এই অপতৎপরতা রুখে দিতে হবে। এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু আদর্শ ধারণ করে স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা করবে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল হাই এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ এমপি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ আব্দুস সালাম, উপ-উপাচার্য ড. মো. মাহবুবুর রহমান. ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো.আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ।


এর আগে মাহবুবউল আলম হানিফসহ অতিথিরা মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।


বিবার্তা/সোহেল/তাজমুল/শরীফুল/বিএম

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com