বিশ্ব বাবা দিবস আজ
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৯, ১১:১৯
বিশ্ব বাবা দিবস আজ
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

তিনি বটবৃক্ষ, নিদাঘ সূর্যের তলে সন্তানের অমল-শীতল ছায়া। তিনি বাবা। বাবার তুলনা তিনি নিজেই। বাবা শাশ্বত, চির আপন, চিরন্তন। বাবা মানে নির্ভরতার আকাশ আর নিঃসীম নিরাপত্তার চাদর। ‘মরিয়া বাবর অমর হয়েছে, নাহি তার কোন ক্ষয়/ পিতৃস্নেহের কাছে হয়েছে মরণের পরাজয়’ —সন্তানের প্রতি বাবার ভালোবাসা এতোটাই স্বার্থহীন যে, সন্তানের জন্য নিজের প্রাণ দিতেও তারা কুণ্ঠাবোধ করেন না।


ইংরেজ সন্তানের আপ্লুত ডাক ‘ফাদার’ কিংবা জার্মানির ‘ফ্যাটা’ বাংলায় হয়ে যায় ‘বাবা’। কিন্তু সম্পর্ক তো একই। এটা শুধু একটা সম্পর্কের নাম নয়, ভরসা ও ছায়ার ভিন্ন নামও বটে। আজ জুন মাসের তৃতীয় রবিবার, বিশ্ব বাবা দিবস।


সন্তানের কাছে বাবা তো প্রতিদিনই সমান, তবুও কেন এই দিবস? উত্তরে বলা যায় লম্বা ইতিহাস। কিন্তু সহজ ভাবে বললে, মা দিবসের মতো এখন পৃথিবীর মানুষ বছরের একটা দিন বাবার জন্য রেখে দিতে চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত শতকের প্রথম দশক থেকেই শুরু হয় বাবা দিবসের প্রচলন।


রাগ শাসন আর রাশভারী চেহারার আবডালে এই মানুষটির যে কোমল হূদয় তা মাতৃহূদয়ের চেয়ে কম নয়। ‘মা’ এর মতো ‘বাবা’ও ছোট্ট একটি শব্দ, অথচ গভীরতা অতলান্ত-অসীম। পবিত্র কুরআনে সুরা আহকাফের ১৪ নম্বর আয়াতে, বনী ইসরাইলের ২৪ নম্বর আয়াতে, সুরা নিসার ৩৬ নম্বর আয়াতে সুরা লোকমানের ১৪ আয়াতে পিতা-মাতার খেদমত করার নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ পাক। সন্তানের জন্য পিতার দোয়া আল্লাহর কাছে পৌঁছাতে কোন আড়াল থাকে না।


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘পিতা-মাতা জান্নাতের মাঝের দরজা। যদি চাও, দরজাটি নষ্ট করে ফেলতে পারো, নতুবা তা রক্ষা করতে পারো। (তিরমিযী, তুহফাতুল আহওয়াযী, ৬/২৫)।


রাসূল (সা) বলেছেন, ‘তার নাক ধূলায় মলিন হোক (৩ বার),সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেই হতভাগ্য ব্যক্তিটি কে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাহে ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, সে হলো ঐ ব্যক্তি, যে তার পিতা-মাতা উভয়কে অথবা একজনকে পেল অথচ তাদের সেবা করে জান্নাত হাসিল করতে পারলো না’ (মুসলিম-৪/১৯৭৮, হা-২৫৫১)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি পিতার সন্তুষ্টিতে এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি পিতার অসন্তুষ্টিতে নিহিত।’ (তিরমিযি-১৮৯৯)।


‘পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম, পিতাহী পরমং তপঃ, পিতরী প্রিতিমাপন্নে প্রিয়ন্তে সর্বদেবতা’ —সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই মন্ত্র জপে বাবাকে স্বর্গজ্ঞান করে শ্রদ্ধা করেন। পিতা সন্তানের মাথার ওপর যার স্নেহচ্ছায়া বটবৃক্ষের মতো, সন্তানের ভালোর জন্য জীবনের প্রায় সবকিছুই নির্দ্বিধায় ত্যাগ করতে হয় তাকে। আদর-শাসন আর বিশ্বস্ততার জায়গা হলো বাবা। বাবার মাধ্যমেই সন্তানের জীবনের শুরু। সন্তান বাবার ঋণ কখনো পরিমাপ করতে পারে না।


ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সনোরা স্মার্ট ডোড নামের এক তরুণীর মাথায় আসে বাবা দিবসের বিষয়টি। ১৯১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পিতৃ দিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণার বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন দিনটিকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন।


বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৮৭টি দেশ বাবা দিবস পালন করে। তারমধ্যে জুন মাসের তৃতীয় রবিবারে দিবসটি পালিত হয় ৫২টি দেশে। এরমধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, অ্যান্টিগুয়া, বাহামা, বুলগেরিয়া, পাকিস্তান, কানাডা, চিলি, চেক প্রজাতন্ত্র, ফ্রান্স, জাপান, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, ইংল্যান্ড, আমেরিকা, ভেনিজুয়েলা ও জিম্বাবুয়ে অন্যতম।


এছাড়া ইরানে বাবা দিবস পালিত হয় ১৪ মার্চ। লিভিয়া, ইটালি, হন্ডুরাস, পর্তুগাল ও স্পেনে ১৯ মার্চ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৮ মে, ডেনমার্কে ৫ জুন, নিকারাগুয়া, পোল্যান্ড ও উগান্ডা ২৩ জুন এবং জুন মাসের প্রথম রবিবার লিথুনিয়ায় বাবা দিবস পালিত হয়।


হাজারো কষ্ট সয়ে তিলে তিলে সন্তানকে বড় করেছেন একজন বাবা, তাকে ঘিরেই এই দিনটি। তবে বাবা কি শুধুই একটি বিশেষ দিনের জন্য! এরকম বিতর্ক থাকলেও এই বিশেষ দিনটিতে একটি লাল গোলাপ, একটি কার্ড অথবা ‘মাই লাভ ফর ড্যাড’ লেখা মগ নিয়ে শুভেচ্ছা জানালে বাবা তাতেই খুশি। বাবার চাহিদা এতটুকুই। ছোট-বড়, অখ্যাত-বিখ্যাত সকলের কাছেই বাবা অসাধারণ। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা সকলেরই প্রথম চাওয়া আর পাওয়া।


সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং স্যাট টিভির তুমুল প্রচার দাক্ষিণ্যে বাবা দিবস ঘটা করেই পালিত হচ্ছে। বাবার জন্য একদিন কেন! কেউ কেউ বলে থাকেন, বাবা দিবসটা ঠিক আমাদের জন্য নয়। এটি মূলত পাশ্চাত্যের। বাবার জন্য আমাদের অনুভূতি প্রতিদিনকার। প্রতি মুহূর্তের। তার জন্য আলাদা দিনের দরকার নেই।


বাংলাদেশে অনেক সন্তান তাদের পিতাকে ভাবে অভাজন। পিতার বুকফাটা আর্তনাদ না শোনার মতো সন্তানও এই সমাজে আছে। ‘ছেলে আমার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার/মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার-ওপার। নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামি দামি/সবচেয়ে কমদামি ছিলাম একমাত্র আমি/ছেলে আমার, আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম/আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম।’ নচিকেতার এই গানের বাস্তবতা মিলবে গাজীপুরের বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে। বাবা দিবস অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে পালন করা হয়।


বিবার্তা/আদনান/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com