বিশ্বের সব প্রান্তে শুনি তোমার জয়ধ্বনি
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০১৬, ১৩:১৮
বিশ্বের সব প্রান্তে শুনি তোমার জয়ধ্বনি
জাকিয়া আক্তার যুথি
প্রিন্ট অ-অ+

শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশে আজ সারা বিশ্বে উন্নয়নের অনুকরণীয় মডেল আর ১৩১৪ মার্কিন ডলার মাথাপিছু আয় নিয়ে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত। বঙ্গোপসাগরে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল জুড়ে আমাদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত। বিচারহীনতার কলঙ্ক ঘুচিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু


শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। তাঁর অসম সাহসী ভূমিকার ফলেই একাত্তরের নরঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বিচারের রায় কার্যকর হচ্ছে।
বর্তমান অস্থির ও বিপদসংকুল বিশ্বে গণতন্ত্র, শিক্ষা, শান্তি ও দারিদ্র্যহ্রাসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি স্বরূপ জাতিসংঘ, ইউনেস্কো, এফএওসহ বিভিন্ন বিশ্বসংস্থা কর্তৃক অসংখ্য পুরস্কার এবং সম্মাননা লাভ করেছেন। বিশ্বের ছয়টি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং পরিবেশ উন্নয়নে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্যা আর্থ’ পুরস্কারও তিনি পেয়েছেন।


প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ৭০তম জন্মদিন বুধবার। বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছার প্রথম সন্তান তিনি। ১৯৪৭ সালের আজকের দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
জননেত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ ছয় বছর পরবাসে নির্বাসিত থেকে বিএনপি-জামায়াতের অনেক বাধাবিপত্তি, যাত্রাপথে চক্রান্তকারীদের নানাবিধ ভীতি প্রদর্শন, এমনকি জীবননাশের হুমকিকেও তোয়াক্কা না করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে লাখো কোটি জনতার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে স্বদেশের পবিত্র ভূমিতে পা রাখেন।
১৯৮১ সালের ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে জননেত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৎকালীন নেতাদের এটা ছিল এক দূরদর্শী, প্রজ্ঞাশীল ও বিকল্পহীন ত্যাগী সিদ্ধান্ত। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ প্রায় ছয় বছর পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে বাঙালি জাতির প্রাণের বিশ্বস্ত নির্ভীক ও দুঃসাহসিক নেত্রী শেখ হাসিনা ফিরে আসেন তার প্রিয় স্বদেশবাসীর কাছে। সেদিন ঢাকা কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে লাখ লাখ মুক্তিপ্রিয় জনতার ঢল নামে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও গণতন্ত্রের পুনঃযাত্রার জন্য এটা ছিল এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ঘটনা। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর স্বদেশের পবিত্র মাটিতে পা রেখেই আশাহত জাতিকে শোনালেন ‘আমি আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ার জন্য আসিনি। বাংলার মানুষের মুক্তিসংগ্রামে অংশ নিতে এসেছি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে আমি চির বঞ্চিত মানুষের পাশে থাকতে এসেছি।’
তিনি জাতির উদ্দেশে বললেন, ‘বাবা, মা, ভাই সব হারিয়েছি। আমার ছোট ভাইটিও ঘাতকদের বুলেটের নির্মম শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এবং দেশের অগ্রযাত্রা আঘাত থেকে মুক্তি পায়নি। আজ আপনারাই আমার পরম আত্মীয়। স্বামী-সংসার, ছেলে রেখে তাই আপনাদের কাছে এসেছি। আপনাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আশীর্বাদ নিয়ে আগামী দিনের সংগ্রামে নামতে চাই। মৃত্যুকে ভয় পাই না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের সংগ্রাম চলবেই’। স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিগুলো সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু সংগ্রাম করেছিলেন। আমি সেই পথ ধরে চলতে চাই। আদর্শের জন্য মরাও পুণ্যের কাজ।’
বঞ্চিত, অসহায়, শোকাহত ও দিশেহারা বাঙালি জাতি সেদিন প্রাণপ্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে তাদের মধ্যে ফিরে পেয়ে জেগে উঠেছিল নতুন আশায়, নতুন স্বপ্ন ও উদ্যমে। জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রথম ভাষণের দৃপ্ত উচ্চারণ ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও আদর্শ প্রতিষ্ঠার আপসহীন প্রতিশ্রুতি। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার মূল্যবোধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সবাইকে এগিয়ে যাওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।



বিশ্বের সব প্রান্তে শুনি তোমার জয়ধ্বনি
বিএনপি-জামায়াত জোটসহ দেশি-বিদেশি সব কুচক্রীর ১৯বার তাকে হত্যার অপচেষ্টা, উন্নয়ন কর্মে নানাবিধ বাধা সৃষ্টি, অপপ্রচার, মিথ্যাচার, নৃশংসতা, পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ সত্ত্বেও নিজ জীবন বাজি রেখে জাতির পিতার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করার মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম তিনি অব্যাহত রেখে গোটা জাতিকে ক্রমান্বয়ে সংঘবদ্ধ করে একের পর এক জাতিকে সাফল্য এনে দেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এক সাগর রক্তে অর্জিত বাংলাদেশ আমরা হারাতে বসেছিলাম কিন্তু আমাদের পরম সৌভাগ্য যে, মহান আল্লাহর অসীম কৃপায় বঙ্গবন্ধুরই সুযোগ্য সফল উত্তরসূরি ও বাঙালি জাতির আশা-আকাক্সক্ষার অনন্য প্রতীক বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসে সঠিক ও দুঃসাহসিক নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে পুনরুজ্জীবিত ও দ্রুত অগ্রগামী করছেন।
১৯৮১ থেকে ২০১৬, দীর্ঘ ৩৫ বছর পেরিয়ে গেল। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতার চেতনার পুনরুত্থানসহ যেসব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ১৯৯১ সালে তারই সুকৌশল নেতৃত্বে অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগকে তৎকালীন বৃহত্তম বিরোধী দল হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, দীর্ঘ একুশ বছর রাজনৈতিক সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে আওয়ামী লীগকে তিনবার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করা, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের খুনিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় এনে দোষীদের বিচার এবং কয়েকজনের ফাঁসির রায় কার্যকর করা ও বাকিদের বিরুদ্ধে রায় কার্যকর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও নিয়ম অনুসরণ করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ফাঁসির রায় কার্যকর করা এবং বাকিদের বিরুদ্ধে বিচার ও রায় কার্যকর করার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা জোরদারের মাধ্যমে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাঙালি জাতিকে একতাবদ্ধ করে বাংলার খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষদের দুর্দিন বদলে দিয়ে সুদিনের দোরগোড়ায় পৌঁছানো।
বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী সুদীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর ধরে নানা চড়াই-উৎরাই ও ত্যাগ-তিতিক্ষা উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ ও বাংলার গরিব-দুঃখী মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করে চলেছেন। আজকের সফল ও জনগণের নেত্রী শেখ হাসিনা কেবল তার পরিবার বা দলের নন, তিনি সব বাঙালির অতি আস্থাভাজন আপনজন।
রূপকল্প ২০২১ অনুযায়ী মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে ২০০৯ সাল থেকে দিন বদলের অঙ্গীকার নিয়ে তিনি যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছেন তা সত্যিই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আজ প্রশংসিত হচ্ছে। তার গতিশীল নেতৃত্বে জাতিসংঘে ঘোষিত মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট লক্ষ্যমাত্রা ২০১৫ সালেই অর্জিত হয়েছে এবং নতুনভাবে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ঘোষণা দিয়ে সে লক্ষ্যে গোটা জাতিকে নিবেদিত করেছেন।
বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের সুখীসুন্দর দেশ হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। তথ্যপ্রযুক্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুশিক্ষিত এবং বাস্তব প্রায়োগিক নীতিনির্ধারণে বিশেষজ্ঞ সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শ এবং সহায়তায় দেশে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে যুগান্তকারী বিপ্লব সাধিত হয়েছে। দেশ ২০৪১ সালের মধ্যে আশা করা যায় জননেত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় উন্নত বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্বমানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করবে।
জয়তু নন্দিত নেত্রী শেখ হাসিনা; বিশ্বসভায় শুনি তোমার জয়ধ্বনি।
লেখক: সাংবাদিক

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com