দেশে শেখ হাসিনাই একমাত্র রাজনীতিবিদ
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০১৬, ১৯:৪০
দেশে শেখ হাসিনাই একমাত্র রাজনীতিবিদ
সায়েম খান
প্রিন্ট অ-অ+

কিছুদিন ধরেই ভাবছি একটা লেখা লিখব। সময় হয়ে উঠছিল না। তাই লেখাটা মাথায় কিলবিল করলে কী-বোর্ড চালানোর সময় হয়ে ওঠেনি।


অনেক আগেই আমি এক বড় ভাইকে বলেছিলাম শেখ হাসিনা রাজনীতিতে মাস্টারপিস। রাজনীতিতে কেউ দেখে শেখে, কেউ ঠেকে শেখে। একভাবে শিখলেই হয়তো অনেকে মনে করে রাজনীতির পাঠ চুকে গেছে। কিন্তু শেখ হাসিনাই হয়তো বাংলাদেশে একমাত্র, যিনি রাজনীতিবিদ্যাকে চলমান রেখে উভয় পাঠের পাঠক। তিনি বাবাকে দেখে শিখেছেন রাজনীতি। কিন্তু ১৯৭৫-এর বিভীষিকাময় ঘটনার পর কোনো পূর্ববর্তী বার্তা না নিয়ে হঠাৎ করে ঠেকে শেখা রাজনীতি শুরু। আর ১৯৮১ সালের পর থেকে তাঁর দেখা ও ঠেকাবিদ্যার যৌথ সমন্বয়ে ‘রাজনীতি এক্সপ্রেস’ চালনা করছেন। শুরুর দিকে বিভিন্ন কারণে গতি একটু ধীর হলেও বর্তমানে তা দুর্দান্ত গতিতে ছুটে চলেছে।


১৯৯৬ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় অনেক সফলতার কথা আমরা পাঠ্য পুস্তকে পড়ে থাকি। আবার বক্তৃতায়ও শুনে থাকি। আমি যেহেতু আজকের লেখাটা ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও সাধারণের দৃষ্টিতে কীভাবে শেখ হাসিনা অনন্য, সেই দিক থেকে লিখছি তাই আগের ফিরিস্তি টেনে পরিসর বৃদ্ধি করতে চাই না।


আমি রাজনীতি করা বা বোঝা থেকে যা দেখেছি তাই-ই লিখব। যখন লেখাটা লিখছি তখন প্রথম আলো অনলাইন সংস্করণে দেখতে পেলাম, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইন্সটিটিউটের (আইআরআই)মতামত জরিপে উঠে এসেছে, ‘সরকারের চেয়েও জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’। এটা অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি আমার কাছে। আমার মনে হয়, বাংলাদেশে যা যে দলই করুক, এদেশে রাজনীতিবিদ একমাত্র শেখ হাসিনা, আর কোনো রাজনীতিবিদ নাই। আর যারা রাজনীতি করেন তারা রাজনৈতিক নেতা। রাজনীতির ময়দানে যে শ্রম দেয় সে কর্মী হলে রাজনৈতিক কর্মী আর যে নেতা সে রাজনৈতিক নেতা। কিন্তু রাজনীতিবিদ ভিন্ন বিষয়। একজন কর্মীও রাজনীতিবিদ হতে পারে আবার অন্যদিকে একজন নেতা রাজনীতিবিদ নাও হতে পারেন।


রাজনীতিবিদ প্রপঞ্চটির সাথে প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা প্রভৃতি জড়িত। মোটা দাগে সংজ্ঞায়ন করতে গেলে বলতে হয়, যে রাজনৈতিক নেতা বা কর্মী প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার সাথে চলে, দূরদর্শী হয়ে ভিশন বা লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং সেটা বাস্তবায়নের জন্য ছুটে চলে, সে-ই রাজনীতিবিদ।


এবার দেখা যাক কেন শেখ হাসিনা রাজনীতিবিদ এবং অন্যরা কেন নয়? এর জন্য আমার উপস্থাপনায় প্রথম উপাদান ২০০৮ সালে যে নির্বাচন ছিল সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রধান দুটি দল - আওয়ামী লীগ আর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দল দুটির নির্বাচনী ইশতেহারের দিকে লক্ষ্য করলেই বুঝা যাবে। আওয়ামী লীগের ইশতেহারের স্লোগান ছিল, ‘দিন বদলের সনদ’। আর বিএনপির স্লোগান ছিল, ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’। একটি আশার, স্বপ্নের আরেকটি হতাশার, দুঃস্বপ্নের। একটি সময়কে ধরে সামনে এগিয়ে চলার, আরেকটি শুধুই পেছনে ফিরে দেখার।


পেছনে ফিরে তাকানোতে সমস্যা নেই যদি সেখানে সামনে এগিয়ে চলার রসদ থাকে। কিন্তু বিএনপি বা খালেদা জিয়া কেমন পেছনে ফিরে তাকালেন যাতে শুধুই হতাশা।


‘দেশ বাচাও মানুষ বাঁচাও’ - এই স্লোগানকে ধরে যদি আমরা এগিয়ে যাই তাহলে প্রথমে বুঝতে হবে দেশ ধ্বংসের কিনারাতে ছিল তা বাঁচানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এখন তত্ত্বাবধায়কের দুই বছর বাদে আগে ক্ষমতায় ছিল বিএনপি। দেশকে যদি মেরে থাকে তাহলে তাঁর জন্য বিএনপি প্রথমে দায়ী। আর তারা যদি যৌথ অংশীদারিত্ব দাবি করে তাহলে দুই বছর মেয়াদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সাথে নিতে পারে। ফলে যে হত্যাকারী সে-ই আবার ত্রাতারূপে আবির্ভূত হতে চায়। জনগণের হাতে অন্য অপশন থাকতে সেটা তারা মানবে কেন?


অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার ইশতেহারে ছিল, ডিজিটাল বাংলাদেশ, ভিশন-২০২১। এটা ছিল আশার, স্বপ্ন পূরণের। তাই জনগণ এটাই বেছে নিয়েছিল। যার নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য ছিল আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তাঁর সরকার সেটা পূরণ করার জন্য ছুটে চলেছে। এই যে একবিংশ শতাব্দীর নতুন রাজনীতি ধরতে পারা, যা শেখ হাসিনাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। তাই তো তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পিছপা হননি। মাথা নত করেননি অপশক্তির কাছে। আর নতুনরূপে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তিনি বিনির্মাণের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাদ দিয়ে মসৃণ গণতান্ত্রিক পথে হাঁটতে চাইলেন তখন বিএনপি-জামাতের তত্ত্বাবধায়কের দাবি এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্তের কৌশল এক হয়ে যাওয়ায় তারা সারা দেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে লাগল। তাদের লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক যাত্রা ব্যাহত করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বানচাল করা। আর সেই সময় দেশসেরা বুদ্ধিজীবীরা বলেছেন, আওয়ামী লীগ এই নির্বাচন করতে পারবে না, দেশ আরও সংকটের দিকে যাচ্ছে। ফলে শংকায় ছিলেন আওয়ামী লীগের উপর পর‌্যায় থেকে শুরু করে নিম্ন স্তরের কর্মী পর্যন্ত। সবার মনে ও মুখে একই প্রশ্ন, কী হতে যাচ্ছে!


এর মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন শেখ হাসিনা। সেই সময় আওয়ামী লীগের একজন ঘোর সমালোচনাকারী, বাংলাদেশের প্রগতিশীল ধারার একজন পরিচিত রাজনৈতিক নেতা আমাকে বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ এ নির্বাচন করতে পারবে না। আর যদি করেও ফেলে, ৬ মাসের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। দেশ আরও সংকটের দিকে যাচ্ছে’।


কিছু দিন আগে সেই রাজনৈতিক নেতার সাথে আমার দেখা। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ভাই, আপনার কথা তো ফলে নাই। শেখ হাসিনা নির্বাচনও করল, ক্ষমতায়ও থাকল। আর দেশ, সে তো আগের চেয়ে ঢের বেশি স্থিতিশীল’। সে আমাকে বলল, ‘দেখ, গত আট বছরে শেখ হাসিনা বড় কোনো মিসটেক করে নাই’।


আমি তাঁর কথা শুনে মনে মনে বললাম, ভাই, আমাদের সবার চোখ আছে, কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি নাই। তাই আমরা যদি শেখ হাসিনার দৃষ্টিভঙ্গিতে রাজনীতিটাকে দেখি তাহলেই সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। এই কারণে এদেশে শেখ হাসিনাই একমাত্র রাজনীতিবিদ।


লেখক : যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ


বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com