উইঘুর নিপীড়ন: ৩ চীনা রাজনীতিকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২০, ১১:৩৬
উইঘুর নিপীড়ন: ৩ চীনা রাজনীতিকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

চীনে উইঘুর মুসলিমদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগে উচ্চপদস্থ তিন চীনা রাজনীতিক ও এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের ভিসাও বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে এখবর জানিয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র জিনজিয়াংয়ের রাজনৈতিক ও আইনি কমিটির (এক্সপিএলসি) সেক্রেটারি ঝু হাইলুন এবং জিনজিয়াং পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরোর (এক্সপিএসবি) বর্তমান পার্টির সেক্রেটারি ওয়াং মিংশানের উপরেও এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন জিনজিয়াংয়ের কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় পলিটব্যুরো সদস্য চেন কোয়াঙ্গুও। চেনের বিরুদ্ধে উইঘুরসহ অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নজরদারি, বন্দি করা, জোর করে ধর্ম পরিবর্তনের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।


শিনজিয়াং প্রদেশে প্রায় ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে আটক করে রেখেছে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি। তাদেরকে ক্যাম্পে বন্দি করা হয়েছে। চীন অবশ্য বন্দি শব্দটিতে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, উইঘুরদের মনোজগৎ থেকে জঙ্গিবাদ নিশ্চিহ্ন করতেই তাদের 'বৃত্তিমূলক শিক্ষা'র ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে।


কিন্তু ক্যাম্প থেকে পালানো উইঘুরদের বক্তব্য, সেখানে তাদের উপর নানা অত্যাচার চালানো হয়েছে। জোর করে, অত্যাচার চালিয়ে অপরাধ স্বীকারের ফর্মে সই করতে বাধ্য করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য স্টেরিলাইজও করা হচ্ছে ক্যাম্পে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের বক্তব্য, যে কায়দায় চীন এ কাজ করছে, তাতে একটি গোটা সম্প্রদায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে।


মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, পরিকল্পনা করে ভয়াবহ অত্যাচার চালানো হয়েছে একটি সম্প্রদায়ের উপর। যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলো।


যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এই ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনোরকম আর্থিক লেনদেন অপরাধ বলে চিহ্নিত হবে। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রে এই ব্যক্তিদের কোনও সম্পত্তি থাকলে তা আপাতত ফ্রিজ করা হবে। এই চার ব্যক্তির বাইরেও শিনজিয়াংয়ের বেশ কিছু কমিউনিস্ট নেতাকে ভিসা দেওয়া হবে না বলে মার্কিন সূত্র জানাচ্ছে।


চেন কুয়ানগুও এর আগে দীর্ঘ দিন তিব্বতে দায়িত্ব সামলেছেন। সেখানে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের উপরেও একই রকম নির্যাতন তিনি চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


সম্প্রতি মাইক পম্পেও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির এই নিপীড়নকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে দেখা যাওয়া সবচেয়ে তীব্র নৃশংসতা বলেও আখ্যা দিয়েছেন। মানবাধিকারের এতটা লঙ্ঘন এর আগে দেখা যায়নি বলে নিন্দা করেছেন তিনি।


যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্টিভেন মানুচিন এই প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে বলেছেন, জিনজিয়াং ও বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার নির্যাতনকারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র তার ক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করবে।


বিবার্তা/এসএ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com