১৩ দেশে ১৫০ কন্টেইনার প্লাস্টিক বর্জ্য ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২০, ১২:৪৮
১৩ দেশে ১৫০ কন্টেইনার প্লাস্টিক বর্জ্য ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

১৫০ কন্টেইনারে করে ৩ হাজার ৭৩৭ মেট্রিক টন বর্জ্য ১৩ টি দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। গত বছরের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত এসব প্লাস্টিক বর্জ্য ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অবৈধভাবে দেশটিতে আমদানি করা হয়েছিলো প্লাস্টিক বর্জ্যগুলো।


এর মধ্যে ৪৩ কন্টেইনার বর্জ্য গেছে ফ্রান্সে, ৪২ কন্টেইনার যুক্তরাজ্যে, ১৭ কন্টেইনার যুক্তরাষ্ট্রে, ১১ টি কানাডায়, ১০ টি স্পেনে এবং বাদবাকি বর্জ্য হংকং, জাপান, সিঙ্গাপুর, পর্তুগাল, চীন, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা এবং লিথুনিয়ায় গেছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার পরিবেশমন্ত্রী।


মালয়েশিয়া ‘বিশ্বের ময়লার ভাগাড়’ হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী ইয়েও বে ইন। এ বছরের মাঝামাঝিতে আরো ১১০ কন্টেইনার বর্জ্য ফেরত পাঠানো হবে এবং এর মধ্যে ৬০ টি কন্টেইনার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


স্কাই নিউজ জানিয়েছে, চীন প্লাস্টিক বর্জ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার পর ২০১৮ সাল থেকে মালয়েশিয়া হয়ে ওঠে এসব বর্জ্যরে অন্যতম ঠিকানা। লাইসেন্স ছাড়াই দেশটিতে গজিয়ে ওঠে প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইক্লিংয়ের (পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করা) বেশকিছু কারখানা।


এরপর মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ এসব বর্জ্য রপ্তানিতে জড়িত দেশগুলোকে চিহ্নিত করে এবং গতবছর হাজার হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য ফের সেইসব দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে ঘোষণা দেয়। সে সময় ভর্ৎসনার সুরে পরিবেশমন্ত্রী বলেছিলেন, যে কোনো উন্নত দেশের নাগরিকদের মত মালয়েশিয়ার নাগরিকদেরও টেকসই সম্পদ, বিশুদ্ধ পানি, বাতাস ও পরিবেশের অধিকার আছে।


মালয়েশিয়া বিভিন্ন বন্দর দিয়ে বর্জ্য চোরাচালান রোধ করা এবং ২শ’টি প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইক্লিং কারখানা বন্ধের পদক্ষেপও এরই মধ্যে নিয়েছে। তাছাড়া, যেসব বর্জ্য ফেরত দেওয়া হয়েছে সেগুলো রপ্তানি ও আমদানীকারকদের অর্থায়নেই ফেরত পাঠানো হয়েছে।


ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন প্লাস্টিক আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরই মূলত বিভিন্ন চীনা প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ামুখী হয়েছে। এবং কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক আমদানি করা হচ্ছে দেশটিতে।


যুক্তরাজ্যে যেসব প্লাস্টিক বর্জ্য ফেরত পাঠানো হচ্ছে সেগুলো দিয়ে কী করা হবে তা স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব প্লাস্টিক আবার ঘুরেফিরে অন্য দেশেই যাবে। এগুলোর স্থান হতে পারে পোল্যান্ড অথবা ইন্দোনেশিয়ায়। কারণ, এ দেশ দুটিতেও ব্যাপকভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হয়। যুক্তরাজ্য তার প্লাস্টিক বর্জ্যরে দুই-তৃতীয়াংশই বাইরের দেশে রফতানি করে থাকে।


তবে যুক্তরাজ্যের পরিবেশমন্ত্রী নিশ্চিত করে বলেছেন, এসব প্লাস্টিক বর্জ্য ফেরত আসার দায় একমাত্র সেই কোম্পানির যারা প্রথমে রফতানি করেছে।


মালয়েশিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন, তারা নিকট ভবিষ্যতে আরো ১১০ কন্টেইনার ভর্তি প্লাস্টিক বর্জ্য ফেরত পাঠাতে সক্ষম হবেন। যার মধ্যে ৬০ কন্টেইনার প্লাস্টিক এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।


মালয়েশিয়ার পরিবেশমন্ত্রী ইও বি ইন বলেছেন, মালয়েশিয়া যাতে বিশ্বের প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার ভাগাড়ে পরিণত না, সেজন্য যা যা করণীয় তা-ই করা হবে। তিনি আরো বলেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয় প্লাস্টিক বর্জ্যসহ সব ধরনের দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখবে।


রফতানিকারক দেশ ও আমদানি সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্তৃপক্ষকেই এসব কন্টেইনার ফেরতের খরচ বহন করতে হবে বলেও জানিয়েছে মালয়েশিয়া। এ বিষয়ে পরিবেশমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এজন্য আমরা একটি কানাকড়িও খরচ বহন করব না। আমরা এটা দিতে বাধ্য নই।


তবে মালয়েশিয়ায়ই প্রথম কোনো দেশ নয়, যারা প্লাস্টিক বর্জ্য সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে। এর আগে ইন্দোনেশিয়া শত শত কন্টেইনার ভর্তি প্লাস্টিক বর্জ্য উৎস দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। ফিলিপাইনও বিপুল পরিমাণ বর্জ্য কানাডাতে ফেরত পাঠিয়েছে।


বিবার্তা/এনকে

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com