মায়ের মতো আপন কেহ নাই
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৫:২০
মায়ের মতো আপন কেহ নাই
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

আমি আমার পরিচিত অনেক মানুষকে দেখেছি নিজের বাবা-মা'র পরিচয় দিতে সঙ্কোচবোধ করে। নিজে হয়তো বড় অফিসার হয়ে গেছে; সকাল বিকাল ক্লাবে যায়, পার্টি করে বেড়ায়, কিন্তু বাবা-মা'র প্রশ্ন উঠলে এড়িয়ে যায়! ভাবখানা এমন, বাবা-মা'র পরিচয় জেনে গেলে মান-সম্মান চলে যাবে! এই বাবা-মা হয়তো গ্রামে গরীব কৃষক, লেখাপড়া জানে না; তাই এতো সঙ্কোচ।


পত্রিকায় পড়লাম, কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে নৌকা ডুবে যাওয়ার পর এক মা নিজে ডুবে গিয়েছেন, কিন্তু ডুবতে দেননি তার তিন বছরের ছেলেকে। কোনো এক অদ্ভুত উপায়ে মা তার ছেলেকে নিজের শরীরের উপরে ভাসিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। মা বাঁচতে পারেননি, কিন্তু শিশুটি বেঁচে গেছে।


আবার আরেক খবরে জানতে পেরেছি, এক ছেলে নতুন মোটর সাইকেল না পেয়ে নিজের বাবা-মা'র শরীরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। ওই ছেলের শরীরেও নাকি কিছুটা আগুন লেগেছিলো। যে সন্তান মায়ের শরীরে আগুন দিয়েছে, যে আগুনে মা পুড়ছিলেন, সে আগুনে পুড়তে থাকা মা তার ছেলের শরীরে যাতে আগুন না লাগে সেই চেষ্টা করেছেন।


এই হচ্ছেন মা। বাবা-মায়ের পরিচয় কেবলই বাবা-মা; গরীব কৃষক, শ্রমিক কিংবা বড় অফিসার নয়।


আমি মোটামুটি শিক্ষিত পরিবার থেকে উঠে এসছি। কিন্তু কোনো এক কারনে আমার মা পড়াশোনা জানেন না। আমার মা যখন বিদেশে আমার এখানে এসেছিলেন চিকিৎসার জন্য, তখন মায়ের রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করেছিলাম। যে বিদেশি মায়ের ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন, তিনি মাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন (দোভাষীর সহায়তায়), আপনি পরে কেন লেখাপড়া শিখে নেননি?


মা উত্তর দিয়েছিলেন, তার আর দরকার হয়নি; আমি আমার সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়েছি, আমি তাদের চোখ দিয়েই সবকিছু লিখতে-পড়তে পারি।


যে লোকটি ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন, তিনি বাইরে এসে আমাকে খুঁজে বের করে বলেছিলেন, তোমার মা তার সন্তানদের মানুষ করতে পেরেছেন। তাই তিনি তোমাদের উপর নির্ভর করতে পারছেন।


এই ভিনদেশি লোকটির কথা আমার আজীবন মনে থাকবে। আমি জানি না, আমরা ভাই-বোনরা কতটুকু মানুষ হতে পেরেছি। আমরা ছয় ভাইবোনের সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছি এবং আমার মা যে অক্ষরজ্ঞানহীন সেটা বলতে জীবনে কখনো কোনো দিন দ্বিধা বোধ করিনি। কারণ, আমাদের কাছে তাঁর পরিচয় কেবলই মা। যার কাছে শত বিপদেও আশ্রয় পাওয়া যায়। পুরো পৃথিবী যখন আপনাকে ভুল বুঝবে, তখনও জেনে রাখবেন, আপনার মা আপনাকে ভুল বুঝবেন না, আগলিয়ে রাখবেন।


যে সন্তানটি আজ বন্ধু-বান্ধব কিংবা ক্লাব, পার্টির পাল্লায় পড়ে নিজের বাবা-মায়ের পরিচয় দিতে সঙ্কোচ বোধ করছে, সেই সন্তান যদি কাল কোনো বিপদে পড়ে, নিশ্চিত জেনে রাখুন, আর কেউ না, ওই বাবা-মা'ই সবার আগে এগিয়ে আসবেন।


আমিনুল ইসলামের ফেসবুক থেকে


বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন



সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com