১ জুলাই শতবর্ষে পা দিচ্ছে ঢাবি
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২০, ১১:৩৩
১ জুলাই শতবর্ষে পা দিচ্ছে ঢাবি
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

দেশের প্রাচীনতম এবং শীর্ষ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বুধবার (১ জুলাই) ১০০ বছরে পা দিচ্ছে। দেশব্যাপী চলমান করোনাভাইরাসের মাহমারির উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বল্পপরিসরে দিবসটি উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।


কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ওদিন সকাল সাড়ে ১০টায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়ানো এবং সকাল ১১টায় অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনলাইন ভার্চুয়াল মিটিং প্ল্যাটফর্ম জুমের মাধ্যমে আলোচনা সভা।


আলোচনা সভায় জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সংযুক্ত হয়ে “শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রসঙ্গ : আন্দোলন ও সংগ্রাম” শীর্ষক মূল বক্তব্য প্রদান করবেন। এছাড়া, এই অনলাইন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), কোষাধ্যক্ষ, প্রাক্তন দু’জন উপাচার্য, দু’জন ডিন, একজন প্রভোস্ট, একজন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট, ঢাবি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ঢাবি শিক্ষক সমিতিসহ অন্যান্য সমিতির পক্ষ থেকে নেতৃবৃন্দ সংযুক্ত হবেন।


দিবসটি উপলক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান শুভেচ্ছা বাণী প্রদান করেছেন। সোমবার (২৯ জুন) বাণীতে তিনি বলেন, করোনার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লোকসমাবেশ এড়িয়ে প্রাণপ্রিয় ছাত্র-ছাত্রীবিহীন স্বল্পপরিসরে প্রতিষ্ঠা বার্ষিক আয়োজনে, নি:সন্দেহে, আনন্দ, প্রশান্তি ও স্বস্তির ঘাটতি অনস্বীকার্য। তবে মুজিববর্ষের এই অলোকসামান্য কালপর্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর ও ব্যাপক। প্রকৃতপক্ষে, বঙ্গবন্ধু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ নামক আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমির দুই অন্তহীন প্রেরণা-উৎস।


বাণীতে তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে পালিত হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২০ লাভ করেছে এক অনন্য মাত্রা। প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উদযাপনের বিরল সৌভাগ্য-প্রাপ্তির পূর্বক্ষণে মুজিববর্ষ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চিরঅম্লান আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তাই বিশ্ববিধ্বংসী কোভিড-১৯ ভাইরাসের তীব্রতর সংক্রমণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের এই কালে আমরা মহান সৃষ্টিকর্তার করুণার পর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন থেকেই সাহস অর্জন করি; অসাম্প্রদায়িক, মানবিক সেবায় এগিয়ে আসি।


ঢাবি প্রতিষ্ঠার ইতিহাস


১৯১২ সালের ৩০ জানুয়ারি পূর্ব বাংলায় উচ্চশিক্ষার আলো জ্বালাতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তোলে নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক প্রমুখের নেতৃত্বাধীন একটি দল। তিনদিন পর ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন লর্ড হার্ডিঞ্জ।


একই বছরের মে মাসে স্যার রবার্ট নাথানিয়েলের নেতৃত্বে গঠিত ১৩ সদস্যের নাথান কমিশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি সম্পর্কে ইতিবাচক প্রতিবেদন দিলে ডিসেম্বর মাসে তা অনুমোদন পায়। পরে ১৯১৭ সালে গঠিত স্যাডলার কমিশনও এ ব্যাপারে ইতিবাচক প্রতিবেদন দেয়। ১৯২০ সালের ২৩ মার্চ ভারতীয় আইনসভা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন (অ্যাক্ট নং ১৩) ১৯২০ পাস করে।


১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। এর যাত্রা শুরু হয়েছিল তিনটি অনুষদ, ১২টি বিভাগ, তিনটি আবাসিক হল, ৬০ জন শিক্ষক ও ৮৭৭ শিক্ষার্থীকে নিয়ে।


বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩টি অনুষদ, ৮৪টি বিভাগ, ১২টি ইনস্টিটিউট, ৫৪টি গবেষণা কেন্দ্র ও ব্যুরো, ২০টি আবাসিক হল ও তিনটি হোস্টেল রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৯ হাজার ৪৯৬ জন এবং শিক্ষক সংখ্যা এক হাজার ৯৯৯ জন।


৬০০ একর জমি নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। বর্তমানে এর জমির পরিমাণ ২৭৫.০৮৩ একর।


বিবার্তা/রাসেল/এনকে

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com