প্রতারণার নাম ব্যাংকিং নয়
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০১৬, ১৮:৩৫
প্রতারণার নাম ব্যাংকিং নয়
প্রিন্ট অ-অ+

ব্যাংক বলতে আমরা সাধারণত বুঝি এমন একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে, যে প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ সঞ্চয় হিসেবে জমা নেয়, ব্যবসা করে, আমাদেরও ব্যবসার জন্য ঋণ দেয় ইত্যাদি। ব্যাংক শব্দটির আভিধানিক অর্থও তাই - ভরসা করা। মানুষ ব্যংককে বিশ্বাস করে, ব্যাংকের ওপর ভরসা করে। এই আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর ভর করেই গতিশীল থাকে দেশের অর্থনীতি। সেই বিশ্বাসের জায়গাটি যখন নষ্ট হয়ে যায়, তখন আর যাওয়ার জায়গা কোথায়?



দৈনিক যুগান্তর-এ গত ১ অক্টোবর প্রকাশিত একটি রিপোর্ট আমাদের তেমনই এক বিপণ্ণতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো কৌশলে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে।



প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে প্রায় ৮ থেকে ১০ রকমের গোপন চার্জ কাটা হচ্ছে। একটি ঋণ অনুমোদনে ১১ শতাংশ সুদের কথা উল্লেখ করা হলেও এটি ওভার ডিও হলে মূল সুদের সঙ্গে আরও ১ থেকে ২ শতাংশ বেশি সুদ কাটা হচ্ছে। অতিরিক্ত সুদের খবর গ্রাহক জানেন না। ব্যাংকের গ্রাহকসংশ্লিষ্ট যে কোনো কাজ তৈরি বা সম্পন্ন (প্রসেসিং) করতে গ্রাহকের অজান্তে নেয়া হচ্ছে ১ থেকে ২ শতাংশ সেবা চার্জ। ডকুমেন্ট সরবরাহ ফি বাবদ নেয়া হচ্ছে অনেক টাকা, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রাহক জানেন না। সুইফট মেসেজ পাঠাতে মূল খরচের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি সেবা চার্জ কাটা হচ্ছে। এটিও গ্রাহক জানেন না। প্রতি মাসে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট সরবরাহ ফি নেয়ার কোনো বিধান না থাকলেও ব্যাংকগুলো গ্রাহকের অজান্তে তাও কেটে নিচ্ছে। একইভাবে সেভিং অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট বছরে সরবরাহ করতে হয় দু’বার। এ জন্য কোনো ফি নেয়ার বিধান না থাকলেও অনেক ব্যাংক নিচ্ছে প্রায় ৫০০ টাকা। এসএমএস ফি নেয়ার বিধান নেই। তবুও এসএমএস ফি নিচ্ছে। এভাবে নানা গোপন কাটাকাটির শেষ নেই।



প্রতিবেদনে প্রতারণার উদাহরণ দিয়ে লেখা হয়, চলতি বছরের শুরুর দিকে একজন গ্রাহক সিটি ব্যাংকে একটি সেভিং অ্যাকাউন্ট খোলেন । পরে উচ্চশিক্ষায় বিদেশ যেতে আরও একটি ‘স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট’ খোলেন তিনি। খোলার সময় অ্যাকাউন্টে রাখা হয় ৭ হাজার টাকা। বর্তমানে তার অ্যাকাউন্টে আছে মাত্র ৬২৮ টাকা। এর মধ্যে শুধু এসএমএস রেজিস্ট্রেশন বাবদই কেটে নেয়া হয় ৩৪৫ টাকা। যা গ্রাহক জানেন না। এ ছাড়া বাকি টাকা ফরেন ফাইল খোলা বাবদ কাটা হয়েছে। যা নির্ধারিত সেবা চার্জের তুলনায় অনেক বেশি। এটি গ্রাহক জানতে পারেন তখন, যখন সব কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। শুধু সিটি ব্যাংক নয়, এভাবে প্রায় ৫৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে গোপন চার্জ কাটার অভিযোগ রয়েছে।



কী ভয়ঙ্কর প্রতারণা! প্রতিবেদনে প্রতারণার আরো অনেক দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে, বাহুল্যভয়ে আমরা তা উল্লেখ থেকে বিরত থাকছি। তবে স্বাভাবিক হোক অথবা বাহুল্য - যেটাই হোক, এ কথাটা না বলে পারছি না যে, এই প্রতারণার নাম ব্যাংকিং নয়, হতে পারে না। এটা সন্দেহাতীতভাবে ক্রাইম।



এমনিতে গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংকিং খাতের কেলেংকারীর খবর শুনতে শুনতে আমরা অতিষ্ঠ। এর ওপর গণবিরোধী ও অর্থনীতিবিনাশী এই খবর আমাদের আরো বিপণ্ণ করে দিয়েছে। আমরা তাই বলতে চাই, অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সকল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই মুহূর্তে সক্রিয় হোক। বন্ধ হোক ব্যাংকিংয়ের নামে এই গণবিরোধী কর্মকাণ্ড।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com