
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ধান চাষের খরচ আর কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে যখন হতাশ অনেক কৃষক, ঠিক তখনই কম জমিতে ও স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফা পেতে নতুন দিশা দেখাচ্ছে মিশ্র সবজি চাষ। একই জমিতে আগাম এই শীতকালীন শাকসবজির পাশাপাশি মরিচ ও বেগুন চাষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে দারুণ সাফল্য পাচ্ছেন কৃষকরা।
কৃষি বিভাগ থেকে দেয়া হচ্ছে পরামর্শ। কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলছেন, মিশ্রচাষ করলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়, পোকামাকড়ের আক্রমণ কমে এবং ফলন বাড়ে।এসময়ে টমেটো গাছের মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় খুব দ্রুত বর্ধনশীল শাক বা মুলা চাষ করা যায়। বাঁধাকপি বা ফুলকপির চারা লাগানোর পর মাঠের ফাঁকা মাটিতে ধনেপাতা বা লালশাক ছড়িয়ে দেওয়া যায়।
ধনেপাতার উগ্র গন্ধ অনেক ক্ষতিকারক পোকাকে দূরে রাখে। বেগুন একটি সোজা ও শক্ত গাছ, অন্যদিকে করলা বা শসা লতাজাতীয় ফসল। বেগুন ক্ষেতের আইলে বা মাচা তৈরি করে নিচে বেগুন এবং ওপরে করলা/শসা চাষ করা যায়। এতে একই জমি থেকে দুই ধরনের ফসল পাওয়া যায়। লাউ বা মিষ্টি কুমড়ার মাচার নিচের জমিতে পেঁয়াজ বা রসুন লাগালে মাটির নিচের বিভিন্ন ছত্রাকজনিত রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কমে। ভুট্টার শক্ত গাছগুলো লতাজাতীয় বরবটি বা শিমের জন্য প্রাকৃতিক মাচার কাজ করে। আবার শিমজাতীয় গাছ মাটি থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে ভুট্টার পুষ্টি জোগায়।
তবে চাষাবাদে কিছু চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়ে কৃষকরা বলেন, সুলি, পোকা ও পচন ধরার সমস্যা এড়াতে প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত কীটনাশক বা ওষুধ দিতে হয়।
এই সমস্যার সমাধানে কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সবজির জমিতে পোকা খাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে সাইপারমেথ্রিন, ক্লোরোপাইরিফস বা ল্যামডা সাইহ্যালোথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। এছাড়াও যারা এখনো জমি প্রস্তুতের কাজ করছেন, তারা জমি চাষের পূর্বে জৈব সারের সাথে ট্রাইকোডার্মা পাউডার মিশিয়ে রাখতে হবে এরপর জমির শেষ চাষে উক্ত জৈব সার ব্যবহার জরলে পচন প্রতিরোধ হবে বলে পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা।
সরেজমিনে উপজেলা রমনা মডেল ইউনিয়নের চর পাত্রখাতা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মিশ্র সবজি চাষের জমিতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কৃষকরা। অনেকেই তাদের উৎপাদিত শাক বাজারের বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন। আবার অনেকে শাক সবজির পরিচর্যার কাজ করছেন।
এসময় কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, মাত্র ৩ শতক জমিতে চাষ বাবদ ২০০ টাকা, সার-ওষুধ বাবদ ২০০ টাকা এবং ৫০ টাকার বীজ—সব মিলিয়ে সামান্য পুঁজিতে তিনি লাল শাক ও মুলা শাক চাষ করেছেন। চৈত্র মাসের দিকে লাগানো এই প্রথম আবাদের শাক তোলার উপযোগী হয়েছে। জাহিদুলের মতে, শাক বিক্রির টাকা দিয়েই মরিচ আর বেগুনের পুরো খরচ উঠে যাবে। ৩৬ শতক জমির শাক অনায়াসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
কৃষক রহমুদ্দি বলেন, ৫ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে যে লাভ হয়, তার চেয়ে শাক চাষে অনেক বেশি লাভ পাওয়া যায়। ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকার শাক বিক্রি করেছি। শীতের সময়ে এই আবাদ আরও ভালো হয়।
পাত্রখাতা এলাকার মাজেদুল ইসলামের স্ত্রী তাহমিনা বেগম জানিয়েছেন, সংসারের অন্যান্য কাজের ফাঁকে আমি আমার স্বামীর সাথে প্রতিদিন নিয়ম করে সবজি ক্ষেতে সময় দিই এবং পরিচর্যায় সহযোগিতা করি। আমাদের এই ক্ষেতে এক খরচে একাধিক ফলন পাওয়া যায়, যা আমাদের বাড়তি আয়ের জোগান দিচ্ছে।
চিলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, এ বছর মিশ্র পদ্ধতিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ১২০ হেক্টর। ইতোমধ্যে প্রায় ৪৫ হেক্টর জমিতে মিশ্র পদ্ধতিতে সবজি চাষ হয়েছে।
বিবার্তা/রাফি/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]