জামায়াত নেতাকর্মীদের বাধা, নারীদের খোঁড়া কবরে দাফন হল মুক্তিযোদ্ধার
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫০
জামায়াত নেতাকর্মীদের বাধা, নারীদের খোঁড়া কবরে দাফন হল মুক্তিযোদ্ধার
পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

একবার কবর খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু বাধার মুখে সেই কবর আবার ভরাট করে দেওয়া হয়। পরে দ্বিতীয়বার কবর খুঁড়তে হয়। জামায়াত নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে শেষ পর্যন্ত পরিবারের নারী সদস্যরাই কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন। মরদেহ দাফনের সময় পাশে ছিলেন না কোনো পুরুষ স্বজন। স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের নারীদের খোঁড়া কবরে গভীর রাতে দাফন করা হয় মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে জামায়াত নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের বাধা-উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় মৃত্যুর প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর তার দাফন সম্পন্ন হয়।


মানিক পশারীর বোন বলেন, “আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।”


এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। দুপুর ১২টার দিকে তার মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হলে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের বিরোধিতার মুখে পড়েন স্বজনরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে মরদেহ রাখা হয় পুলিশ লাইনসে। বিকেল ৫টার দিকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর সদর থানা পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় মরদেহ রাখা হয়।


রাত ১টার দিকে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহযোগিতায় মরদেহ চিতলিয়া গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। এরপর পরিবারের নারী সদস্যরা কবর খুঁড়ে দাফনের প্রস্তুতি নেন। রাত ২টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়।


এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে জেলা জামায়াত বা এর অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতা বাধা দেননি।’ তার ভাষ্য, স্থানীয়রা দাফনে বাধা দিয়েছিলেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং এ ঘটনায় জামায়াতের নেতাদের দায় না আসার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন। পরে সদর থানা পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে দাফন সম্পন্ন করা হয়।


পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


উল্লেখ্য, মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন।


২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি প্রথমে যশোরে এবং পরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে আশ্রয় নেন। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর তার মৃত্যু হয়।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com