ঘাটাইলে গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩২
ঘাটাইলে গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের ঘোড়াদহ খালপাড় পাকা সড়ক থেকে শরাতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কাদায় একাকার হয়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েক গ্রামের মানুষ।


স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটি সংস্কার বা পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা এলেই সড়কটি কাদা ও পানিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ পথচারীসহ কয়েক হাজার মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।


স্থানীয়রা জানান, লাল মাটির কাঁচা সড়কটির বেহাল দশার কারণে এলাকার স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। কাদা-পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে তাদের পোশাক নষ্ট হয়। অনেক সময় সড়কের দুরবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না।


সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী থাকায় সরাশাক, মুসুল্লিপাড়া ও কামারপাড়াসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের কৃষকরাও বিপাকে পড়েছেন। মাঠ থেকে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়ার সময় অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। অনেক সময় কাদায় যানবাহন আটকে যায়, এমনকি দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটে। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।


স্থানীয় কৃষক রমেশ কোচ বলেন, “বর্ষাকালে মাঠ থেকে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক বেশি খরচ হয়। সড়কে কাদা থাকায় গাড়ি চলতে চায় না। অনেক সময় গাড়ি আটকে যায়, আবার উল্টেও পড়ে। এতে আমাদের পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতি হয়।”


স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আনিসুর রহমান বলেন, “সড়কটি শুধু একটি গ্রামের যোগাযোগের মাধ্যম নয়; আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বছরের পর বছর সড়কটি পাকা না হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।”


শরাতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃদুল চন্দ্র ঘোষ বলেন, “আমার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। বর্ষা শুরু হলেই কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী কাদা মাড়িয়ে আসতে না পেরে অনুপস্থিত থাকে। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তাদের লেখাপড়ায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।”


এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় এক কিলোমিটার এই গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়কটি দ্রুত পাকাকরণ করা হলে কয়েক গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ হবে এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে স্বাভাবিক গতি ফিরবে। জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।


বিবার্তা/বাবু/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com