
ফরিদপুরের সালথায় দেবরকে সঙ্গে নিয়ে স্বামী নুরুল ইসলাম মোল্লাকে (৩৬) কুপিয়ে হত্যার দায়ে মুন্নি বেগম (৩৫) ও নিহতের ছোট ভাই মাহাবুল মোল্লাকে (৩৪) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তাদেরকে আরও দুই মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) অশোক কুমার দত্ত এ রায় দেন। রায় প্রদানের সময় আদালতে মুন্নি বেগম হাজির ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে নেওয়া হয়। অপর আসামি মাহাবুল মোল্লা আদালতে হাজির না থাকায় তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত মুন্নি বেগম (৩৫) ও মাহাবুল মোল্লা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের পুরুরা গ্রামের বাসিন্দা। তারা পরস্পর সম্পর্কে দেবর-ভাবি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ রাত ৯টার দিকে খাবার খেয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ বসতঘরে ঘুমাতে যান নুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মুন্নি বেগম। ওইদিন দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে মুন্নি বেগমের চিৎকারে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এসে দেখেন ঘরের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় নুরুল ইসলামের মরদেহ পড়ে আছে।
এ ঘটনার দুই দিন পর ১৯ মার্চ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে সালথা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা মান্নান মোল্লা।
মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন। তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার নুরুল ইসলামের ছোট ভাই মাহাবুল মোল্লা ও নুরুল ইসলামের স্ত্রী মুন্নি বেগমকে অভিযুক্ত করে ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আজিজুর রহমান বলেন, ভাবি ও দেবর মিলে পরস্পর যোগসাজশে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় তারা। দুজনের ব্যক্তিগত লাভের কারণে পথের কাটা দূর করার জন্য মাহাবুলকে হত্যা করেন।
তিনি বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এর ফলে দেশে এ জাতীয় অপরাধ কমে আসবে বলে আশা করা যায়।
বিবার্তা/এসএম
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]