ভূঞাপুরে চাঁদা দাবির অভিযোগের পর জুট মিল ম্যানেজারের মৃত্যু, ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ২১:৫৯
ভূঞাপুরে চাঁদা দাবির অভিযোগের পর জুট মিল ম্যানেজারের মৃত্যু, ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে চাঁদা দাবির হুমকির অভিযোগের দুই দিন পর জুট মিলের ম্যানেজার সাজিদুর রহমান ওরফে শাহজাহান (৫৫) আকস্মিকভাবে মারা গেছেন। এ ঘটনায় চাঁদা দাবির সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করায় স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।


গত সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার সারপলশিয়া মৌজায় অবস্থিত ফুড অফিসার্স যমুনা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড মিলে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাজিদুর রহমান ভূঞাপুর উপজেলার ভারই গ্রামের সাবেক পোস্টমাস্টার মৃত হাসান আলীর ছেলে।


মামলার এজাহার ও মিল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, পাথাইলকান্দি গ্রামের ওয়ারেস, সারপলশিয়া গ্রামের শামীম এবং পাথাইলকান্দি গ্রামের লিখনসহ কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে ম্যানেজার সাজিদুর রহমানের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ। গত ২২ আগস্ট অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে মিলে গিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে অসদাচরণ ও হুমকি দেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


এর দুই দিন পর ২৪ আগস্ট সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা আবারও মোটরসাইকেলযোগে মিলে গিয়ে ম্যানেজারকে খুঁজতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন মিলের শ্রমিকরা। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে সাজিদুর রহমান মিলের ভেতরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


এ ঘটনায় মিলের সুপারভাইজার মো. আক্তার হোসেন বাদী হয়ে ২৬ আগস্ট ভূঞাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।


মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, অভিযুক্তদের হুমকি ও চাঁদা দাবির কারণে সাজিদুর রহমান মানসিক চাপে ছিলেন। ওই চাপের মধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও চাঁদা দাবির সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন তাঁরা। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।


অভিযুক্ত ওয়ারেস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁরা দীর্ঘদিন যাবত সরকারি জায়গা লিজ নিয়ে এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে বালু ব্যবসার জন্য একটি রাস্তা তৈরি করেছেন। ওই রাস্তা দিয়ে জুট মিলের মালামাল আনা-নেওয়া ও আমাদের বালুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে মাঝেমধ্যে রাস্তা সংস্কার করতে হয়। এজন্য ম্যানেজারের কাছে টাকা চাইতে গিয়েছিলেন, চাঁদা দাবি করতে নয়।


এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম রেজাউল করিম বলেন, ঘটনায় চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ম্যানেজার স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তবে তদন্তে চাঁদা দাবিকারীদের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ময়নাতদন্ত না করার বিষয়ে ওসি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্তে আপত্তি থাকায় মরদেহ পারিবারিকভাবে ধর্মীয় রীতিতে দাফন করা হয়েছে।


তবে চাঁদা দাবির অভিযোগের পরপরই ম্যানেজারের আকস্মিক মৃত্যু এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে চাঁদা দাবির অভিযোগের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


বিবার্তা/বাবু /এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com