
সাভারের আশুলিয়ায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু আব্দুর রহমান তাসিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও এ ঘটনায় জড়িত মো. সাইফুল ইসলাম নামে ২৭ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে আশুলিয়া থানায় সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে আশুলিয়ার ভাদাইল পশ্চিমপাড়ার একটি ভবনের ছাদ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশু তাসিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে সাইফুল ইসলামের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি লাল শপিং ব্যাগ, দুই টুকরা ইলাস্টিক ও ছড়িয়ে থাকা চাল উদ্ধার করা হয়।
পরে সাইফুলকে গ্রেফতার করে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি শিশু তাসিনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাইফুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রথমে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময়ও তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন। তবে তথ্য-প্রমাণ ও আলামতের ভিত্তিতে আমরা নিশ্চিত ছিলাম, সাইফুল ঘটনার সঙ্গে জড়িত। পরে দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সাইফুল তার ভুল বুঝতে পেরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, শিশুটির বাবা শহিদ মিয়ার সঙ্গে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। গতকাল আদালতে তিনি এ বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, উদ্ধারের সময় শিশুটির গলায় লাল স্কচটেপ প্যাঁচানো এবং মুখের ভেতর চাল ও পলিথিন ঢোকানো ছিল। এছাড়া ফিতা দিয়ে দুই পা বাঁধা ছিল। সে রাতেই ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তার বাসা থেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা চাল, শিশুটির মুখে প্যাঁচানো স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ এবং ইলাস্টিকের ফিতার অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়।
পরদিন শিশুটির বাবার দায়ের করা মামলায় সাইফুলকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন।
ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, সাইফুলের ঘরেই শিশুটির হাত-পা ইলাস্টিকের ফিতা দিয়ে বাঁধা হয় এবং মুখে চাল ও পলিথিন ঢুকিয়ে নিস্তেজ করা হয়। পরে শিশুটির মুখে স্কচটেপ প্যাঁচানো হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হলে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মরদেহ কক্ষে ফেলে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় কক্ষে উচ্চশব্দে গান বাজান সাইফুল। সেসময় শিশুটির বাবা বেশ কয়েকবার সাইফুলের কক্ষে নক করেছিলেন। কিন্তু তিনি খোলেননি। পরে সময় বুঝে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি মরদেহটি ওই ভবনের ছাদে হাঁসের খামারের নেটের নিচে ফেলে আসে সাইফুল।
তিনি বলেন, শিশুটির বাবা শহিদ আগে পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। অভিযুক্ত সাইফুল মূলত বেকার। শিশুটির বাবার সঙ্গে কী কারণে তার শত্রুতা, তা আমরা এখনো বের করতে পারিনি। বিষয়টি নিয়ে আমরা আরও কাজ করছি।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]