‘তোমরা লেখবা, আর আমরা পিটাইমু’—সাংবাদিকদের উদ্দেশে শরীয়তপুর বিএনপি নেতা
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ২৩:৫৫
‘তোমরা লেখবা, আর আমরা পিটাইমু’—সাংবাদিকদের উদ্দেশে শরীয়তপুর বিএনপি নেতা
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) তাহসিনা বেগমের পক্ষে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহের সময় তিন সাংবাদিককে বিএনপির নেতাকর্মীরা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে শরীয়তপুর বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ‘শরীয়তপুরের সাধারণ জনগণ’-এর ব্যানারে একটি প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। তাদের অভিযোগ, রবিবার বিক্ষোভের নামে সাংবাদিকেরা ডিসিকে হেয় করেছেন। এ সময় হামলার ঘটনা ঘটে।


আহত সাংবাদিকরা হলেন—দ্য ডেইলি স্টারের শরীয়তপুর সংবাদদাতা জাহিদ হাসান, নিউজ২৪ ও জাগো নিউজের জেলা সংবাদদাতা বিধান মজুমদার ও দৈনিক মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ বরকত মোল্লা।


এ ঘটনায় মন্তব্যের জন্য আজ রাত ৯টা পর্যন্ত দ্য ডেইলি স্টারের পক্ষ থেকে ডিসি তাহসিনা বেগমের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।


শনিবার রাতে জেলা প্রশাসন শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের একটি সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেওয়ার পর রবিবার একদল সাংবাদিক ডিসির কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।


আজকের ঘটনায় আহত তিন সাংবাদিক অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ সমাবেশের ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণের সময় ১০ থেকে ১২ জন তাদের ওপর হামলা করেন।


তারা জানান, এ সময় তাদের ঘুষি, চড় ও লাথি মারা হয়।


আহত সাংবাদিকেরা শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।


সাংবাদিক জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমি ভিডিও ধারণ করার সময় জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা হঠাৎ আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং আমার আইডি কার্ড ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় তিনি আমাকে চড় ও ঘুষি মারেন।’


নিউজ২৪ ও জাগো নিউজের জেলা সংবাদদাতা বিধান মজুমদার অভিযোগ করেন, বিএনপির একটি দল তাদের প্রতিবাদ সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহের সময় তার ওপর হামলা চালায়।


তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় চলে যাই।’


আরেক সাংবাদিক বরকত মোল্লা অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতা আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল বিক্ষোভকারী সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহের সময় তার ওপর হামলা চালালে তার বাঁ হাতে আঘাত লাগে।


সাংবাদিকদের মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আরিফুজ্জামান মোল্লা প্রথমে গণ্যমাধ্যমে বলেন, কোনো সাংবাদিককে মারিনি আমরা। একসঙ্গে ওদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। হাতের মোবাইল পড়ে গেছে।


সাংবাদিকদের তিনি নিজে মেরেছেন, এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আরও তো মারবো। শুধু এখন না, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে পারে। অনেকে লিস্টে আছে। ইন শা আল্লাহ, আল্লাহর রহমতে সন্ধ্যার মধ্যে আরও খবর পেয়ে যাবা।’


তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা লেখবা, আর আমরা পিটাইমু।’


শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহ মোহাম্মদ আবদুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, সাংবাদিকেরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছেন। তারা এভাবে তার প্রত্যাহার চাইতে পারেন না। সাংবাদিকতার আড়ালে কিছু সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিবাদের দোসরা বিএনপি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এমন কাজ করেছেন। এ কারণে আমরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছি। সেখানে কোনো সাংবাদিক নিগৃহীত বা মারধরের শিকার হয়েছেন কি না, তা আমার জানা নেই।’


হামলার ঘটনায় জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল হোসেন সরদার নিন্দা জানিয়ে তদন্তের মাধ্যমে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে জেলা পুলিশ সুপার রওনক জাহানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com