
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে দাম্পত্য কলহের জেরে ইলিয়াস শেখ (৪৩) নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার সহস্রাইল বাজারের একটি ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি পার্শ্ববর্তী আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া গ্রামের হারুন শেখের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ইলিয়াস শেখ ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক বিয়ে করেছেন। সম্প্রতি তিনি তাঁর ৫ম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সহস্রাইল বাজারের মসজিদ মার্কেট সংলগ্ন মাইটকুমরা গ্রামের কাজী নজরুল ইসলামের মালিকানাধীন ভবনের ৩য় তলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে ইলিয়াস কিছু সময়ের জন্য বাইরে যান। পরে বাসায় ফিরে নিজের শোবার ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরিবারের সদস্যরা নাশতার জন্য তাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের বিষয়টি জানান।
পরে পুলিশে খবর দেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বন্ধ দরজা খুলে ইলিয়াসের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি শোবার ঘরের জানালার গ্রিলের সঙ্গে রশি বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, ইলিয়াসের স্ত্রী সোনিয়া বেগমের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। তাদের দাবি, ওই বিরোধের জেরে ইলিয়াসের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী ধর্ষণের মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় তিনি প্রায় আট মাস কারাগারে ছিলেন বলেও স্বজনেরা জানান। মামলা ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে ইলিয়াস মানসিক চাপে ছিলেন বলে তাদের দাবি ।
নিহতের বাবা হারুন শেখ বলেন, ‘আমার ছেলের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী মামলা দিয়েছিল। মামলা ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’
ইলিয়াসের ৫ম স্ত্রী সোনিয়া বেগম বলেন, সকালে রাগ করে ইলিয়াস ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরে বাসায় ফিরে নিজের কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। নাশতার জন্য ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পাশের বাসার লোকজনকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে দরজা খুলে মৃত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে।
বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) সাইদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বন্ধ দরজা খুলে ইলিয়াসের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে।
বিবার্তা/মিলু/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]