
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের হাট বনগ্রাম বাজারে তিনটি জুয়েলারি ও একটি ওষুধের দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে বাজারের রফিক উদ্দিন শপিং কমপ্লেক্সে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহজনক একজনকে আটক করেছে।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটককৃত জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের কথা জানিয়েছে স্থানীয়রা।
স্থানীয় ও দোকান মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল মুখোশ পরে মার্কেটে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে মার্কেটের নৈশপ্রহরী কালু ও জাকিরকে জিম্মি করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। পরে চারটি দোকানের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক লুটপাট চালায়।
ডাকাত দলটি গ্যারান্টি জুয়েলার্সের মালিক শ্যামল কুমার মজুমদারের দোকান থেকে দেড় ভরি স্বর্ণ, যার আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ টাকা; ৬৫ ভরি রুপা, মূল্য ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ৭০টি নাকফুল, মূল্য ১ লাখ টাকাসহ মোট ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে।
সুস্মিতা জুয়েলার্সের মালিক পংকজ বিশ্বাসের দোকান থেকে ৮ আনা স্বর্ণ, আনুমানিক মূল্য ১ লাখ টাকা; ২৯ ভরি রুপা, মূল্য ৮০ হাজার টাকা এবং ২০টি নাকফুল, মূল্য ৩৫ হাজার টাকাসহ মোট ২ লাখ ১৫ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়।
লক্ষ্মী জুয়েলার্সের মালিক কৃষ্ণপদ বিশ্বাসের দোকান থেকে দেড় ভরি স্বর্ণ, আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ টাকা এবং ২০০ ভরি রুপা, মূল্য ৮ লাখ টাকাসহ মোট ১১ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও রুপা লুট করা হয়।
এ ছাড়া রাহুল ফার্মেসির মালিক রাহুল পালের ওষুধের দোকানের তালা কেটে ক্যাশ বাক্স ভেঙে নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায় ডাকাত দল।
সব মিলিয়ে চারটি দোকান থেকে প্রায় ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার, রুপা ও নগদ অর্থ লুট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দোকান মালিকরা।
লক্ষ্মী জুয়েলার্সের মালিক কৃষ্ণপদ বিশ্বাস জানান, ভোরে একজন ফোন করে তার দোকানে ডাকাতির ঘটনা জানায়। পরে দোকানে এসে তিনি দেখতে পান, সব মালামাল নিয়ে গেছে ডাকাতরা। তার দোকানে দেড় ভরি স্বর্ণ ও প্রায় ২৮০ ভরি রুপা ছিল।
তিনি আরও জানান, বাজারে তিনজন নৈশপ্রহরী ছিলেন। বাজারের এক পাশে থাকা একজন নৈশপ্রহরী ডাকাতির বিষয়টি কিছুই টের পাননি। অন্য দুজনের হাত-পা বেঁধে বাজার থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে মাঠের মধ্যে নিয়ে ফেলে রেখে যায় ডাকাতরা।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাঈনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পাংশা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় সন্দেহ ভাজন হিসাবে জাহাঙ্গীর নামের একজনকে নিয়ে আসা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
বিবার্তা/মিঠুন/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]