চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার ভাঙনে বিলীন ২০০ ঘর, শিগগিরই স্থায়ী বাঁধের কাজ
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ২১:৩৪
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার ভাঙনে বিলীন ২০০ ঘর, শিগগিরই স্থায়ী বাঁধের কাজ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদীতীরবর্তী এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙনে গত এক মাসে প্রায় ২০০টি বসতবাড়ি, শতাধিক বিঘা আবাদি জমি, আম ও বাঁশবাগানসহ অসংখ্য গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গমের চরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম। ভাঙনের মুখে অনেক পরিবার বসতভিটা সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে যাচ্ছে, আবার অনেকে শেষ সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।


স্থানীয়রা জানান, শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নে ভারতের গঙ্গা নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করে পদ্মা নাম ধারণ করেছে। বর্ষা মৌসুমে উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর তীব্র স্রোতে এ বছর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।


তাদের দাবি, ফারাক্কা বাঁধের গেট খুলে দেওয়ার পর স্রোত আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। আগে শুধু বন্যার সময় ভাঙন দেখা গেলেও এখন আষাঢ় থেকে ভাদ্র পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে নদীভাঙন অব্যাহত থাকছে।


পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীতীরবর্তী পাঁকা, দুর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। চলমান ভাঙনের কারণে এসব এলাকার হাজারো মানুষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।


চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব জানান, শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদীর পূর্ব তীর সংরক্ষণে ৭৪৮ কোটি টাকার স্থায়ী নদীশাসন ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। দরপত্র কার্যক্রম শেষ হয়েছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করবে। পাশাপাশি পশ্চিম তীর সংরক্ষণেও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


স্থানীয়দের তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরে পদ্মার ভাঙনে হাজারো পরিবারের বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, কবরস্থান ও ঈদগাহ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।


এ সময় অন্তত ৫০০ পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। শুধু পাঁকা ইউনিয়নেই প্রায় ১৫টি গ্রাম ও প্রায় এক হাজার হেক্টর আবাদি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে।


বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, একটি বিজিবি ক্যাম্প, একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, চারটি হাট-বাজার, তিনটি কবরস্থান এবং কয়েক হাজার হেক্টর আবাদি জমি।


ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা হোক। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে চলতি বর্ষায় পদ্মার গর্ভে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হতে পারে।


বিবার্তা/মোস্তাফিজুর/এসএম


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com