২২ বছরেও হয়নি যাতায়াতের ব্যবস্থা, বর্ষায় চরম দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ২২:১৮
২২ বছরেও হয়নি যাতায়াতের ব্যবস্থা, বর্ষায় চরম দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ে ভবন আছে, শিক্ষক আছেন, রয়েছে শিক্ষার্থীরাও। তবে নেই একটি চলাচলযোগ্য রাস্তা। ফলে বছরের পর বছর ধরে আবাদি জমির আল ধরে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। বর্ষা মৌসুমে সেই আল পানিতে তলিয়ে গেলে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।


বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১৩ সালে সরকারীকরণ করা হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ কর্মরত আছেন চারজন শিক্ষক। বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করা হলেও আশপাশের জমির মালিকরা যাতায়াতের জন্য জায়গা না দেওয়ায় এখনো কোনো স্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।


মঙ্গলবার ( ২৮ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের চারপাশ জুড়েই আবাদি জমি। বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে মাত্র ১৫ থেকে ২০ গজ দূরে একটি সড়ক থাকলেও সেখান থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কোনো সংযোগ পথ নেই। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ধানক্ষেতের আল ধরে চলাচল করতে হয়।
দুপুরে টিফিনের সময় দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা কাদা-পানি মাড়িয়ে, অনেকেই হাতে স্যান্ডেল নিয়ে সারিবদ্ধভাবে বাড়ির পথে হাঁটছে। অনেকের পা পিছলে কাদায় পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।


পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাজেদুল ইসলাম বলে,কাদা মাড়িয়ে স্কুলে আসতে খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় খেতের মধ্যে পড়ে যাই। তখন জমির মালিকরাও রাগ করেন।


একই শ্রেণির শিক্ষার্থী নাসিমা আক্তার বলে, শুকনা মৌসুমে কোনোভাবে আল ধরে আসা যায়, কিন্তু বর্ষায় জমিতে পানি উঠে গেলে স্কুলে আসাই কঠিন হয়ে পড়ে।


স্থানীয় বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, একটি সরকারি বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তা থাকবে না, এটা খুবই দুঃখজনক। দ্রুত সরকারি উদ্যোগে একটি রাস্তা নির্মাণ করা প্রয়োজন।


বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা পারভীন বলেন, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষক সবারই যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। কোনো শিক্ষাসামগ্রী বা প্রয়োজনীয় মালামাল বিদ্যালয়ে আনাও কষ্টকর। রাস্তা না থাকায় নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কমছে, বরং শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।


প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার আলী বলেন, প্রতিদিন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাদা-পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। একটি নিরাপদ রাস্তা না থাকায় তারা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিদ্যালয়ের জন্য দ্রুত একটি যাতায়াতের রাস্তা নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।


এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন,বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রাস্তা নির্মাণের আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


বিবার্তা/বাবু/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com