নরসিংদীতে তিন মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার ২
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ২০:০১
নরসিংদীতে তিন মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার ২
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

নরসিংদীর মাধবদীতে তিন মাসের এক নবজাতকের পা ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্যে মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় চাচি লতা বেগমকে (৩২) প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে| একইসঙ্গে এ ঘটনায় শিশুটির চাচা ও দাদাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ|


এ ঘটনায় গতকাল রাতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন| ভুক্তভোগী শিশুটির নাম রিজিক|


তিনি সদর উপজেলার মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী গ্রামের মো. জহির ও সাইফা আক্তারের সন্তান|


মামলার আসামিরা হলেন- শিশুটির আপন চাচি লতা বেগম, চাচা কাউছার আহম্মেদ ও চাচার শ্বশুর আলমাছ মিয়া| তারা সবাই মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী এলাকার বাসিন্দা| ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের পর থেকে চাচি লতা বেগম পলাতক রয়েছে|


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পাইকারদী এলাকার মো. জহির ও সাইফা আক্তার দম্পত্তির তিন মাসের শিশু রিজিক| জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন মেয়াদে অসুস্থ থাকায় শিশু রিজিক প্রায় দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল| শিশু রিজিকের বাবা মো. জহির ও চাচা কাউছার আহম্মেদ একসঙ্গে থাকেন, তাদের যৌথ পরিবার|


শিশু রিজিক প্রায়ই অসুস্থ এবং হাসপাতালে থাকায় তার মা সাইফা আক্তার পারিবারিক কোনো কাজে অংশগ্রহণ করতে না পারায় চাচি লতা বেগম নানা কটুক্তি করায় নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য চলে আসছিল|


গত শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে শিশু রিজিককে নিয়ে মা সাইফা আক্তার নিজ রুমে শুয়ে ছিলেন| তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ওয়াশরুমে গেল চাচি লতা রুমে ঢুকে শিশুর পা মুচড়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন| শিশুর মা সন্দেহবশত ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে কৌশলে মোবাইলের ভিডিও ধারন চালু করে যান| বিষয়টি নিজের মধ্যে হওয়ায় শিশু রিজিকের চাচা কাউছার আহম্মেদ এবং অভিযুক্ত লতার বাবা আলমাছ মিয়া ঘটনাটি ধাপাচাপা দিতে চেয়ে ছিলেন|


পাশাপাশি চাচি লতা বেগমকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন| তারা রিজিকের মা সাইফা আক্তারের মোবাইলে ধারন করা ভিডিওটি ডিলিট করে দেন| এর আগেই সাইফা আক্তার ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমকে পাঠিয়ে দেন| এ ঘটনায় পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলেও গত মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হলে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়|


এর আগে, শিশুটির বাবা জহির ও মা সাইফা জানান, এটি সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক বিষয় এবং তিন দিন আগেই পারিবারিকভাবে এর মীমাংসা হয়ে গেছে| শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং তার পা ভাঙেনি| পায়ে ব্যান্ডেজ বা কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়নি| তাই এ নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই| এ ঘটনায় অভিযুক্তকে তারা মাফ করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন|


মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে| অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম পলাতক রয়েছেন| শিশুটির বাবা-মা অভিযুক্তদের সঙ্গে থাকেন, এক সঙ্গে কাজ করেন| তারা কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে চাচ্ছেন না| তবে এমন নিষ্ঠুর আচরণে বিচারের দায়িত্ব তো রাষ্ট্র নেবেই| সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে জেলা প্রবেশন অফিসারের কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার রিজা আক্তার বাদী হয়ে মামলা করেছেন| এ ঘটনায় একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে|


ওসি আরো বলেন, শিশুটিকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে| তবে পা ভাঙেনি এটা পরিবারের দাবি| অভিযুক্ত লতা বেগম যে কাজটা করেছে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে|


প্রসঙ্গত, প্রায় ৫ দিন আগের এই ঘটনার একটি ভিডিও গত ১৪ জুলাই দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে| ভিডিওতে দাবি করা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে| বিষয়টি নজরে আসার পরপরই অনুসন্ধানে নামে পুলিশ|


বিবার্তা/কামাল/এসএম

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com