টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইলে বিপর্যস্ত জনজীবন, বাড়ছে জলাবদ্ধতা
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ১৬:২৯
টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইলে বিপর্যস্ত জনজীবন, বাড়ছে জলাবদ্ধতা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

টানা তিন দিনের বর্ষণে টাঙ্গাইল জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, যানজট এবং ধীরগতির যান চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। তবে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার সব নদ-নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচে থাকায় আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই।


শুক্রবার থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইল পৌরসভার পার্ক বাজার, আকুর-টাকুরপাড়া, দক্ষিণ থানাপাড়া, বিশ্বাস বেতকা, সাবালিয়া, কোদালিয়া, কান্দাপাড়াসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমেছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।


জলাবদ্ধতার কারণে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলোও পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে রোগী, স্বজন ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।


বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসিন্দা নাজমুল মিয়া বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের ঘরে পানি ঢুকে পড়ে। খালগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় পানি নামার কোনো পথ নেই। তার ওপর বিদ্যুৎও থাকে না। ছোট ছোট সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।


স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, টাঙ্গাইল শহরে কাগজে-কলমে ২৭টি খাল থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশই দখল ও ভরাট হয়ে গেছে। খালের জায়গায় ভবন, মার্কেট ও সড়ক নির্মাণ করায় শহরের প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
টাঙ্গাইল সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি আকিবুর রহমান ইকবাল বলেন,সাবালিয়া খাল,শ্যামা বাবুর খাল ও কচুয়াডাঙ্গা খালসহ শহরের প্রধান খালগুলো দ্রুত উদ্ধার না করলে প্রতি বছর জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ আরও বাড়বে। জেলা প্রশাসনকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।


টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। পার্ক বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন,দোকানে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়েছে। ক্রেতাও নেই। গত তিন দিনে বিক্রি প্রায় বন্ধ।
প্যারাডাইসপাড়া এলাকার চা দোকানদার গনেশ চৌহান বলেন,বৃষ্টির কারণে দোকানে কাস্টমার নেই। আয় না থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।


এদিকে, টাঙ্গাইল-ঢাকা ও টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। জলাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে অনেক অটোরিকশা, রিকশা ও সিএনজিচালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।


অবিরাম বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং ও ট্রান্সফরমার বিকলের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ায় বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।


টাঙ্গাইল পৌরসভা জানিয়েছে, জলাবদ্ধ এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। জেলা প্রশাসনও সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।


টাঙ্গাইল আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।


টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইনুদ্দিন বলেন,জেলার কোনো নদ-নদীর পানি এখনও বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত বন্যার আশঙ্কা নেই। তবে টানা বৃষ্টিতে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যমুনা নদীর তীররক্ষা ও ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে।


সংশ্লিষ্টদের মতে, টানা বৃষ্টি একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও টাঙ্গাইল শহরের জলাবদ্ধতার মূল কারণ মানবসৃষ্ট। খাল দখল, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে প্রতি বছরই একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। দ্রুত খাল উদ্ধার ও আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


বিবার্তা/বাবু/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com