
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার একটি গ্রামীণ সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সেই অনিয়ম বন্ধ করেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর নিম্নমানের ইট বাতিল করে সরকারি সিডিউল অনুযায়ী উন্নত মানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলজিইডির তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, আইআরআইডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় নাগরপুর উপজেলার চামটা থেকে চামটা-মির্জাপুর সড়ক হয়ে মান্নান ভূঁইয়ার বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার রাস্তা বিটুমিনাস কার্পেটিং (বিসি) দ্বারা উন্নয়নের কাজ চলছে। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ৫১ লাখ ৯৬ হাজার ৯০১ টাকা। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে গোপালপুর উপজেলার মেসার্স কবির ব্রাদার্স এন্টারপ্রাইজ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজ শুরুর সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক ট্রাক নিম্নমানের ইট এনে রাস্তার সাব-বেস বা খোয়া তৈরির প্রস্তুতি নেয়। বিষয়টি নজরে আসার পর এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে কাজে বাধা দেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সরকারের অর্থ অপচয় হবে। পরে তারা বিষয়টি এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ঘটনাস্থলের বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পান। তিনি ব্যবহারের জন্য আনা ইটগুলোকে সড়ক নির্মাণের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী ঘোষণা করে তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করেন। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিম্নমানের ইট সরিয়ে সরকারি সিডিউল অনুযায়ী উন্নত মানের ইট ব্যবহার করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশ দেন।
এলজিইডির এই পদক্ষেপের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ইট সরিয়ে নেয়। বর্তমানে নির্ধারিত মান বজায় রেখে নতুন ইট দিয়ে সড়কের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। পুরো কাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হলে প্রথম বর্ষাতেই তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। অভিযোগের পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, এখন কাজের মান অনেক ভালো এবং তারা আশা করছেন সড়কটি দীর্ঘস্থায়ী হবে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, সরকারের উন্নয়ন কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। নাগরপুরের এই সড়কটির নির্মাণকাজ নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ গুণগত মান নিশ্চিত করেই সড়কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
বিবার্তা/বাবু/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]