হিন্দুদের দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ, পাঁচদিনেও নেয়া হয়নি ব্যবস্থা
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৬:২৯
হিন্দুদের দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ, পাঁচদিনেও নেয়া হয়নি ব্যবস্থা
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

নাটোরের সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ইটালি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম আরিফের বিরুদ্ধে গত ২৬ সেপ্টেম্বর পাকুরিয়া গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি, দোকান ভাঙচুর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রমাণ পেলে আরিফুল ইসলাম আরিফকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতারা।


এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা বললেও জেলা আওয়ামী লীগের ভাষ্য মতে, স্থানীয় দুই ইউপি সদস্যের দ্বন্দ্বের কারণে বাড়ি-দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এটি কোনো সাম্প্রদায়িক হামলা নয়।


হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-দোকান ভাঙচুর: প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নিবে আ.লীগ


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের এসব বাড়ি ও দোকানঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। হামলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ২টি বাড়ি ও ৬টি দোকান ভাঙচুর করা হয়। পাকুরিয়া গ্রামে মুক্তা ঠাকুর এবং মানিক ঠাকুরের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। পরে লুটপাটের মালপত্র ট্রাক বোঝাই করে নিয়ে গেছে অভিযুক্তরা। লুটপাটের পরে সন্ধ্যায় সিংড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।


পরদিন মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আরিফা জেসমিন কনিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যটাস দেন। সেই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, নাটোরের সিংড়ায় ৩নং ইটালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ এর নেতৃত্বে পাকুরিয়া গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ২টি বাড়ি ও ৬টি দোকান ১৯৭১ ও ২০০১ এর মত ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। মুক্তা ঠাকুর এবং মানিক ঠাকুরের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। লুটপাটের মালপত্র ট্রাক বোঝাই করে নিয়ে যায়।


সিংড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগ


আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ও দোকানঘর ভাঙচুরে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠার পাঁচদিন পার হলেও জেলা আওয়ামী লীগ বলছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে উপজেলা আওয়ামী লীগকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জানতে চাইলে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান বিবার্তাকে বলেন, সিংড়ায় স্থানীয় সাবেক ও বর্তমান দুই ইউপি সদস্যের দ্বন্ধ থেকে ঘটনাটি ঘটেছে। ইউপি চেয়ারম্যান একটি পক্ষ নিয়ে দোকানপাট ভাঙচুর চালিয়েছে। কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাব বিস্তার করার জন্য হামলার ঘটনার সাথে যুক্ত। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।


তিনি বলেন, ঐ এলাকায় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলকের বাসভবন, তার নির্বাচনী এলাকা। হামলার ঘটনা শুনার পর জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারাও গিয়েছেন। উনারা বলেছেন, এটি কোনো সাম্প্রদায়িক হামলা নয়।


সিংড়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-দোকান পরিদর্শনে প্রশাসনের কর্মকর্তারা


হামলা, ভাঙচুরের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে শরিফুল ইসলাম রমজান বলেন, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্র চাইলে কাউকে সরাসরি বহিষ্কার করতে পারে। এছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ বহিষ্কারের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠাতে পারে। এর বাইরে জেলার কোনো কিছু করার নেই।


বিবার্তা/সোহেল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com