স্বামী-স্ত্রীকে টয়লেটে অবরুদ্ধ, নিউজ করায় সাংবাদিকদের 'হলুদ' বললেন সেই চেয়ারম্যান
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২২, ১৫:৩৫
স্বামী-স্ত্রীকে টয়লেটে অবরুদ্ধ, নিউজ করায় সাংবাদিকদের 'হলুদ' বললেন সেই চেয়ারম্যান
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ী দম্পতিকে টয়লেটে আটকে রাখার ঘটনায় সংবাদ করায় সেই ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদেরকে ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে অশোভন আচরণ করেছেন। 'হলুদ' সাংবাদিক বলে তিনি উত্তপ্ত বাক্যও ব্যবহার করেন।


বুধবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মমিনুল হকের কক্ষে বসেই তিনি এ আচরণ করেন। পুলিশ কর্মকর্তাও চেয়ারম্যানের অশোভন আচরণের প্রতিবাদ করেছেন।


এসময় সাংবাদিকরা প্রতিবাদ করলে নজরুল ইসলাম জানান, অনেক সাংবাদিক কিছু পাওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত তার কাছে বসে থাকে। সকল পেশাতেই ভালো খারাপ আছে। সাংবাদিকদের মধ্যেও হলুদ রয়েছে। হলুদ সাংবাদিকরাই তার বিরুদ্ধে নিউজ করেছে।


পুলিশ ও সাংবাদিকরা জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের মুক্তারামপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে চেয়ারম্যানের নির্দেশে এক ঘণ্টার মতো টয়লেটে আটকে রাখা হয়। এ অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এতে রাতে চেয়ারম্যান ও আমজাদের পরিবারকে পুলিশ থানায় ডাকে। সেখানে ওসি মমিনুল হক তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন।


তখন ব্যবসায়ী আমজাদের বিরুদ্ধে তার মা আয়েশা খাতুন ও মেয়ে লিপি আক্তারের অভিযোগের ঘটনাটি মীমাংসা করে দেয় পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু, আলোচনার বাইরে থেকে যায় আমজার ও তার স্ত্রী জেসমিনকে টয়লেটে আটকে রাখার বিষয়টি। তখন সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন চেয়ারম্যান নজরুল। এর আগে থানার সামনেই চেয়ারম্যানের লোকজন ব্যবসায়ী দম্পতিকে হুমকি দিতে দেখা যায়।


এদিকে থানায় এসেও ব্যবসায়ী দম্পতি সাংবাদিক ও পুলিশকে জানিয়েছেন তাদেরকে টয়লেটে আটকে রাখা হয়েছে। পরে থানা থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় চেয়ারম্যানের কাছে সাংবাদিকদের অপমানের ঘটনায় ব্যবসায়ী সম্পতি ক্ষমা চেয়েছেন।


ভূক্তভোগী আমজাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমাদেরকে টয়লেটে আটকে রাখার ঘটনা সত্য। পুলিশ আমার মায়ের সঙ্গে আমাদের মিলিয়ে দিয়েছেন৷ চেয়ারম্যানের আচরণে আপনারা আমাদের ক্ষমা করে দেবেন।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, আমি উপস্থিত সকল সাংবাদিককে বলিনি। কিছু কিছু সাংবাদিককে বলেছি। ওইসব সাংবাদিকরা আমার কাছে গিয়ে বসে থাকে।


ওসি (তদন্ত) মমিনুল হক বলেন, টয়লেটে আটকে রাখার ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। ব্যবসায়ী আমজাদ তার মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। ঘটনাটি মীমাংসা করে দেয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে তাৎক্ষণিক আমি চেয়ারম্যানকে বুঝিয়েছি। কথাটা বলা উচিত হয়নি বলেও চেয়ারম্যানকে বলেছি।


এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) পলাশ কান্তি নাথ বলেন, চেয়ারম্যান ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী পরিবারকে থানায় ডাকা হয়েছে। পরে কি হয়েছে তা বলতে পারছি না। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কি হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবো।


প্রসঙ্গত, নজরুল সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম-আহবায়ক ।


বিবার্তা/সুমন/জামাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com