‘ইন্টারনেট সেবার মান বৃদ্ধিতে আইএসপিদের রিসোর্স শেয়ার করার নীতিমালা করতে হবে’
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:০৭
‘ইন্টারনেট সেবার মান বৃদ্ধিতে আইএসপিদের রিসোর্স শেয়ার করার নীতিমালা করতে হবে’
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

এ কে এম জাহাঙ্গীর। আইটি ও সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ইন্টারনেট ব্যবসার সাথে জড়িত। বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবসার শুরু থেকে টেকনিক্যাল সেকশনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিডিকম অনলাইন-এ যোগদানের মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু। এরপর বিজয় অনলাইনে। বর্তমানে ওয়ান স্কাই কমিউনিকেশন লিমিটেডে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি প্রায় ১৮ বছর ধরে নিজের প্রতিষ্ঠান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নটরডেমসহ বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বেসিক/অ্যাডভান্স নেটওয়ার্কিং এবং মাইক্রোটিক বিষয়ে অতিথি শিক্ষক হিসেবে শিক্ষাদান করছেন।


সম্প্রতি বিবার্তা২৪ডটনেটের সাথে কথা বলেন এ কে এম জাহাঙ্গীর। আলাপে উঠে এসেছে, ইন্টারনেট সেক্টরের বর্তমান অবস্থা, ইন্টারনেটের টেকনিক্যাল দিক, সুবিধা-অসুবিধা, সেক্টর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ নানান বিষয়। আলাপের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিবার্তার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।


বিবার্তা: ইন্টারনেট সেক্টরের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাই?


এ কে এম জাহাঙ্গীর: ২০০০ সালে একজন হোম ইউজার টেলিফোন লাইনের সাহায্যে ডায়ালআপ করে ২০ কেবিপিএস স্পিড পেতো। মাসে এক-তিন হাজার টাকা খরচ হতো। প্রতি মিনিট দুই টাকা ইন্টারনেট বিল ও টেলিফোন বিল পার মিনিট। বর্তমানে একজন হোম ইউজার ১০০০ টাকায় ২০ এমবিপিএস ইন্টারনেট ৫০ এমবিপিএস ইউটিউব ৫০ এমবিপিএস ফেসবুক এবং ১০০ এমবিপিএস বিডিআইএক্স পায়। আমরা স্বর্গে আছি বলব না, তবে অনেক ভালো আছি।



বিবার্তা: গত ২৪ বছরে ইন্টারনেট সেক্টর কতদূর এগিয়েছে?


এ কে এম জাহাঙ্গীর: বর্তমান সরকার প্রযুক্তিবান্ধব সরকার। ২০০৮ সাল থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্প হাতে নিয়ে সেটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, সত্যি। আর এর সুফল এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষেরাও ভোগ করছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার পেছনে যে জিনিসটির বড় ভূমিকা রয়েছে সেটি হলো ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। একটু পেছনে তাকালে দেখা যায় যে, ১৯৯৬ সালে দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ছিল মাত্র দুটি। এই দুটি ইন্টারনেট কোম্পানি সারাদেশে সার্ভিস দিতো।



দুই যুগ পর এখন লাইসেন্সধারী ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। সময়ের প্রয়োজনে মানুষ এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। তাই ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বেড়েছে। এই সেক্টরে ব্যবসায় প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। সার্ভিস কোয়ালিটি উন্নতি হয়েছে। ৯০ দশকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ডায়ালআপ কেবিপিএস বিক্রি করা হতো। এখন বিক্রি হয় এমবিপিএস হিসেবে। গত এক যুগে দেশে ইন্টারনেট সম্প্রসারণে একটা বিপ্লব ঘটেছে। এর পেছনে সরকারের সুদূরপ্রসারী কিছু পরিকল্পনা কাজ করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদারের অসামান্য অবদানের কারণে এ সেক্টর দ্রুত উন্নত হচ্ছে।



বিবার্তা: আপনার দৃষ্টিতে এ সেক্টর এগিয়ে যাওয়ার পেছনে কোন বাধা রয়েছে কী?


এ কে এম জাহাঙ্গীর: যেকোনো সেক্টর এগিয়ে যায় দক্ষ মানবসম্পদের সম্মিলিত চেষ্টার ফলে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা- সেক্টর এগিয়ে যাওয়ার প্রধান হাতিয়ার। সেদিক থেকে ‍মূল্যায়ন করলে আমার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই, দেশে শিক্ষাব্যস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। ডিজিটাল শিক্ষার কার্যক্রম অনেক দূরে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে ‍দুঃখজনক বিষয় আমাদের দেশের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সিলেবাস রয়েছে সেটি যথেষ্ট সমৃদ্ধ না। ডিপ্লোমা কিংবা গ্রাজুয়েশন লেভেলে কারিকুলামকে আরও উন্নত করতে হবে। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রাকটিক্যাল কাজ শেখার সুযোগ নেই বললেই চলে। ল্যাবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নাই। শিক্ষকদের প্রাকটিক্যাল কাজের অভিজ্ঞতা নাই। যারা ভালো রেজাল্টসহ পাস করে আসছে, তারা প্রাকটিক্যাল কোন কাজ পারছে না। ফলে শিক্ষার্থীরা আইটিতে পড়াশোনা করেও ইন্টার্নি করার সুযোগ পান না। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আইটি সেক্টরে কাজ পান। যারা ডিগ্রি থাকার পরও শুধু প্র্যাক্টিক্যাল কাজের অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে চাকরি পান না। তখন তারা অন্য সেক্টরে চলে যান।



বিবার্তা: এসব বাধা অতিক্রম করতে আপনার পরামর্শ কী থাকবে?


এ কে এম জাহাঙ্গীর: কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষার কারিকুলাম সময়োপযোগী করতে হবে। আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে কি ধরনের কাজের চাহিদা রয়েছে, এ সময়ে মানুষ কী ধরনের সেবা দরকার, কোন বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানো দরকার। এ বিষয়গুলি বিবেচনা করে কর্মমুখী বিষয়বস্তু সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যারা প্র্যাকটিকাল কাজে যুক্ত আছেন, তাদেরকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গেস্ট লেকচারার হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। এছাড়াও কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে হাতে-কলমে শিক্ষার জন্য ল্যাব প্রতিষ্ঠা করতে হবে।


বিবার্তা: এই সেক্টরের সম্ভাবনা কেমন দেখেছেন?


এ কে এম জাহাঙ্গীর: দেখুন, আমরা আছি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে। ডিজিটাল দুনিয়ায় যেকোনো সেক্টরে এগিয়ে যেতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের কোনো বিকল্প নাই। সারাদেশের স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, ব্যাংক, ফ্রিল্যান্সার যেখানেই যে কাজ করছেন, সব কাজেই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার হচ্ছে। মোবাইল ইন্টারনেট দিয়ে অনলাইনে তাৎক্ষণিক কিছু কাজ করা যায়। কিন্তু ওয়েবসাইটে ভারি কাজগুলো করতে গেলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয়। ইন্টারনেট এখন মানুষের প্রতিদিনকার অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। এটা একটা সম্ভাবনাময় ও উদীয়মান সেক্টর। এখানে ব্যবসা করার রয়েছে অফুরন্ত সুযোগ।



আর একটা বিষয় হলো, ব্রডব্যান্ডই একমাত্র মাধ্যম, যাতে ব্যবহারকারীরা সঠিক পরিমাণে ব্যান্ডউইথ পেয়ে থাকেন। তাই প্রযুক্তির এই যুগে আমাদের জিডিটাল জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের শুরু থেকে যারা নেপথ্যের নায়ক হিসেবে অবিরাম কাজ করছেন, দেশের কোটি কোটি মানুষের অত্যাধুনিক জীবনযাপনের সব চাহিদা পূরণে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছেন, তারা হলেন এই ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্ণধাররা। এ সেক্টরটা আগামী দিনে অনেক ‍দূর এগিয়ে যাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।



বিবার্তা: প্রায়ই গ্রাহকরা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবায় গতি কম বলে অভিযোগ করে থাকেন। কেনো এমনটা হয়ে থাকে?


এ কে এম জাহাঙ্গীর: অভিযোগ অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। তবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি সব সময় কমে না। মাসে একদিন, দুইদিন হতে পারে। বিভিন্ন টেকনিক্যাল কারণে গতি কমে যেতে পারে। যেমন, ঝড়-বৃষ্টির সময় ফাইবার অপটিকেল ক্যাবল বা ট্রান্সমিটার ক্যাবল কাটা পড়ে, এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা যেহেতু বিদ্যুতের সাথে সংযুক্ত তাই সার্ভার ডাউন হয়ে পড়ে। এসব কারণে সাময়িক সমস্যা হতে পারে বা গতি কমে যেতে পারে। এছাড়াও আরও কিছু কারণ রয়েছে। সেগুলি হলো, আইএসপি কোম্পানিগুলি যখন বেশি টাকার লাভের আশায় তাদের সক্ষমতার চেয়ে ইন্টারনেট প্যাকেজগুলি অনেক বেশি বিক্রি করে থাকে, তখন গ্রাহকরা ইন্টারনেট সেবায় গতি কম পেয়ে থাকে।



তাছাড়া সবচেয়ে ছোট শেয়ার্ড প্যাকেজ কিনে বাসায় অনেকগুলি ডিভাইস থেকে শেয়ার করে, ওয়াইফাই রাউটারের ব্র্যান্ড বা মডেল, ক্রয়মূল্য এগুলার উপরে রাউটারের মান নির্ভর করে। রাউটার পুরনো হলে প্রায়ই হ্যাং করে। ওয়ারলেস ফ্রিকোয়েন্সি ২.৪ গিগাহার্জ অনেক সিগনাল কনজাস্টেড হয়ে ইন্টারফেয়ার করে। বেশি ইউজার এক রাউটার ব্যবহার করলে স্পিড ফুল হয়ে যায়, যে কারণে গতি কমে যায়। নিম্নমানের রাউটারে ৫-৭ জনের বেশি ইউজার ব্যবহার করলে রাউটার হাং করে। রাস্তার ট্রাফিকের যেমন পিক আওয়ার আছে, তখন অতিরিক্ত জ্যাম থাকে, ইন্টারনেটেরও তেমনি পিক আওয়ার আছে। সন্ধ্যার পর থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত পিক আওয়ার।


এই অভিযোগগুলো বেশি হয়ে থাকে অবৈধ আইএসপিগুলোর বিরুদ্ধে। আবার অনেক সময় রাউটারের কারণেও গ্রাহক গতি কম পান। তিনি যে ফ্ল্যাটে বা বাড়িতে থাকেন তার যে আয়তন তার চেয়ে কম আয়তন কাভার করে এমন রাউটার ব্যবহার করলে কম গতি পাওয়া যাবে। আমাদের পরামর্শ হলো, আয়তন অনুযায়ী বা তার চেয়ে বেশি সক্ষমতার রাউটার ব্যবহার করুন। তাতেও যদি গতি বেশি না পাওয়া যায় তাহলে আইএসপির সঙ্গে যোগাযোগ করুন। একটা সমাধান পাওয়া যাবে।


বিবার্তা: ইন্টারনেট সেক্টরকে এগিয়ে নিতে আপনার কী পরামর্শ থাকবে?


এ কে এম জাহাঙ্গীর: ইন্টারনেট সেক্টরকে এগিয়ে নিতে বেসরকারি ভাবে দেশের ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সরকারের পক্ষ থেকেও আন্তরিকতার অভাব নেই। তবে আমি মনে করি, এ সেক্টর উন্নয়নে সরকারের আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। যেমন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির মত প্রতিটি বাসায় কম খরচে ফাইবার কানেকশন পৌঁছে দেয়া যেতে পারে। এখন দেশের যে অঞ্চলে রবির টাওয়ার আছে, বাংলালিংকের টাওয়ার নেই- সেই অঞ্চলে মোবাইল অপারেটরগুলি শেয়ার করে টাওয়ার বিজনেস করতে পারছে। বিটিআরসির পক্ষ থেকে এ অনুমতি দেয়া হয়েছে।



একইভাবে দেশের সব এনটিটিএন এবং আইএসপিকে তাদের সকল রিসোর্স অন্যের সাথে ভাড়ার বিনিময়ে শেয়ার করার সুযোগ দেয়া যেতে পারে। তাহলে রিসোর্সের ম্যাক্সিমাম ইউটিলাইজেশন হবে। খরচ কমে আসবে। গ্রাহক কম খরচে অনেক বেশি সুবিধা পাবে। এর ফলে পথে কেবলের বিশৃঙ্খলা কমে আসবে। রাজধানীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে গ্রাহকরা সেবা গ্রহণ করতে পারবে।



এছাড়াও আরও কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। যেমন, ইন্টরনেট সেক্টরকে এগিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে ব্রডব্র্যান্ড ইন্টারনেটের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সেমিনার, কর্মশালা, ওয়ার্কশপ করা যেতে পারে। ইন্টারনেট ব্যাবসায়ী, সাধারণ গ্রাহক ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে ব্রডব্র্যান্ড ইন্টারনেটের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন দিক, সেবার মান, সুবিধা-অসুবিধার বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। এসব আলোচনা থেকে নানা সমস্যা বেরিয়ে আসবে, সাথে সাথে সমাধানও করার পথ খুঁজে পাওয়া সহজ হবে।


বিবার্তা: এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গ। ওয়ান স্কাই কমিউনিকেশন লিমিটেড কী ধরনের সেবা দিয়ে থাকে?


এ কে এম জাহাঙ্গীর: ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি জেলায় ২৪ ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন গুণগতমানসম্পন্ন হাই স্পিড ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে ওয়ান স্কাই। এছাড়াও কর্পোরেট ইন্টারনেট, ভিটিএস (জিপিএস ট্রেকারের সাহায্যে কার মনিটরিং সিস্টেম), ম্যাজিক আইপি (ইন্টারনেট/পাবলিক আইপি অটো রিডানডেন্সি সলিউশন) ইত্যাদি সেবার ক্ষেত্রে ওয়ান স্কাই আইএসপি হিসেবে এখন পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের সেবার মানে কোনো কম্পোমাইজ নেই। গ্রাহকদের গুণগতমানসম্পন্ন সেবা দেয়াই আমাদের প্রতিষ্ঠানের অন্যতম মূল লক্ষ্য।


বিবার্তা: আপনার প্রতিষ্ঠানের সকল ডাটা সার্ভার, নেটওয়ার্ক ও কম্পিউটার পিসিগুলো কতটুকু সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিমুক্ত বলে মনে করেন?


এ কে এম জাহাঙ্গীর: আমরা আইএসপি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। নেটওয়ার্ক ক্যারিয়ার আইআইজি থেকে ব্যান্ডউইথ গ্রাহকের অফিস অথবা বাসায় পৌঁছে দিয়ে থাকি। ব্যাংক বা কর্পোরেট অফিসের মতো আমাদের খুব বেশি ইম্পরট্যান্ট ডাটা সার্ভার নেই। রাউটার ওএলটি সুইচ এগুলো সিকিউরড আছে। আইএসপি’র জন্য ডিডস অ্যাটাক সবচেয়ে বড় থ্রেট। এই ডিডস অ্যাটাক অটো ডিটেক্ট এবং মিটিগেট করার জন্য আমাদের ‘ফাস্টনেটমন’ নামক উন্নত মানের ব্যবস্থা নেওয়া আছে। টেকনোলজির সাথে সাইবার এটাকের ধরন বদলায়। আমরা ২৪ ঘন্টা মনিটর করছি।



বিবার্তা: সাইবার আক্রমণের হাত থেকে প্রতিষ্ঠানের সব ডাটা সার্ভার, নেটওয়ার্ক ও কম্পিউটার পিসিগুলো নিরাপদ রাখার উপায় কী বলে মনে করেন?


কে এম জাহাঙ্গীর: বিষয়টা খুবই উদ্বেগের। তাই সবাইকে সতর্ক হতে হবে। আর সেসাথে গুরুত্বপূর্ণ ডাটা সার্ভারগুলিতে পাবলিক আইপি ব্যবহার না করে, প্রাইভেট আইপি ব্যবহার করা রাউটার থেকে নির্দিষ্ট একটি পোর্টফরওয়ার্ড করে সার্ভারে পৌঁছে দিতে হবে। তাহলে এতে সার্ভার অনেক বেশি নিরাপদ থাকবে। নিয়মিত সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্টদের দিয়ে সার্ভার এবং নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এটাক লগ/হিস্ট্রি নিয়মিত মনিটরিং করা প্রয়োজন। যেসব সমস্যা পাওয়া যায় সেগুলো সমাধান করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় শুধু প্রয়োজনীয় সার্ভিস পোর্টগুলি ওপেন রেখে বাকি সব পোর্ট বন্ধ রাখা। ক্র্যাক বা ডেমো সফটওয়্যার ব্যবহার না করা। আমাদের দেশে এখনও এ বিষয়ে সচেতনতা একদম তৈরি হয়নি বললেই চলে।


বিবার্তা: একজন আইটি এক্সপার্ট হিসেবে আপনি কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান?


কে এম জাহাঙ্গীর: ডিজিটাল বাংলাদেশ আর স্বপ্ন না। এখন বাস্তব। স্বপ্নের পদ্মাসেতু, কর্ণফুলী নদীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল এখন দৃশ্যমান। সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নযাত্রায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বিশেষ অবদান রেখে আসছে। ভবিষ্যতেও রাখবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এমন একটা স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, যেখানে সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল, গ্রামে বসে কৃষক, মাঝিসহ সকলে ডিজিটাল বাংলাদেশের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। বাঙালি জাতি অত্যন্ত ট্যালেন্টটেড জাতি। খুব সহজে ও দ্রুত জটিল সব ভেজাল জিনিস আবিষ্কার করতে পারে। জিনজিরা এলাকায় প্রশিক্ষণ ছাড়াই এই জাতি যেসব পার্টস বানাতে পারে, সেই জাতিকে সঠিক শিক্ষা দিতে পারলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি বিপ্লব কেন্দ্র হয়ে উঠবে আমার সোনার বাংলাদেশ বলে আমার বিশ্বাস।


বিবার্তা/গমেজ/রোমেল/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com