'সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি বিকাশে ১০ বছরের মাস্টার প্ল্যান করতে হবে'
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:০৫
'সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি বিকাশে ১০ বছরের মাস্টার প্ল্যান করতে হবে'
উজ্জ্বল এ গমেজ
প্রিন্ট অ-অ+

বর্তমান যুগ উদ্ভাবনের, নতুন চিন্তাধারার-সময়টা এখন ডিজিটাল হওয়ার, নতুনত্বকে বেছে নেয়ার। প্রযুক্তির আপডেটেড ও সর্বোচ্চ ভাল মানের সেবা চায় সবাই, প্রতিযোগিতার বাজারে চাই নতুনত্বের ছোঁয়া।


সময়ের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ক্লায়েন্টদের ব্যবসাবন্ধব ও মানসম্পন্ন সফটওয়্যার যারা তৈরি করছে, তারাই এখন মার্কেটে টিকে থাকার যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে। আর সময়োপযোগী ও গুণগতমানসম্পন্ন সফটওয়্যার তৈরি করলে সেটির মূল্যায়ন অবশ্যই করা হচ্ছে।


সম্প্রতি বিবার্তা২৪ডটনেটের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ইউবিকিউ কর্পোরেশন লিমিটেড ও জেডটেক লিমিটেড-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং আইটি বিশেষজ্ঞ মো. সামিউল ইসলাম।


এই আইটি বিশেষজ্ঞ বর্তমানে দেশের সটফটওয়্যার খাতের আইটি ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) একসেস টু ফাইনান্স কমিটির কো-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আইটি ব্যবসায়ী হিসেবে সটফটওয়্যার খাতের নিজের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বিবার্তার সাথে। আলোচনার চুম্বক অংশ বিবার্তার পাঠকদের জন্য এখানে তুলে ধরা হলো।


বিবার্তা: দীর্ঘ সময় ধরে দেশের আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন। আপনারা কী ধরনের সেবা দিয়ে থাকেন?


মো. সামিউল ইসলাম: ২০০৩ সাল থেকে আমি পারিবারিক কোম্পানি ইউবিকিউ কর্পোরেশন লিমিটেড-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।


আমরা ২০০৭ সাল থেকে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এন্টারপ্রাইস রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) সল্যুশন সেবা এবং ক্লাউড সল্যুশন ও ডিজিটাল মার্কেটিং সেবাও দিয়ে আসছি। পরে সময়ের চাহিদা ও দাবিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছ থেকে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) সেবার লাইসেন্স নিয়ে আমরা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা দেয়া শুরু করি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কম আয়ের মানুষদের স্বল্প খরচে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ও ওয়াইফাইভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা দিয়ে তাদের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ক্ষমতায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করে সামাজিক প্রভাব তৈরি করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেডটেক নামে একটা প্রকল্প চালু করি। শুরুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকটি এলাকায় কম খরচে বিভিন্ন দোকান, বাজারে ওয়াইফাইভিত্তিক বিশেষ ইন্টারনেট সেবা চালু করি। সেবাটি জনপ্রিয়তা লাভ করলে অ্যাপের মাধ্যমে ওই ওয়াইফাই সেবাটি নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক ব্যবহারের প্যাকেজ তৈরি করি। এতে যাদের প্রয়োজন, তারা নির্দিষ্ট খরচের বিনিময়ে ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করতে শুরু করে। কেউ চাইলে আমাদের এই প্রজেক্ট থেকে দিনে মাত্র ১০ টাকায় ওয়াইফাই ইন্টারনেট সেবা নিতে পারেন। পরে অন্যান্য আইএসপির সঙ্গে আমাদের পার্থক্য হচ্ছে সামাজিক প্রভাব সৃষ্টি। ছোট ছোট প্যাকেজ তৈরি করে আমরা ইন্টারনেট সেবা দিয়ে থাকি।




বিবার্তা: প্রায়ই শোনা যায় দেশে তৈরি সফটওয়্যারগুলি লোকাল মার্কেটে বেশি মূল্যায়ন করা হয় না। এ বিষয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন?


মো. সামিউল ইসলাম: দখুন, আমি ১৯ বছর ধরে দেশের আইটি ইন্ডাস্ট্রির সাথে প্রত্যক্ষাভাবে জড়িত। আমার অভিজ্ঞতায় বলব, যে সফটওয়্যার সুল্যুশন বা প্রোডাক্ট ভাল, সময়োপযোগী, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, সেটার চাহিদা লোকাল মার্কেটে ছিল, আছে আর যুগ যুগ ধরে থাকবে। কেননা সফটওয়্যার সুল্যুশনের কাজই ক্লায়েন্টের মানসম্পন্ন সেবা দেয়া। এখন কেউ যদি দেশীয় প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক গুণগতমানসম্পন্ন একটা প্রোডাক্ট তৈরি করে, তাহলে সেটার মূল্যায়ন না করার তো কোন সুযোগ নেই। আমাদের লোকাল মার্কেটে এমন মানসম্পন্ন প্রোডাক্টের চাহিদা এখনও আছে এবং সেটা অনেক বেশি।


এখন আসি কেন দেশে তৈরি সফটওয়্যারগুলি লোকাল মার্কেটে বেশি মূল্যায়ন করা হয় না। আমাদের দেশেও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সফটওয়্যার সুল্যুশন তৈরি হচ্ছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেগুলির সঠিক মূল্যায়ন করা হয় না। এর কারণ হল, আপনি একটা খুব ভাল সফটওয়্যার সুল্যুশন তৈরি করে ঘরে যত্ন করে রেখে দিলেন। কেউ সেটা জানলই না যে, আপনি একটা নতুন সফটওয়্যার সল্যুশন তৈরি করেছেন। এটা মার্কেটে ব্যসায় কাজে লাগবে। তাহলে সেটা সম্পর্কে বড় বড় কোম্পানির মালিকরা জানবে কীভাবে? না জানলে কেউ কিনবে না। ব্যবহারও করবে না।



আরেকটা বিষয় এখানে কাজ করে সেটা হল আমাদের মানসিকতা। যখন দেশের বড় বড় নামি-দামি কোম্পানিগুলির মালিকরা শোনে যে, এই সল্যুশনটা দেশে তৈরি বা মেইড ইন বাংলাদেশ, তখন এটাকে অনেকটা ছোট করে দেখা হয়। বেশি গুরুত্ব দেয় না। ধরেই নেয় এটা তো দেশে তৈরি। এটা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে না। সিকিউরিটির সমস্যা। আরও অনেক নেতিবাচক চিন্তা-ভাবনা করে থাকে। এভাবে লোকাল মার্কেটে ভাল সফটওয়্যার সুল্যুশনের সঠিকভাবে মূন্যায়ন করা হচ্ছে না।


বিবার্তা: ক্লায়েন্টদের সফটওয়্যার সুল্যুশন সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণাই কী সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করার প্রধান কারণ, না এর পেছনে আরও কোন বিশেষ কারণ রয়েছে?


মো. সামিউল ইসলাম: আমি মনে করি এর অন্যতম প্রধান কারণটা হল, লোকাল মার্কেটের সফটওয়্যার ডেভেলপার কোম্পানিগুলি সম্পর্কে ক্লায়েন্টের পরিষ্কার করে ধারণা না থাকা। ক্লায়েন্টরা কোম্পানির গুণগতমানসম্পন্ন সফটওয়্যার তৈরি করার সামর্থ আছে কিনা সেটা না জানা। কোম্পানির ব্যাকগ্রাউন্ড, পারফরর্মেন্স প্রোফাইল না জেনেই ডেভেলপার কোম্পানির সাথে একটা সফটওয়্যার সল্যুশন তৈরির বিষয় ডিল করে থাকে। যখনই এভাবে কাজটা শুরু করা হয় তখনই একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে সেটা ফ্লপ হয়। আর তখন ওই ক্লায়েন্টের দেশে তৈরি সফটওয়্যার সল্যুশন বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। আর ওই ক্লায়েন্ট বিদেশ থেকে সফটওয়্যার কিনে এনে তার প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে।


আরেকটি বিষয় হল, ক্লায়েন্ট যখন ডেভেলপার কোম্পানিকে একটা সফটওয়্যার সল্যুশন তৈরি করার জন্য চুক্তি করে, তখন নিজেই ভালো মতো জানেন না যে, তিনি কি ধরনের কাজ করাতে চাইছেন। ওই সফটওয়্যারটিতে কি কি ফিচার থাকবে। কি ধরনের সেবা দিবে। মোট কথা তার ব্যবসার ধরণ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নাই। অন্যদিকে, ডেভেলপার কোম্পানিও তো জানে না যে ওই ক্লায়েন্টের বিজনেস প্রসেসটা কী হবে। একদিকে ক্লায়েন্ট ডেভেলপার কোম্পানিকে বোঝাতে পারে না যে, সে কী ধরনের কাজ করাতে চান। অন্যদিকে প্রোগ্রামাররাও ভাল করে বুঝে উঠতে পারে না তারা কী সফটওয়্যার সল্যুশন তৈরি করে দিবে। এমন পরিস্থিতিতে ‍ওই কোম্পানির প্রোগ্রামাররা সফটওয়্যার সুল্যুশন তৈরি করে দেয়। পরে যখন ক্লায়েন্ট সফটওয়্যারটি নিয়ে কোম্পানিতে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে, তখন এক বা দুই বছর পর পড়ে নানান বিপাকে। যখন ওই ক্লায়েন্ট দেখে যে, তার ব্যবসায় কোন আউটপুট আসছে না, তখন দোষ দেয়া হয় দেশীয় সফটওয়্যারটির টেকনোলজি ভাল না।


আমি বলতে চাই, এ জায়গাটাতে দুই পক্ষেরই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমাদের যেসব সফটওয়্যার ডেভেলপার কোম্পানিগুলি সল্যুশন তৈরি করছে, এটা যেমন তাদের দায় আছে, ঠিক তেমনি সমানভাবে দায় আছে যারা লোকাল মার্কেটে সফটওয়্যার সল্যুশনগুলি কিনছে। যখন দুই জায়গার স্কিলড মানুষের সংখ্যাটা বেশি হবে, তখন ইন্ডাস্ট্রিতে ভালো ও গুণগতমানসম্পন্ন সফটওয়্যার সল্যুশন তৈরি হবে। আর ভালো প্রোডাক্ট তৈরি হলে ভালো মানের সার্ভিস পাওয়া সম্ভব হবে। তখন লোকাল মার্কেটে তৈরি সফটওয়্যার সল্যুশনগুলি সেভাবে মূল্যায়নও করা হবে।



বিবার্তা: তাহলে এখন আমাদের করণীয় কী হতে পারে?


মো. সামিউল ইসলাম: আমদের প্রথাগত একটা ধারণা আছে বিদেশি সফটওয়্যার সল্যুশনগুলি গুণে ও মানে ভালো। সিকিউরিটি সিস্টেম ভালো। এ সফটওয়্যার ব্যবহার করলে আমার কোম্পানি সিকিউর থাকবে। সব ঠিকঠাক মতো পারিচালিত হবে। কোন সমস্যা হবে না।


এই ধারণা থেকে আমাদের দেশীয় ক্লায়েন্টদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের দেশেও অনেক সফটওয়্যার ডেভেলপার কোম্পানি বিশ্বমানের সফটওয়্যার সল্যুশন তৈরি করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেসব সফটওয়্যার সার্ভিস দিচ্ছে সফলতার সাথে। অনেক সুনামও কুড়িয়েছে। এ বিষয়গুলি বেশি করে প্রচার ও প্রকাশ করা সময়ের দাবি। যাতে করে দেশীয় বড় বড় কোম্পানিগুলি জানতে পারে যে আমরাও বিশ্বমানের সফটওয়্যার তৈরি করতে পারি। এর জন্য প্রয়োজন লোকাল মার্কেটে বছরে দুই বা তিনটা করে প্রদর্শনীর আয়োজন করা।


নতুন নতুন সল্যুশনগুলি নিয়ে সেমিনারে প্রেজেন্টেশন করা, ব্র্যান্ডিং করা, মার্কেটিং করা, তাহলে ভাল প্রোডাক্ট সম্পর্কে ক্লায়েন্টদের ধারণা পাবে। আমি বিশ্বাস করি, কোন কোম্পানি যদি দেশীয় প্রযুক্তিতে গুণগতমানসম্পন্ন সফটওয়্যার তৈরি করে এবং সেটা যে আসলেই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সার্ভিস দিতে সক্ষম প্রমাণ করে, তাহলে দেশের বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির মালিকরা তাদের চাহিদা মতো দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সফটওয়্যার কিনবে।


বিবার্তা: সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি বিকাশে কোন দিকে বিশেষ নজর দেয়া জরুরি বলে মনে করেন?


মো. সামিউল ইসলাম: আমাদের দেশে অনেক মেধাবি তরুণ রয়েছে। প্রতি বছরই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক ঝাঁক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও মেধাবি তরুণ বের হচ্ছে। কিন্তু তারা সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে এসে পাঁচ বছর তেমন বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে না। তাদেরকে আবার বিভিন্ন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে বিশেষ ট্রেনিং নিয়ে স্কিলড হয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করতে হয়। এরপরও ভালো মানের প্রোগ্রামার তৈরি হচ্ছে না। এর কারণ হল, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যুগের চাহিদা মতো ও সময়োপযোগী সিলেবাসের অভাব। এখন আমরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে আছি। বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে এবং প্রযুক্তি যুদ্ধ করতে যেসব বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করা সময়ের দাবি বিশেষ করে প্রোগ্রামিং, সমস্যার কি সলিউশন চলছে সেগুলো সিলেবাসে যুক্ত করতে হবে।


আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, টেকসই দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা করতে পারলে ইন্ডাস্ট্রি বিকাশে আরও ভাল ফল পাওয়া সম্ভব। যেমন, আমাদের একদম রুট লেভেল থেকে কাজ শুরু করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়েগুলিকে টার্গেট করে ১০ বছর মেয়াদি একটা মাস্টার প্ল্যান করতে হবে। যে স্টুডেন্টটা এখন ক্লাস সিক্সে পড়ছে তাকে ভবিষ্যৎ প্রোগ্রামার হিসেবে তৈরি করার জন্য এখান থেকেই কোডিং পড়ানো, শেখানো শুরু করতে হবে। তাহলে এই স্টুডেন্ট নিজেকে প্রোগ্রামার হিসেবেই নিজেকে মানসিকভাবে তৈরি করে নিতে পারবে। একজন ভাল মানের প্রোগ্রামারের সময়োপযোগী শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দা থেকে বের হয়ে ভালমানের প্রোডাক্ট তৈরি করতে সক্ষম হবে। শুধু তখনই তাদের কাছ থেকে ভাল ও সেরা মানসম্পন্ন প্রোডাক্ট বের হয়ে আসবে। যখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাল মানের প্রোগ্রামারের তৈরি হয়ে আসবে, তখন সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি বিকাশে তারা অবদান রাখতে পারবে। আজকের প্রোগ্রামারই আগামী দিনের সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির কাণ্ডারি।


বিবার্তা: ভবিষ্যতে কেমন সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি দেখতে চান?


মো. সামিউল ইসলাম: আমি মনে করি, আগামী ১০ বছর পর আমরা সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিটাকে কোথায় ও কীভাবে দেখতে চাই সে বিষয়ে একটা টেকসই পরিকল্পনা করা সময়ের দাবি। আমরা এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে আছি। এই যুগে সব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হবে অটোমেশন সিস্টেমে। সটফওয়্যার সল্যুশনের মাধ্যমে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সফল বাস্তবায়নে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই ইন্ডাস্ট্রিটাকে আরও এগিয়ে নিতে সাংগঠনিকভাবে টেকসই দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। সেসাথে সরকারেরও নীতিগত বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা প্রয়োজন।


আমাদের দেশে অনেক ভাল ও বিশ্বমানের সফটওয়্যার কোম্পানি আছে। এসব প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানের সফটওয়্যার তৈরি করছে। বিশ্বের বিভিন্ন বড় বড় দেশের সাথে ব্যবসা করে আসছে। আবার অনেক কোম্পানি আছে যেগুলো ভালো মানের সফটওয়্যার তৈরি করে লোকাল মার্কেটে সার্ভিস দিচ্ছে। সবাই যার যার জায়গা থেকে ব্যবসা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমার দৃষ্টিতে এই যুদ্ধটা সম্মিলিতভাবে করা গেলে ইন্ডাস্ট্রির সবাই ভালো করতে পারবে। আমার বিশ্বাস, সঠিক কর্মপরিকল্পনা সে অনুসারে বাস্তবায়ন করতে পারলে আগামীতে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির লোকাল মার্কেট বাংলাদেশকে বিশ্ব বাজারে নেতৃত্ব দিবে।


বিবার্তা/গমেজ/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com