জুমআর নামাজ না পড়লে শাস্তির বিধান
প্রকাশ : ২০ মে ২০২২, ১২:২৭
জুমআর নামাজ না পড়লে শাস্তির বিধান
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

কোরআন মজীদে আল্লাহু তায়ালা এরশাদ করেন, “হে মুমীনগণ! যখন জুমআর নামাজের জন্য আহ্বান করা হইবে, তখন তােমরা আল্লাহর জিকরের (অর্থাৎ জুমআর নামাজ পড়া ও খুতবা শ্রবণ)-এর দিকে ছুটিয়া যাও, আর ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ করিয়া দাও।” এই আয়াত দ্বারা জুমআর নামাজ আদায় করা ফরজ প্রমাণিত হয়েছে; তৎসঙ্গে ইহাও প্রমাণিত হইয়াছে যে, জুমআর আজান শােনার পরক্ষণেই বেচা-কেনা, লেন-দেন, চাষাবাদ ইত্যাদি সাংসারিক কাজ-কারবার বন্ধ করিয়া অবিলম্বে জুমআর নামাজের দিকে যাওয়া ওয়াজিব।


জুমআর নামাজযাদের উপর ফরজ—


১। বালেগের উপর জুমআর নামাজ পড়া ফরজ। না-বালেগের উপর অন্যান্য পাঞ্জেগানা নামাজ যেমন ফরজ নয়, তেমনি জুমআও ফরজ নয় ।
২। পুরুষের উপর জুমআর নামাজ ফরজ। স্ত্রীলােকের উপর নয়।
৩। মুকীম’ অর্থাৎ যে-ব্যক্তি নিজের স্থায়ী বাসস্থানে বা অন্য কোন স্থানে স্থায়ীভাবে বসবাস করিতেছে, তাহার উপর জুমআ ফরজ নয় ।
৪। যে-ব্যক্তি শারীরিক দিক হইতে মাজুর নয়, তাহার উপর জুমআ ফরজ। অন্ধ, মাতাল, বেহুশ, চলার শক্তিহীন ও রােগে কাতর ব্যক্তি ইত্যাদি মা’জুরের উপর ফরজ নয়।
৫। যে-ব্যক্তি কাহারও ক্রীতদাস নয়, তাহার উপর জুমআর নামাজ পড়া ফরজ। পরের খরীদা-গােলামের উপর জুমআ ফরজ নয় ।
৬। যে-সমস্ত ওজরের কারণে জামায়াতে উপস্থিত না হওয়ার অনুমতি রহিয়াছে, সেই সমস্ত ওজরের কোনটি যাহা নাই তাহার উপর জুমআ পড়া ফরজ।


যাদের উপর জুমআর নামাজ ফরজ নয়—


নাবালেগ বালক, স্ত্রীলােক, রূগ্ন, পাগল-মাতাল, ক্রীতদাস, মুছাফির ও মাজুর, তাহারাও জুমআর নামাজ পড়িলে দুরুস্ত হইবে । নাবালেগের উপর নামাজ ফরজ হয় না, তবুও সে জুমআর নামাজ পড়িলে ছাওয়াবের অধিকারী হইবে । মুছাফিরী হালতে জুমআর নামাজ ফরজ নয়, তবুও যে ব্যক্তি জুমআর নামাজ পড়িবে, সে জুমআর ছওয়াব লাভ করিবে এবং তাহার পুনরায় জুহর পড়িতে হইবে না ।


শাস্তির বিধান


শুক্রবার জোহরের নামাজের পরিবর্তে জুমআর নামাজকে ফরজ করা হয়েছে, যা আমাদের জন্য আল্লাহর এক অন্যতম রহমত। তাই মুসলমান হিসেবে জুমআর নামাজ পড়া অত্যন্ত জরুরি। যারা জুমআর নামাজ থেকে বিমুখ থেকে অন্য কাজকর্মে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন, আল্লাহতায়ালাও তার দিক থেকেও বিমুখ থাকেন।


জুমআর দিনের ফজিলত অনেক বেশি। আল্লাহতায়ালা জগৎ সৃষ্টির পূর্ণতা দান করেছিলেন এই দিনে। এই দিনেই হজরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-কে জান্নাতে একত্র করেছিলেন এবং এই দিনে মুসলিম উম্মাহ সাপ্তাহিক ঈদ ও ইবাদত উপলক্ষে মসজিদে একত্র হয় বলে দিনটাকে ইয়াওমুল জুমআ বা জুমার দিন বলা হয়।


রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি পরপর তিনটি জুমআ বিনা ওজরে ও ইচ্ছা করে ছেড়ে দেবে, আল্লাহতায়ালা ওই ব্যক্তির অন্তরে মোহর মেরে দেবেন। (তিরমিজি, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
আর এর পর তারা আত্মভোলা হয়ে যাবে। অতঃপর সংশোধন লাভের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়ে যাবে। (মুসলিম)।


হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি পর পর তিনটি জুমআ পরিত্যাগ করবে, সে ইসলামকে পেছনের দিকে নিক্ষেপ করল। (মুসলিম)। অপর এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, চার শ্রেণির লোক ব্যতীত জুমার নামাজ ত্যাগ করা কবিরা গোনাহ। চার শ্রেণির লোক হলো— ক্রীতদাস, স্ত্রীলোক, অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক, মুসাফির ও রোগাক্রান্ত ব্যক্তি। (আবু দাউদ)।


মহান আল্লাহতায়ালা সবাইকে প্রতি শুক্রবার জুমআর নামাজ আদায় করে ভয়াবহ শাস্তি থেকে সবাইকে হেফাজত করুন। আমিন।


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com