টাকা তুলে ঘরে রাখলে কী ধরনের বিপদ হতে পারে?
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২২, ১৩:৪৫
টাকা তুলে ঘরে রাখলে কী ধরনের বিপদ হতে পারে?
রাশেদ শাহরিয়ার পলাশ
প্রিন্ট অ-অ+

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার বলেছিলেন ২০২৩ সালে দেশে দুর্ভিক্ষ হবে। যদিও অতিসম্প্রতি তিনি বলেছেন সারাবিশ্বে দুর্ভিক্ষ হলেও বাংলাদেশে হবে না। কিন্তু মানুষের মনের আতংক কাটছে না। এর প্রভাব দেখা দিয়েছে দেশের মানি মার্কেটে। ব্যাংক থেকে মানুষ সমানে টাকা তুলছে। আবার পুঁজিবাজারে ব্যাপক দরপতন দেখা দিয়েছে। ফ্লোরপাইস দিয়েও এই পতন ঠেকানো যাচ্ছে না। আতংকিত মানুষ ব্যাপক লোকসান দিয়ে ইক্যুয়িটি বিক্রি করে দিচ্ছে।


আসুন দেখে নেই, নগদ টাকা ঘরে রাখলে কী বিপদ হতে পারে?


১. আপনার ঘরে টাকা আছে এটা সবসময় আপনাকে দুশ্চিন্তায় রাখবে। যদি আত্মীয়-স্বজন, কাজের বুয়া, ড্রাইভার এমনকি আপনার সন্তানকেও আপনার চোখে চোখে রাখতে হতে পারে।


২. এদের মধ্যে কেউ যদি জেনে যায়, আপনার ঘরে টাকা আছে, তাহলে শয়তানের চক্করে ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা আছে। আর সত্যি এটাই যে টাকা কখনো গোপন রাখা যায় না।


৩. ধরে নিন এরা সবাই ভালো, ধরে নিন দেশে একটা দুর্যোগ এলো, আর আপনার কাছে টাকা আছে, আপনি নিশ্চয়ই সে টাকা খরচ করবেন। তখন কিন্তু প্রতিবেশীরাও জানবে এবং আপনার উপর হামলা হতে পারে।


৪. বেশি টাকা তুলতে দেখলে সরকার নানান পদক্ষেপ নেয়। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক একটা সার্কুলার দিয়েছে। এরপর হয়ত আরও পদক্ষেপ নিবে। তাতেও মানুষকে নিবৃত্ত করা না গেলে টাকার নোট বাতিল করা হয়। মোদির শাসন ক্ষমতার শুরুতে ভারতে এটা আমরা হতে দেখেছি।


৫. আপনি হয়ত ভাবছেন নগদ টাকা রাখব না। খাদ্যপণ্য কিনে রাখব। দুর্ভিক্ষে খাদ্যপণ্য মজুদ রাখা মানে হলো এটম বোম ঘরে রাখা। মানুষ জানলে আপনার বাসায়-বাড়িতে হামলা হবেই। সুতরাং এই চিন্তা পরিহার করতে হবে।


১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। এটা নিশ্চিতয়তা দিয়েই বলা যায়, ২০২৩ সালে সেরকম কিছু হবে না। এখন তথ্য প্রযুক্তির যুগ। বাংলাদেশে মানুষ না খেয়ে মারা যাবে আর বিশ্ব বসে বসে তা উপভোগ করবে এমনটা হওয়ার কথা নয়। অতি সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার ঘটনায় এটা আমরা দেখেছি। সবদিক বিবেচনায় শ্রীলঙ্কার তুলনায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভালো। সুতরাং দেশকে ভালোবাসুন। দেশের মঙ্গলের জন্য, ভালোর জন্য সবকিছু করুন। ক্রাইসিস মোমেন্টে নিজের দেশপ্রেম দেখানোর উপযুক্ত সময়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাগণ সেক্রিফাইস, সাহস দেখিয়েছেন বলে আজ তাঁরা সম্মানিত। আমরা হয়ত যুদ্ধ পাব না, কিন্তু দেশের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোর তৃপ্তি কোনও কিছুর সাথে তুলনীয় নয়।


লেখক- রাশেদ শাহরিয়ার পলাশ, সম্পাদক, বাণিজ্য প্রতিদিন।


বিবার্তা/বিএম

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com