যৌন হয়রানি ও নারী নির্যাতন শব্দটি সমাজের ক্যান্সার
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২২, ১৯:৫৮
যৌন হয়রানি ও নারী নির্যাতন শব্দটি সমাজের ক্যান্সার
হাসিনা আকতার নিগার
প্রিন্ট অ-অ+

সন্তান সম্ভাবা তমি সব সময় চাইত তার ঘর আলো করবে একটা সুস্থ বাচ্চা। সে হোক ছেলে বা মেয়ে। তবে আজকাল চারদিকে মেয়েদের উপর যে হারে নির্যাতন চলছে তা দেখে তমি চিন্তা করে। ঘরে বাইরে কোথাও নিরাপত্তা নেই মেয়েদের। বয়স স্থান কাল সব কিছুকে তুচ্ছজ্ঞান করে মেয়েদের জীবনকে নরকময় করছে বিকৃত মানসিকতার কিছু মানুষ । যৌন হয়রানি আর নারী নির্যাতন শব্দটি যেন সমাজের ক্যান্সার এখন।


অথচ বর্তমান সময়ে মেয়েরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। তারা নিজেদের যোগ্যতা দিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু নিজেদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই বলে আতংকগ্রস্থ হতে হয়। এর থেকে পরিত্রানের জন্য উদ্বিগ্ন দেশ।


এ অবস্থায় নারী জীবনের নিশ্চয়তার জন্য আইন যত শক্তিশালী হোক, ব্যক্তি সমাজের পরিবর্তনটা দরকার সবার আগে । আর এ পরিবর্তনের জন্য সচেতনতাটা খুব জরুরি। সচেতনতা নেই বলে যৌন নির্যাতনের সাজা কঠিন জেনেও প্রতিনিয়ত নারী অত্যাচারীত হচ্ছে।


এর অন্তরালের কারণ মানুষের নৈতিক অবক্ষয়। ব্যক্তি দৃষ্টিতে কু-রিপুকে সংযত করার চর্চা কমছে। বলা হয় আধুনিক প্রযুক্তি মানুষকে নষ্ট করছে। বিষয়টা অত্যন্ত যুক্তিহীন। ভালো মন্দ বুঝার বিবেক বোধ যার থাকে সে পারে না ব্যভিচার করতে।


নারী পুরুষ উভয়ের শালীনতা বোধটা থাকা খুব জরুরি। শারীরিক চাহিদা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। কিন্ত সে চাহিদা মেটানোর জন্য যৌন নির্যাতনের মত বর্বরোচিত কাজ বনের পশুকে হার মানায়।


এ সূক্ষ্ম বোধগুলো জাগ্রত করতে হলে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে৷ যৌন নির্যাতনের মত জঘন্য অপরাধের সাজা মৃত্যুদণ্ড হবার পরেও থামছে না এ অপকর্ম। তার কারণ আইনী জটিলতাতে বিচার প্রলম্বিত হয়। আর এতে যৌন নির্যাতক মনে করে তার এ অন্যায় থেকে বাঁচার পথ আছে। এমন ধারণা সমাজে যে বিষ ছড়াচ্ছে তা বুঝাতে হবে। আর এর জন্য সচেতনতার কোন বিকল্প নেই।


একসময় মানুষ মেয়ে সন্তান চাইত না কুসংস্কার থেকে। আর এখন সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় মেয়ে সন্তান মানে পরিবারের জন্য সার্বক্ষণিক চিন্তা। মেধা মননে এগিয়ে যাওয়া নারীকে এখনো ভোগ্যপণ্য হিসাবে একটি দেহ হিসাবে চিন্তা করার মানসিকতা বদলাতে পারিনি এ সমাজ ।


তাই তমির মত অনাগত সন্তানের মায়েরা শংকিত হয় আগামী দিনের ভাবনাতে। কিন্তু বর্তমানের সমাজে নারীকে সম্মান দিতে পারার মানসিকতা তৈরি হলে পরিবর্তন আসবে। আর সে জন্য যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে সাময়িকভাবে সোচ্চার হয়, থেমে গেলে চলবে না। নারীর প্রতি অমানবিক নির্যাতনের প্রতিরোধ করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের মুখ্য দায়িত্ব সচেতনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা। কেবল আইন দিয়ে এ অমানবিক নির্যাতনের মত জঘন্য অপরাধকে দমন করা সম্ভব নয়। তাই সচেতনতাই মুখ্য ভুমিকা পালন করতে পারে যৌন নির্যাতন শব্দটি মুছে দিয়ে নারীকে নিরাপদ জীবন দিতে।


একজন বিবেকবান পুরুষ যদি উপলদ্ধি করতে পারে তার পুরুষ সহকর্মী কিংবা বন্ধুটি নারীর প্রতি অন্যায় করছে; তাকেও এর প্রতিবাদ করতে হবে। নীরব সর্মথন বা না জানার ভান করে থাকাটাও অন্যায় । আর এ কাজটি করতে হলে নিজেকে সচেতন হতে হবে। চাকরির তোষামোদী, ভয় লজ্জা, অপমান হবার চিন্তা থেকে মুক্ত হলেই সম্ভব হবে নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা। আর এর ফলে নারী তার কর্মক্ষেত্রে পাবে নিশ্চিত পরিবেশ।


নিজের আত্মসম্মান বোধের আড়ালে নারীর ও নির্যাতনের নীরব যন্ত্রণা সহ্য করাটা মারাত্মক ভুল। সে হোক ঘরে বা বাইরে। নারীদের ভুলে গেলে চলবে না এ লড়াইটা তাদের নিজের। তাই নারীদেরকেই একজোট হয়ে মত বিনিময় করতে হবে। নিজেদের তথ্য গোপন না করে পরস্পরকে জানাতে হবে। সচেতন হতে হবে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে। তবেই সমাজ থেকে দূর হবে যৌন হয়রানি ও নারী নির্যাতন নামক এ ক্যান্সার শব্দটি।


হাসিনা আকতার নিগার
লেখক- কলাম লেখক


বিবার্তা/জেএইচ


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com