‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন আজ’
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩:৩০
‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন আজ’
কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি
প্রিন্ট অ-অ+

আমাদের আপা শেখ হাসিনা। পর্বতসম দুঃখ-কষ্ট বুকে নিয়ে পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে হাজার বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিনিক্স পাখির মতো বার বার ফিরে এসে তার নেতৃত্বগুণে বাংলাদেশকে আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন পৃথিবীর বুকে। বিরোধী পক্ষও স্বীকার করতে বাধ্য হন দেশে শেখ হাসিনার বিকল্প কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নেই। তিনি সবার আস্থা ও ভরসার জায়গা। আজ এই ভিশনারি নেত্রীর ৭৬তম জন্মদিন।


১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পূণ্যভূমি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেষ্ঠ্য সন্তান তিনি। শিক্ষাজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি অংশগ্রহণ করেন অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতোই। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ৪ বার দেশের প্রধানমন্ত্রী ও ৩ বার বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন। একমাত্র তিনিই পরপর ৩ বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সাল থেকে ৪১ বছরের বেশি সময় সফলতার সাথে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে অনেক অর্জন রয়েছে তার। এর পাশাপাশি তাকে ১৯ বার হত্যা চেষ্টাও করা হয়। তাতেও থেমে যাননি তিনি। তার ভিশনারি নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। দেশের যে কোনো উত্তাল পরিস্থিতি বিচক্ষণতার সাথে মোকাবিলা করেছেন। বিএনপি জামায়াতের সব ষড়যন্ত্র তিনি নিষ্ফল করেছেন।


তার সফলতার পথ এতো সহজ ছিলো না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা প্রবাস জীবন কাটান ৬ বছর। এই ৬ বছরে তিনি জীবনের অনেক চড়াই-উৎরাই দেখেছেন। অনিশ্চয়তায় দিন কেটেছে ছোট বোনকে নিয়ে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন। প্রথমে জিয়া সরকার তাকে দেশে ঢোকার অনুমতি দেয়নি। পরবর্তীতে জনগণের চাপে তৎকালীন সরকার বাধ্য হয় শেখ হাসিনাকে দেশে ঢুকতে দিতে। এসেই শুরু করেন দল সংগঠিত করার কাজ। এরপর শুরু হয় সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন। বার বার হত্যাচেষ্টা হতে থাকে। কিন্তু থেমে যাওয়ার মানুষ নন তিনি। তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা। দীর্ঘ ১০ বছরের আন্দোলন শেষে সামরিক সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতি চর্চা শুরু হয়। সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হলেও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হন। দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।


ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের দাবি ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার’ বিচারকার্য শুরু করেন তিনি। তিনি সেটি শেষ করতে পারেননি তখন। ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বলি হয়ে নির্বাচনে পরাজিত হন তিনি। শুরু হয় বাংলাদেশে মধ্যযুগ। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট মধ্যযুগীয় কায়দায় দেশ পরিচালনা শুরু করে। জুলুম-নির্যাতন-হামলা-মামলা চলতে থাকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর। দিনের আলোতে গুলি করে হত্যা করা হয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন সংসদ সদস্যকে। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বেধড়ক পেটানো হয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় নেতাদের। শুধু তাই নয়, দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনে করা হতো আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। তাই নির্বাচনে জয় লাভের পরেই বিএনপি-জামায়াত জোট বিভিন্ন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে আগুন দেয়। অনেক নারীকে ধর্ষণ করে। সর্বোপরি দেশ ছাড়া করে। দেশ তখন মধ্যযুগীয় কায়দায় পরিচালিত হতো। সংসদ ভবন নয়, দেশ চলতো খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের হাওয়া ভবন থেকে। সেখান থেকেই নির্দেশ দেয়া হয় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার। রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় জঙ্গি মুফতি হান্নান আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালায় বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যার উদ্দেশ্যে। তখন জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক ছিলো স্বয়ং রাষ্ট্রযন্ত্র। সেখান থেকে আন্দোলনের পরিক্রমায় দেশে ১/১১ সরকার আসে। তারা শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে নির্বাসিত করতে চায়। দেশের জনগণের আন্দোলনের ফলে সেই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয় এবং নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ্যতা অর্জন করে।



ক্ষমতায় এসেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ হাতে নেন তিনি। জঙ্গিবাদের ছায়া থেকে দেশকে বের করে আনেন। টেকনোলজিক্যালি দেশের মানুষকে অ্যাডভান্স করতে কাজ শুরু করেন। আর শুরু হয় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাধা আসতে শুরু করে। কিন্তু দেশের মানুষকে দেয়া কথা তিনি রাখেন। বিচার হয়। কয়েকজনের ফাঁসি হয়। এখনো কয়েকজন বিদেশের মাটিতে পালিয়ে আছে। তিনি দেশের মানুষকে ওয়াদা করেছিলেন ক্ষমতায় আসলে ১৯৭১ সালের দেশবিরোধী রাজাকারদের বিচার করবেন। সেই রাজাকারদের গাড়িতে বিএনপি দেশের পতাকা তুলে দেয়ার মতো গর্হিত কাজ করেছিলো, তাদের বিচারের মাধ্যমে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন তিনি।



রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কূটনৈতিক দক্ষতায় তিনি পৃথিবীর সফল রাষ্ট্রনায়কদের একজন। দেশের জন্য তিনি বয়ে এনেছেন অনেক সাফল্য। তার ইচ্ছাশক্তির জোরেই আজ আমরা পদ্মাসেতু করতে সফল হয়েছি। নিজের অর্থে পদ্মাসেতু করতে পারবে না বলে তখন দেশের ভেতরের ও বাইরের শত্রুরা উল্লাস করেছিলো। তখন শুধুমাত্র শেখ হাসিনাই বিশ্বাস কররেন তিনি পারবেন, বাংলাদেশ পারবে। তিনি করে দেখিয়েছেন। আজ বাংলাদেশ নিজে স্যাটেলাইটের মালিক। কর্ণফুলি টানেল, মেট্রোরেলসহ অনেক বড় বড় প্রজেক্ট তিনি সফলতার সাথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অবকাঠামোগত যে উন্নয়ন গত ১৪ বছরে তিনি দেখিয়েছেন তা কল্পনাতীত।


দেশের দারিদ্র‍্য দূরীকরণে তিনি অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। করোনার আঘাতে যখন পৃথিবীর অর্থনীতি নিম্নমুখী তিনি তার বিচক্ষণ নেতৃত্বগুণে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন। তিনি বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বনির্ভর করে গড়ে তুলেছেন। নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, আইসিটি এবং এমএমই খাতে বাংলাদেশ আজ অনুকরণীয়। এসবই সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। রোহিঙ্গা ইস্যু, করোনা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ এসব ক্ষেত্রে তিনি যে রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন তা অসাধারণ।


জীবনের সবকিছু ত্যাগ করে পিতার পথ অনুসরণ করে শুধু দেশের জনগণের জন্যই করে গেলেন চিরকাল। বিনিময়ে চাইলেন শুধু দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। এই মানুষটি আমাদের আপা হয়ে বেঁচে থাকুক কয়েকশত বছর। তার হাত ধরেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বহুদূর। তার জন্মদিনে স্রষ্টার কাছে আমাদের প্রার্থনা ‘তিনি সুস্থ থাকুক, ভালো থাকুক। দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাক আরো অনেক দিন।’


জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু। জয় শেখ হাসিনা।


লেখক: সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ যুব মহিলালীগ


বিবার্তা/কেআর

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com